কিম জং-ন্যাম হত্যাকাণ্ড

তৃতীয় সন্দেহভাজন আটক মালয়েশিয়ায়

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৫
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎ ভাই কিম জং-ন্যাম হত্যাকাণ্ডে তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। এর আগে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত উত্তর কোরীয় কূটনীতিকরা কিম জং-ন্যামের লাশ ময়নাতদন্তের সময় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। মালয়েশিয়ার পুলিশ বলেছে, বুধবার ও বৃহসপতিবার দুই নারী সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হন এক মালয়েশিয়ান পুরুষ। এ খবর দিয়েছে স্কাই নিউজ। খবরে বলা হয়, আটককৃত দুই নারীকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়।
এখানেই কিম জং-ন্যাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সোমবার। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই নারী হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। তারা এক্ষেত্রে বিষাক্ত সুঁচ, সেপ্র বা কাপড় ব্যবহার করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীই এই হত্যাকাণ্ডের আদেশ দিয়েছে। আটককৃত মালয়েশিয়ান পুরুষের বয়স ২৬ বছর। মুহাম্মাদ ফরিদ বিন জালালুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি আটক দুই নারীর একজনের বয়ফ্রেন্ড ভাবা হচ্ছে। তিনি তদন্তে সহায়তা করছেন। তার দেয়া তথ্যেই ২৫ বছর বয়সী সিতি আইশাহ নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি ইন্দোনেশিয়ার ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট বহন করছেন। আটককৃত আরেক নারী সন্দেহভাজন ব্যবহার করছেন ভিয়েতনামের নথিপত্র। তিনি দোয়ান থাই হুওং (২৮) নাম ব্যবহার করছেন। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক সন্দেহভাজন একটি জ্যাকেট পরিধান করেছিলেন, যেটাতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘এলওএল’। হামলার পরপরই এক ট্যাক্সিতে করে তিনি পালিয়ে যান।
এদিকে কিম জং-ন্যামের ময়নাতদন্ত চলাকালে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন মালয়েশিয়া নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সহ আরো অনেক কূটনীতিক। তারা কিম জং-ন্যামের লাশ হস্তান্তরের দাবি জানান। কিন্তু মালয়েশিয়ান কর্মকর্তারা এতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে কূটনীতিক গাড়ির বহর খালি হাতে ফিরে যায়। মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এখন বলছেন যে, ওই লাশ ফেরত দেয়া হবে। তবে কিছু প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে। ময়নাতদন্তের ফলাফল এখনো জানানো হয়নি।
খবরে বলা হয়, কিম জং-ন্যাম ছিলেন উত্তর কোরিয়ার কর্তৃত্বশালী ও একবংশীয় শাসন ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে। তবে তিনি তার ছোট ভাই ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বিরুদ্ধে কোনো প্রচারাভিযানে নামেননি। উত্তর কোরিয়ার পক্ষত্যাগের ঘোষণাও দেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা প্রধানদের বিশ্বাস, তার হত্যাকাণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন খোদ কিম জং-উন। কারণ, তিনি তার এই সৎ ভাইকে হুমকি হিসেবে গণ্য করতেন। তাদের আরো ধারণা, ২০১২ সালে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানও হয়। ক্ষমতারোহণের পর ‘বিশ্বাসঘাতক’দের হত্যার নীতি গ্রহণ করেছেন কিম জং-উন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তার চাচা জেনারেল জ্যাং সং-থাএকের মৃত্যুদণ্ড। তাকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মেশিনগান চালিয়ে হত্যা করা হয়।
কিম জং-ন্যাম হলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্ম নেয়া অভিনেত্রী সং হাই-রিমের সন্তান। এই অভিনেত্রী পূর্বের শাসক দ্বিতীয় কিম জং-এর উপপত্নী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। বড় ছেলে হিসেবে তাকেই পরবর্তী শাসক ভাবা হতো। কিন্তু ২০০১ সালের মে মাসে ভুয়া পাসপোর্টে জাপানে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টার পর তিনি বাদ পড়ে যান। তার দাবি ছিল, তিনি টোকিওতে অবস্থিত ডিজনি রিসোর্ট দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এ ঘটনায় তার পিতা বেশ বিব্রত হন। পরে তার ছোটভাই কিম জং-উনকেই উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেন তিনি। ওই কেলেঙ্কারির পর কিম জং-ন্যাম ও তার পরিবার ম্যাকাউ, সিংগাপুর ও চীনে বসবাস করে আসছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

লিভারপুলকে সেভিয়ার চমক

ক্যাচ মিসের খেসারত দিলো ঢাকা

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়