বেসরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল নিয়ে মমতার কঠোর বার্তা

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার
কখনও চিকিৎসায় গাফিলতি, কখনও আবার অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ। বহুদিন ধরেই বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এমনকি বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আসা রোগীরাও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছেন। বুধবার কলকাতার টাউন হলে কলকাতার ৪৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও নাসির্ংহোমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সব অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে রোগী পাঠানো বন্ধ করার মত অনুযোগও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেসরকারি হাসাপাতালের লাগাম ছাড়া বিল ও চিকিৎসা পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে।  একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে রাজ্য সরকার তৈরি করবে ‘হেলথ রেগুলেটরি কমিশন’। এই কমিশনের কাজ হবে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নজরদারি করা। এই কমিশন গঠনের জন্য আগামী অধিবেশনেই বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এদিনের বৈঠকের শুরুতেই মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় বলেছেন, ভিন দেশের বহু মানুষ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন, তারাও ভুক্তভোগী হয়েছেন। মানুষের চিকিৎসা করা একটা সেবামূলক কাজ। তাই চিকিৎসাক্ষেত্রকে মানবিকতার চোখে দেখতে হবে।  বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, পরিষেবা সহজ, সরল ও সুলভে দিতে হবে। ১০০ শতাংশ লাভ করব এই মনোভাব থাকলে চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বচ্ছতার অভাব, সমন্বয়ের অভাব, অহেতুক বিল বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচসাপেক্ষ পরীক্ষার সুপারিশ, দরকার না থাকলেও আইসিইউ, ভেন্টিলেশনে রাখা ,একই ওষুধ বার বার দেওয়া, ‘কেস সামারি’ রোগীকে না দেওয়ার অভিযোগ, বিল না মেটালে দেহ আটকে রাখার অভিযোগ তো আছেই, তেমনই আছে সরকারের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালগুলির আসতে না চাওয়ার অভিযোগ এবং নোট বাতিলের সময় অনেক বেসরকারি হাসপাতাল চেকে টাকা না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিন নাম ধরে ধরে মুখ্যমন্ত্রী প্রকৃতপক্ষে এসবের কৈফিয়ৎও চেয়েছেন। চিকিৎসকদেরও মমতা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসকরা যে কমিশন নেন, তা কারও আর জানতে বাকি নেই।  এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিযেছেন, এখন থেকে ই-প্রেসক্রিপশন ও ই- মেডিকেল রেকর্ডস রাখা বাধ্যতামূলক হবে। আগে পয়সা নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা বাতিল করে চিকিৎসার পর পয়সা নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিরা সাফাই দেবার চেষ্টা করলেও মুখ্যমন্ত্রী তা মানতে চান নি। কলকাতায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ অ্যাপোলো ও রুবি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বলে তিনি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৯৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৩টি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ও ৭০টিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন