অমর একুশে গ্রন্থমেলা

বাড়ছে কোলাহল

শেষের পাতা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৬
গতকাল ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৬তম দিন। ইতিমধ্যেই মেলা অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেলার ব্যস্ততা আর কোলাহল। মেলার শুরুর দিকে দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা ভাটা দেখা দিলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের বইমেলার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে সমানুপাতিক হারে। মেলায় প্রতিদিন আসছে অনেক নতুন নতুন বই। প্রতিদিন বিকাল ৩টার পর অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বার খুলতেই বইপ্রেমী দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন মেলা প্রাঙ্গণে। আনাগোনা থাকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এদিকে, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলা কর্তৃপক্ষ দিচ্ছেন বিভিন্ন সেবা। ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে মেলা প্রাঙ্গণে পানি ছিটানো হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে একমাত্র ঝরণা। যেখানে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা সেলফি তুলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, নানা রঙের নানা ডিজাইনে সাজানো হয়েছে স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো। স্টলের সঙ্গে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। সবমিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ। মেলার প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুর দিকটা তেমন জমজমাট হয় না। কিন্তু গত বছর এ সময় যে লোকজন এসেছিল এবার তা থেকে একটু বেশিই আসছে। গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে টিএসসি সড়ক দ্বীপ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে চলছে নানামুখী সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলা একাডেমির মেলার মূল মঞ্চে আলাদা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানতো আছেই। ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি আমজাদ কাজল বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরুর দিকে বেচাবিক্রি কম থাকলেও পহেলা বসন্ত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং এরপর থেকে বেচাবিক্রি বাড়ছে। পাঠকরা উপন্যাস ও ফিকশনধর্মী বইয়ের প্রতি বেশি ঝোঁকছেন বলে তিনি জানান। মেলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজমুল আলম বলেন, পুরাতন বই দিয়েই মেলা শুরু হওয়াতে শুরুর দিকে মেলায় এসে তেমন একটা নতুন বই পাওয়া যায় না। তাই মেলার মাঝের দিকে আসলাম যাতে সকল বই এসে পৌঁছায়।
নতুন বই ও মোড়ক উন্মোচন: মেলার ১৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১০২টি আর মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২৯টি বইয়ের। নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ১৩টি, উপন্যাস ১৬টি, প্রবন্ধ ৫টি, কবিতা ৩৮টি, ছড়া ২টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনী ২টি, মুক্তিযুদ্ধ ৩টি, নাটক একটি, বিজ্ঞান একটি, ভ্রমণ একটি, চিকিৎসা একটি, রম্য/ধাঁধা একটি, অনুবাদ ২টি এবং অন্যান্য ১৩টি।
মেলার মূল মঞ্চ: গতকাল বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সত্তর দশকের কবিতা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মুজিবুল হক কবীর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি ইকবাল হাসান এবং ড. খালেদ হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সাইমন জাকারিয়ার পরিচালানায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভাবনগর ফাউন্ডেশন’-এর শিল্পীদের পরিবেশনা। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মীনা বড়ুয়া, বুলবুল ইসলাম, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, শুভ্রা দেবনাথ, অভিলাষ দাস এবং নিশি কাওসার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পিনু সেন দাস (তবলা), আবু কামাল (বাঁশি), ইফতেখার হোসেন সোহেল (মন্দিরা) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।
 আজকের অনুষ্ঠান: বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আশি’র দশকের কবিতা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কুমার চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ড. মাসুদুল হক এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান। সভাপতিত্ব করবেন কবি রুবী রহমান। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব : অমর একুশে উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পী ইয়াকুব আলী খান, আবু বকর সিদ্দিক এবং সাগরিকা জামালী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা ২০১৭’র আহ্বায়ক রহিমা আখতার কল্পনা। এছাড়া আগামীকাল শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আজ ছুটির দিন হওয়ায় মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন