কাঁদছে ফারাবী

বাংলারজমিন

দেলোয়ার মানিক, কুষ্টিয়া থেকে | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার
নিশ্চুপ আড়াই বছরের ফারাবী। নিজ মায়ের কোলে কান্না ভেজা চোখ খুঁজে ফিরছে অন্য কাউকে। তার নাম জানতে চাইলে কোনো কথা বলে না। কিন্তু মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করতেই আধো আধো বুলিতে বলে সোম্মা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর এটুকুই বলে সে। এরপর আবার নিশ্চুপ।
কথা না বলায় ফোনে ধরিয়ে দেয়া হয় তার পালক পিতাকে। তখন কান্না ভেজা কণ্ঠে তার আকুতি বাসায় যাবে সে। কিন্তু দেখা করা অসম্ভব। কারণ আইন তাদের আলাদা করে দিয়েছে। তাই পালক বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চাইলেও পারছে না ফারাবী। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুই বছর ৭ মাসের ফারাবী, বার বছরের সোহা আর সাত বছরের তাহশীদের আর তাদের পরিবারের আর্তনাদে ভারি  হয়ে ছিল ডিসি কোর্ট চত্ব্বর।
উপরোক্ত শিশুদের বাবা-মা ভালোবেসে ২০০৩ সালের ৪ঠা মে বিয়ে করে। তাদের মা সানজিদা তার পিতা কৃষি বিভাগের এক সুপারভাইজার খান আবদুল মোতালেবের চাকরির সুবাদে সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামে আসে। এখানে তৌহিদুল ইসলাম তারিকের সঙ্গে প্রেম হয়ে যায় সানজিদার। সানজিদার পিতার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার থানাপাড়া এলাকায়। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে সানজিদা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্নজনের সঙ্গে মোবাইলে গল্প করতো সে। এর ভেতরে নিঃসন্তান ননদের (স্বামীর বোনের) জন্য গর্ভধারণ করে সানজিদা। তার তৃতীয় সন্তান ফারাবীর জন্মের পর ননদ সোমাকে দিয়ে দেয়। পরে সোমা-হাসান দম্পতি ফারাবীর টিকা কার্ড ও জন্মনিবন্ধনে বাবা-মা হিসাবে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করে। পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে দীর্ঘ ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটে তারিক-সানজিদা’র। দুই সন্তান নিয়ে তারিক নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। আর ছোট ফারাবী তার ফুফু সোমার সংসারে। সানজিদা বাপের বাড়িতে। এদিকে স্ত্রী সানজিদা নারী নির্যাতন আইনে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে আদালতে মামলা দায়ের করে তারিকের বিরুদ্ধে। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এরই মাঝে ১০০ ধারায় নাবালক সন্তানদের নিজের হেফাজতে ফিরে পেতে আদালতে আবেদন জানায় সানজিদা। মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সীমা শারমিন তিন সন্তানকে মায়ের হেফাজতে দিতে নির্দেশ দেন। বিচারকের এমন আদেশের পর তিন শিশুর কান্নায় আদালতের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যায়। তাদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো আদালত এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। আদেশের পর পুলিশ শিশুদের মায়ের হেফাজতে দিতে গেলে তারা তিন ভাই বোন পিতাকে জড়িয়ে আদালতের চেয়ার আঁকড়িয়ে ধরে বসে পড়ে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও নির্বাক হয়ে পড়েন। আদালতে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে। বড় সন্তান সোহা চিৎকার দিয়ে তাদের পিতার নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। এ সময় সোহা বলেন, আমরা শিশু, আমাদের পিতা আমাদের লালন-পালন করেছেন। মাকে আমরা চিনি না। আমাদের জোর করে মায়ের কাছে দিতে গেলে আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকবে না। এই বলে তারা আদালতে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে- জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই পরিবেশে বিকেলে দু’পক্ষের উপস্থিতিতে পুনরায় আদালত বসানো হয়। আদালতের বিচারক পৃথক পৃথকভাবে তিন সন্তান, মা-বাবা এবং পালক মায়ের বক্তব্য শোনেন। দীর্ঘ সময় উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং উভয়পক্ষের সম্মতিতে ছোট ছেলে ফারাবীকে মায়ের নিকট এবং অন্য দুই সন্তানকে পিতার হেফাজতে দেয়ার নির্দেশ দেন রাত ৮টার দিকে। আদালতের এ রায়েও সন্তোষ হতে পারেননি সন্তানেরা। রায় শুনে সন্তানেরা আবারও চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সরজমিনে শিশু ফারাবীর নানার কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজ মায়ের কোলে নিশ্চুপ আড়াই বছরের ফারাবী। কান্না ভেজা চোখ খুজে ফিরছে অন্য কাউকে। তার নাম জানতে চাইলে কোন কথায় বলেনা সে। কিন্তু মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করতেই আধো আধো বুলিতে বলে সোম্মা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর এটুকুই বলে সে। এরপর আবার নিশ্চুপ কথা না বলায় ফোনে ধরিয়ে দেয়া হয় তার পালক পিতাকে। তখন কান্না ভেজা কণ্ঠে তার আকুতি বাসায় যাবে সে। এ সময় তার মা সানজিদা জানায় ছোট মানুষ, কিছুদিন থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

লিভারপুলকে সেভিয়ার চমক

ক্যাচ মিসের খেসারত দিলো ঢাকা

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়