রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৬
দেশের সংঘাতকবলিত রাখাইন অঙ্গরাজ্যে কথিত জঙ্গি নির্মূলাভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই অঙ্গরাজ্যে সামরিক বাহিনীর চার মাসের এই অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নির্মূলাভিযান হিসেবে পরিগণিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। খবরে বলা হয়, গত বছরের ৯ই অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পুলিশের একটি সীমান্ত চৌকিতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে ওই নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযান শুরুর পর কমপক্ষে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এই সহিংসতার ফলে নতুন করে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটিকে সুরক্ষায় তেমন কিছুই করছেন না। নোবেল বিজয়ী এই নেত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার রাখাইন অঙ্গরাজ্যে রোহিঙ্গাদের পাইকারিভাবে হত্যা ও গণহারে ধর্ষণ সহ প্রায় সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের বক্তব্য, এই অভিযান বৈধ জঙ্গিবিরোধী অভিযান।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং তুনকে উদ্ধৃত করে অং সান সূচির কার্যালয় থেকে বুধবার রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। সামরিক বাহিনী পরিচালিত নির্মূলাভিযান এখন বন্ধ করা হয়েছে। কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। সেখানে শুধু শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, থাং তুন এক বৈঠকে কূটনীতিক ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিদেরকে বলেছেন, ‘অত্যধিক মাত্রায় বলপ্রয়োগ, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক অপরাধ নিয়ে কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমরা দেখিয়েছি যে, লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
এদিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে সেনা অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ বজায় রাখতে ওই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী এখনো অবস্থান করছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে মর্মে জাতিসংঘের অভিযোগের পর সূচি ঘোষণা দিয়েছেন এসব তদন্ত করা হবে। এরপর সামরিক বাহিনী ও পুলিশ অভিযোগকৃত অপরাধ তদন্তে পৃথক দল গঠন করেছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ১ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে এই অভিযানে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সামরিক কমান্ডারদের সর্বশেষ রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে বিদ্রোহ-বিরোধী এই অভিযানে ১শ’রও কম মানুষ নিহত হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে কয়েক প্রজন্ম ধরে বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের নাগরিক অধিকার নেই। আছে কিছু সীমিত অধিকার। উত্তরাঞ্চলীয় মিয়ানমারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা পদ্ধতিগত জাতিবিদ্বেষী (অ্যাপার্থেড) এক পরিস্থিতিতে বসবাস করেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shahria

২০১৭-০২-১৭ ০২:৩২:৫২

রোহিঙ্গা নির্যাতনে সবার আগে বাংলা দেশকে সোচ্চার হওয়া দরকার কারন যদিও রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী না তবু ও তারা বাঙ্গালী পরিচয়ের জন্য নির্যাতীত, এ জন্য আমর যদি বোধ সম্পন্ন জাতি হই আমাদের ও রক্ত গরম হওয়ার কথা।

আপনার মতামত দিন

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: পলাতক ৯ আসামীর আত্মসমর্পণ

এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে জেএমবিকে মদতসহ বিস্তর অভিযোগ

নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী গ্রেপ্তার

​৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার

জেএমবির তিন সদস্যের ১৪ বছর কারাদণ্ড

শচীন যা পরেননি পৃথ্বি তা-ই পারলেন

টেকনাফে ৫ কোটি ৭০লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

‘নিজ অবস্থান থেকে আইন মানলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে’

চাল আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা

তারেকের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৩১শে ডিসেম্বর

প্লেবয় মডেল হারতে’র ‘মজা’

ইরাকে আগ্রাসনের হুমকি এরদোগানের

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে

মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

বিস্ময়কর উত্থান ঘটলেও জার্মানিতে এএফডি’র নেতা কে!