ভারতকে সমর্থন না দেয়ায় বাংলাদেশের ওপর চটলেন শাস্ত্রী

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার
 আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) ‘তিন মোড়ল তত্ত’¡ থেকে সমর্থন তুলে নেয়ায় বাংলাদেশের ওপর চটলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক রবি শাস্ত্রী। ২০১৪ সালে আইসিসি’র তখনকার ভারতীয় সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের যুগে চালু হয় ‘বিগ-থ্রি’র শাসন। আইসিসি’র লভ্যাংশের অধিকাংশ চলে যেগে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের পকেটে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ পেতো ভারত ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। আইসিসি’র আয়ের ২০ শতাংশ একাই পেতো তারা। তখন আইসিসি’র প্রায় সব সদস্য দেশ ‘বিগ থ্রি’ তত্ত্বকে সমর্থন জানায়।
নিজেরা আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে জেনেও অনেক ছোট বোর্ড বাধ্য হয়ে বিষয়টি মেনে নেয়। কিন্তু সময় এখন পাল্টে। আইসিসি’র বর্তমান সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর ‘তিন মোড়ল তত্ত্ব’ উঠিয়ে দেয়ার পথে এগিয়ে গেছেন। ভারতীয় মনোহর মনে করেন, বিগ-থ্রি তত্ত্বের কারণে ছোট দেশগুলো বঞ্চিত হয়। আইসিসি’র সদস্য সব দেশ সমানভাবে লভ্যাংশ পাওয়ার পক্ষে তিনি। এখন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে আইসিসি বনাম বিসিসিআই। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের সাবেক কোচ বরি শাস্ত্রী বলেন, ‘ভাল একটা প্রশ্ন করলেন। এটা অনেক জরুরি বিষয়। আইসিসি বলছে, সব দেশ নাকি সমান লভ্যাংশ পাবে। আমার পাল্টা প্রশ্ন, কেন বাবা? এর মধ্যে কোনও বিগ থ্রি, লিট্ল থ্রি’র ব্যাপারই নেই। আইসিসি’র ঘরে আশি শতাংশ টাকা ঢুকছে ভারতীয় ক্রিকেটের দয়ায়। শাইলকের মতো এসে তারা তো মেপে মেপে মাংসপি- কেটে নিতে চাইছে না। বলছে না, এমনি এমনি কুড়ি শতাংশ লভ্যাংশ চাই।’ তিন মোড়ল তত্ত্ব বাদ দেয়ার ব্যাপারে আইসিসি’র বর্তমান পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশসহ সংস্থাটির পূর্ণ সদস্য প্রায় সব দেশে। বিগ থ্রি তত্ত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে ভারতের পাশে শুধু শ্রীলঙ্কা। এক্ষেত্রে ছোট দেশ জিম্বাবুয়ের সমর্থনও পায়নি ভারত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ রবি শাস্ত্রী। বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ছাড়া আর কোনো দেশ ভারতের পাশে দাঁড়াল না দেখে আমি বিস্মিত। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ কী করে ভারতের বিরুদ্ধে গেল? ওদের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত অগ্রগতিটাই তো ভারতের হাত ধরে। কত বার ওদের অনুরোধে আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে এসেছি। একই কাজ করল জিম্বাবুয়েও। এই সেদিনও ভারতীয় দল গিয়ে ওয়ানডে খেলে এল ওদের দেশে। ধোনিও সেই সফরে গিয়েছিল।’
ভারতকে ক্রিকেটে সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসের সঙ্গে তুলনা করে শাস্ত্রী বলেন, ‘আইসিসি’র কেউ কি ঈশপের গল্পটা পড়েনি? যাক, আমিই তা হলে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ভারতীয় ক্রিকেট হল সোনার ডিম পাড়তে থাকা রাজহাঁস। ওই সোনার ডিম দিয়েই তো তোমাদের চলছে। কোষাগার ভরছে। আর সেটাকেই কি না তোমরা কাটতে আসছ! কী আবদার! জিম্বাবুয়ে যা টাকা পাবে, আমাকেও তাই নিতে হবে। শোনো আইসিসি, রাজহাঁস কেটে ফেললে তোমাদের সোনার ডিমও যে বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা ভেবে দেখেছ? তখন তো ক্রিকেটবিশ্বই আক্রান্ত হবে।’ তাদের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে হুশিয়ার করে দিলেন শাস্ত্রী। বলেন, ‘তারা যেন ভুল করেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ডামাডোল থেকে ফায়দা তোলার চেষ্টা না করে। কারণ, খুব শিগগিরই এই সংকট কাটিয়ে স্বমহিমায় ফিরবে বিসিসিআই। ভারত ছাড়া আগামী দিনে কিন্তু আইসিসি এক পাও এগোতে পারবে না। কারণ, আইসিসি’র টুর্নামেন্টের আশি শতাংশ জোগান দেয় ভারত। তাই ভারতকে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে চরম সংকটে পড়তে পারে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের।’

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘চীন ও রাশিয়ার অবস্থান আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়েছে’

ভোলায় যাত্রীবাহি বাস খাদে, নিহত ১

হলিউডে যৌন নির্যাতন ও একটি হ্যাসট্যাগ

আমাজন স্টুডিওর প্রধান কর্মকর্তার পদত্যাগ

চট্টগ্রামে মহাসড়কের পাশে নারীর লাশ

চট্টগ্রামে হোটেলে জুয়ার আসর, ব্যবস্থাপকসহ আটক ৬২

‘আওয়ামী লীগ ইসিকে স্বাধীনতা প্রদান করেছে’

বাংলাদেশেও সেখানকার মতো বিচার ব্যবস্থা দেখতে চান

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে আহত দুই পুলিশ

‘দর্শকরা একজন শিল্পীর কাছে সব সময় ব্যতিক্রমী কিছু দেখতে চায়’

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

বিতর্কে নয়া রসদ

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’