ইভিএম দুরভিসন্ধিমূলক

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২২
ই-ভোটিং ব্যবস্থা সিইসির দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ম্যাজিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী যে ই-ভোটিং ব্যবস্থার কথা বলছেন, তা নিঃসন্দেহে দুরভিসন্ধিমূলক, জনগণের ভোটকে স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে জালিয়াতি করার প্রচেষ্টা মাত্র। আমরা মনে করি এটি প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ভেল্কিবাজিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যদি গণতন্ত্র, নির্বাচন এবং মানুষের ভোটাধিকারে বিশ্বাস করতো তাহলে আজ চারদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)কে সরে যাওয়ার যে তুমুল দাবি উঠেছে, সেটিকে আমলে নিতেন। সব দলের সঙ্গে পরামর্শ করে একজন যথার্থ নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সাংবিধানিক ওই পদটিতে বসানোর জন্য প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিতেন। কিন্তু সেটি না করে প্রধানমন্ত্রী এখন জনগণের দৃষ্টিকে সিইসির দিক থেকে অন্যত্র সরানোর জন্য ই-ভোটিং ব্যবস্থার আরেকটি ম্যাজিক জনগণের সামনে প্রদর্শন করছেন। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই- প্রধানমন্ত্রীর উচ্চাভিলাষের কাছে সংগ্রামী জনগণ নিজেদেরকে সঁপে দেবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে। রিজভী বলেন, যে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদের অভিপ্রায় পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, নিজেদের ঘরের ছেলেকে সিইসি বানিয়েছেন। তারা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে, এটা কেউ বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী ই-ভোটিং করার যে কথা বলেছেন, এটি সরকারের ভোটারবিহীন নির্বাচন করার আরেকটি ডিজিটাল প্রতারণা কিনা তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ নিরক্ষর। এতো টেকনিক্যাল বিষয় উপলব্ধি করা বা বুঝা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। এই পদ্ধতিতে ই- ভোটিংয়ের সার্ভার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সুতরাং তাদের জন্য ভোট কারচুপি করা খুবই সহজ হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও যারা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের নিয়ম চালু করেছিল, এই ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় তারাও সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ ই-ভোটিং পদ্ধতি চালু করলেও এটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা ইভিএম চালুর প্রস্তাব করেছিলেন। তখন বুয়েটসহ কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং প্রায় সব রাজনৈতিক দল সেটির বিরোধিতা করেছিল। সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদও এই পদ্ধতিটি চালুর জোর প্রচেষ্টা চালান। পরীক্ষামূলকভাবে ২০১০ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়। ওই সময়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপত্তি তোলায় কাজী রকিবউদ্দীন ইভিএম চালু থেকে সরে এসেছিল। রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও কারসাজির উপরই ভর করে; তারা জনগণের ওপর ভর করে না। ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদেরকে আত্মসম্মানহীন নিপীড়কে পরিণত করে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: পলাতক ৯ আসামীর আত্মসমর্পণ

এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে জেএমবিকে মদতসহ বিস্তর অভিযোগ

নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী গ্রেপ্তার

​৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার

জেএমবির তিন সদস্যের ১৪ বছর কারাদণ্ড

শচীন যা পরেননি পৃথ্বি তা-ই পারলেন

টেকনাফে ৫ কোটি ৭০লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

‘নিজ অবস্থান থেকে আইন মানলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে’

চাল আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা

তারেকের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৩১শে ডিসেম্বর

প্লেবয় মডেল হারতে’র ‘মজা’

ইরাকে আগ্রাসনের হুমকি এরদোগানের

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে

মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

বিস্ময়কর উত্থান ঘটলেও জার্মানিতে এএফডি’র নেতা কে!