ট্রাম্পের রাশিয়া কানেকশন তদন্তের এখনই সময় কংগ্রেসের

এক্সক্লুসিভ

| ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৬
ইতিহাসে এমনই সময় কংগ্রেস পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়, ওয়াটারগেট ও ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারির সময় প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ অথবা নীতি যখন সীমা অতিক্রম করেছিল তখন কংগ্রেস তদন্ত করেছিল। হোয়াইট হাউজকে জবাবদিহিতায় দাঁড় করেছিল। আবারো সেটা করার সময় এসে গেছে।
মাত্র গত সপ্তাহে, মার্কিনিরা প্রত্যক্ষ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হতাশা ও সন্দিগ্ধতার সঙ্গে তারা জানতে পেরেছেন যে, ট্রাম্পের প্রচারণা ও ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যরা রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ স্থাপন করেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে তা এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল রাশিয়া। এক্ষেত্রে সবশেষে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে তা তদন্ত করার জন্য কংগ্রেসের জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে। তাদের তদন্ত করতে হবে মস্কো আসলে কি করতে চেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা কি এক্ষেত্রে সুবিধা নিয়েছেন, তারা জাতীয় স্বার্থকে অবজ্ঞা করেছেন কিনা। ওই প্রচেষ্টার মাধ্যমে শীতল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে গৃহীত পররাষ্ট্রনীতিকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে, শত্রুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সখ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যে সংশয় রয়েছে তা নির্মূল করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন এমনটাই আশা করা হয়। তার পরিবর্তে তিনি পাল্টা আক্রমণ করেছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। প্রতিটি বিষয়ে তিনি প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। রাশিয়ার সঙ্গে তার প্রশাসনের সম্পর্কের বিষয়ে কোনো একটি প্রশ্নের সমাধান না দিয়ে, কোনো একটি পদক্ষেপ না নিয়ে, তিনি নিজেকে বাদ রেখে, অন্য সবার দিকে আঙুল তুলেছেন।
তাই এখন কংগ্রেসের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে আদর্শ ব্যবস্থা হলো কংগ্রেসের উভয় দল থেকে সিনিয়র সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা। এরই মধ্যে রিপাবলিকান দলের বেশ কিছু সিনেট সদস্য পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছেন। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর রিচার্ড বার এরই মধ্যে বলেছেন, তার কমিটি নির্বাচন হ্যাক করার অভিযোগ তদন্ত করবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মাইকেল ফ্লিনের কথোপকথনের ট্রান্সক্রিপ্ট ও ব্রিফিং আহ্বান করেছেন সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি ও প্যানেলের শীর্ষ পর্যায়ের ডেমোক্রেট সদস্য ডিয়ানি ফেইনস্টেইন।
এসব বিষয়ে বিস্তৃত পরিসরে তদন্তের পক্ষে রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন, লিন্ডসে গ্রাহাম ও প্যাট রবার্টস। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যবস্থা নেয়া দেখে সিনেট কমিটির সম্ভাব্য তদন্তের ইস্যু উত্থাপন করেছেন সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ হুইপ জন করনিন।
এক্ষেত্রে অবশ্যই ডেমোক্রেটরা সঙ্গে থাকবেন। এরই মধ্যে সিনেট ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার দু’দলের সমন্বয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে। এটার নেপথ্যে রয়েছেন সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিশ ম্যাকনেল। চাক শুমার বুধবার বলেছেন, কমিটি যে পদক্ষেপই নিক না কেন, সব সদস্যকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা, কথোপকথন ও ডকুমেন্ট প্রাপ্তির সমান সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে পারেন এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় তারা প্রাপ্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে, স্বাভাবিক নিয়মে রিপাবলিকান নেতারা প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করার দিকে বেশি ঝুঁকে থাকবেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সময়ে, এ সপ্তাহে, কংগ্রেশনাল রিপাবলিকানরা একটি পথ বন্ধ করে দিয়েছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার আয়কর রিটার্ন প্রকাশে বাধ্য হন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আগেই। এটা করলে তিনি রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কোনো দায়গ্রস্ত কিনা তা মার্কিনিদের কাছে প্রমাণ করা সহজ হয়ে যাবে। (এরই মধ্যে বারবার বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাশিয়ার অবরোধ নিয়ে অন্তরঙ্গ আলোচনার কারণে অথবা কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বিষয়টি জানতেন এ বিষয়ে মিথ্যা বলার জন্য তাকে বরখাস্ত করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু এ দুটি বিষয় প্রকাশ হয়ে পড়ার পর তিনি মাইকেল ফ্লিনকে বরখাস্ত করেছেন)।
প্রশাসনের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুন, এখন কংগ্রেসের স্রেফ ও জরুরি দায়িত্ব হলো সুবিচার নিশ্চিত করা। যাতে সংকটের গোড়ায় হাত দেয়া হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন