খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের দুয়ার খুললো

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৪
খেলাকে পেশা হিসেবে নেয়ায় দেশে অনেক উদীয়মান খেলোয়াড়ের পড়াশোনা হয়নি। আবার অনেকেই পড়াশোনা করে খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, কিন্তু একাডেমিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা হয়ে উঠেনি। তরুণদের বিরাট একটা অংশ এখন খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে সে সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার পালা শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের স্পোর্টস ডিগ্রি চালু করেছে ইউকের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি এবং এডেক্সেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএসি ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টার। এডেক্সেল ইউকের যে ডিগ্রিগুলো বিএসি চালু করেছে তা হলো এসএসসি বা ও’লেভেল সমমানের ফার্স্ট ডিপ্লোমা (এফডি), এইচএসসি বা এ’লেভেল সমমানের ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এনডি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ সমমানের হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এইচএনডি)। এইচএনডি সম্পন্ন করার পর একজন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে ইউকের ডার্বি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্পোর্টসে বিএসসি অনার্স ডিগ্রি করতে পারবে অথবা ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ইউকেসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া সংক্রান্ত বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে পারবে। এই বিষয়ে আরো বিশেষজ্ঞ হতে চাইলে তিনি মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করতে পারবেন। এ ডিগ্রিগুলো বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। পেশাদার খেলোয়াড় ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তারাও এ ডিগ্রিগুলো করতে পারেন। বিদেশে ভর্তি ও স্কলারশিপ পেতে এ ডিগ্রিগুলো সহায়ক হবে। স্পোর্টস ডিগ্রিগুলো সাধারণত একটি করে ইউনিট (সাবজেক্ট) নিয়ে ২ থেকে ৫ বছর সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়। মূল্যায়ন পদ্ধতিও কেবল পরীক্ষা নির্ভর নয়। বিষয়ের বাস্তবতা এবং পেশাদার খেলোয়াড়দের ব্যস্ততার পুরো বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবহারিক, মৌখিক, অ্যাসাইনমেন্টসহ অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
খেলাকে পেশা হিসেবে নেয়ার কারণে দেশের সব জাতীয় খেলোয়াড়রা পড়ালেখা করতে পারছে না, তেমনি যারা খেলাধুলায় আসতে চায় তাদের বাবা-মা খেলাধুলার কারণে পড়ালেখার ক্ষতি হবে এমন ভেবে খেলাধুলায় নিরুৎসাহিত করেন। এর কারণে দেশে যেমন সুশিক্ষিত ক্রীড়া প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে না, তেমনি নতুন খেলোয়াড় পাওয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হয় যে, দেশে ক্রীড়া বিষয়ক পড়াশোনার প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা এবং খেলোয়াড় সহায়ক কারিকুলাম না থাকা। বিকেএসপি দীর্ঘদিন থেকে দেশে ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরনের খেলাধুলায় খেলোয়াড় সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো ক্রীড়াবিজ্ঞান ও ক্রীড়া-ব্যবস্থাপনায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ আমাদের দেশে ছিল না। আবার দেশের পেশাদার খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা কোনো রকম পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে একাডেমিক শিডিউল মেনে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিএসি স্পোর্টস ডিগ্রিগুলো ডিজাইন করেছে। যেকোনো খেলোয়াড়ই চায় খেলাধুলা বিষয়ে পড়ালেখা করতে। কারণ এ বিষয়টিকে সে সবচেয়ে ভালোবাসে কিন্তু বাংলাদেশে সে সুযোগ নেই। এ কারণে খেলোয়াড়রা অন্য কোনো বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য ভর্তি হলেও ভালো না লাগায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিএসি যে স্পোর্টস ডিগ্রিগুলো চালু করছে তার প্রায় সব  বিষয়/ইউনিট খেলাধুলা সংক্রান্ত; যেমন- ফিটনেস টেস্টিং অ্যান্ড ট্রেনিং, স্কিলস অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাওয়ারনেস ফর স্পোর্ট, সাইকোলজি ফর স্পোর্টস পারফরমেন্স, নিউট্রিশন ফর স্পোর্টস পারফরমেন্স, ডেভেলপমেন্ট অব পারসোনাল ফিটনেস ও স্পোর্টস কোচিং ইত্যাদি।
বিএসি হেড অব অপারেশনস ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার দিপু রায় চৌধুরী জানান, এডেক্সেল ইউকের এ ডিগ্রিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং এ ডিগ্রিগুলোর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এগুলো ব্যবহারিক ডিগ্রি, এখানে লিখিত পরীক্ষার অংশ কম। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে প্র্যাকটিক্যাল, মৌখিক পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে। এ ডিগ্রিগুলো খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক সেমিস্টারে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে হয় কিন্তু এ ডিগ্রিগুলোতে এরকম হবে না। তিনি আরো জানান যে, দেশ বরেণ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং কোচদের নিয়ে বিএসির টিচিং টিম তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ওমর খালেদ রুমি, সেলিম শাহেদ, এহসানুল হক (সেজান), বিকেএসপির সাবেক হেড কোচ এবং জাতীয় অ্যাথলেট নজরুল ইসলাম রুমি, সাবেক জাতীয় টেনিস প্লেয়ার ও কোচ খালেদ আহমেদ, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ এ, কে,এম, মারুফুল হক, ধারাভাষ্যকার ও মিডিয়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ডা. অনুপম চৌধুরী, ডা. সাকিল আহম্মদ এবং বিসিবির প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশিষ চৌধুরী।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মিজানু রহমান

২০১৭-০২-১৯ ১০:৫৩:১৬

আছা আমি কি আপনাদের সাথে কথা বলতে পাড়ি কি

আপনার মতামত দিন