সিলেটে আলোচনায় শামীম-হাসু

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৫
সিলেটে আলোচনায় ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও দিনার খান হাসু। তারা দুইজন নগরীর দুটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। একাধিকবার তারা নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করলে শুরু হয় আলোচনা। বিষয়টিকে  ভিন্নভাবে দেখছেন আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলররাও। আর বিএনপির পক্ষ থেকে সেটিকে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে-সাময়িক বরখাস্ত  হওয়া দুই কাউন্সিলরই জানিয়েছেন- তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনিভাবেই তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন। ফরহাদ চৌধুরী শামীম সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতা। তিনি একাধিকবার সিলেট নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। গেলো নির্বাচনেও তিনি ওই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন। দিনার খান হাসু ১৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। গত মঙ্গলবার তাদের বরখাস্ত করা প্রজ্ঞাপন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সিলেটে এসে পৌঁছায়। তবে কী কারণে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে সেটি জানাতে পারেনি সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেছেন- ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে তবে কি কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে সেটি তার জানা নেই’। এদিকে, কাউন্সিলর শামীম ও হাসুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। সমপ্রতি নাশকতাসহ এসব মামলায় তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আদালত চার্জশিট আমলে নেয়ায় তাদের সদস্যপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন- ‘আমি রাজনীতি করি। আমার বিরুদ্ধে মামলা থাকাটাই স্বাভাবিক। যেহেতু, আমার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী সরকার। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও সরকারের। এর জন্য আমাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আমি উচ্চ আদালতে এর বিরুদ্ধে আপিল করব’। একই বক্তব্য কাউন্সিলর দিনার খান হাসুরও। শামীম মহানগর বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ পদে ও হাসু ছিলেন সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক। এদিকে- শামীম ও হাসু সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি ভালভাবে নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগ পন্থি কাউন্সিলররাও। তারা গতকাল জানিয়েছেন- এটা ট্র্যাডিশন হলে সব সরকারের শাসনের সময় কাউন্সিলররা মামলায় জড়িয়ে পড়বেন এবং পদ হারাবেন। এতে করে তৃণমূলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়- সিলেটের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসুকে স্বপদে বহাল দেখতে চায় জেলা ও মহানগর বিএনপি। তাদেরকে কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের নিন্দা ও প্রতিবাদও জানানো হয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনকে জনপ্রতিনিধিশূন্য করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘বিনা ভোটে নির্বাচিত অবৈধ সরকার জনতার ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভয় পায়। তাই তারা আদর্শিক মোকাবিলায় ব্যর্থ হলেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে। দুই কাউন্সিলরের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে বিএনপি সমর্থিত জননন্দিত কাউন্সিলারকে বরখাস্থ করা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা এক বিবৃতিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, মহানগর বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম এবং সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিনার খান হাসুকে সাময়িক বরখাস্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও  সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হলেও  শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় দুইজন কাউন্সিলর।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন