ভেনেজুয়েলায় সিএনএনের সম্প্রচার বন্ধ

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫০
মার্কিন সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের স্প্যানিশ সংস্করণ বন্ধ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। ইরাকে ভেনেজুয়েলার দূতাবাসে কথিত এক ভিসা জালিয়াতিচক্রের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভেনেজুয়েলা ওই সংবাদকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বা অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স কমিশন দেশটিতে ‘স্প্যানিশ ভাষায় নিউজ চ্যানেল সিএনএন’-এর সম্প্রচার তাৎক্ষণিক বন্ধের আদেশটি দিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছিলেন, তিনি চান আমেরিকাভিত্তিক এ চ্যানেলটি ভেনেজুয়েলা বের হয়ে যাক। দেশটিতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমই মূলত আধিপত্য বিস্তার করে আছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেলসি রড্রিগুয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চ্যানেলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। তার এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই সরকার চ্যানেলটি বন্ধের ঘোষণা দেয়। আর এর কিছুক্ষণ পর থেকে সিএনএন স্প্যানিশের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেলসি রড্রিগুয়েজ সিএনএনের ওই সংবাদের অন্যতম সূত্র দূতাবাস কর্মী মাইসায়েল লোপেজকে ‘অপরাধী’ বলেও আখ্যা দেন। তিনি বলেছেন, সিএনএনের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর রচিত। তার ভাষ্য, ‘চ্যানেলটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অভিযান শুরু করেছে। এটি এক ধরনের যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডা অভিযান।’ ৬ই ফেব্রুয়ারি সিএনএন এসপানল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার পাসপোর্ট ও ভিসা দেশটির বাগদাদ দূতাবাসে কিছু লোকের কাছে বিক্রি করা হয়! আর ওই লোকদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক থাকতে পারে। প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নতুন কট্টরপন্থি ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এল আইসামিকে ওই চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এল আইসামিকে (৪২) মাদুরোর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে মাদুরোকে হটাতে বিরোধী দলগুলোর প্রচেষ্টা সফল হলে তিনিই ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন। এদিকে সোমবার পৃথক ঘোষণায় মার্কিন প্রশাসন তাকে মাদক পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সোমবার এল আইসামি ও তার মিত্র ব্যবসায়ী সামার্ক জোসে লোপেজ বেল্লোর বিরুদ্ধে বড় আকারে কোকেন পাচারের অভিযোগ তুলেছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনার জন্ম দেয়। কারাকাস এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কিন্তু এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ওই নেতার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন। মঙ্গলবার মাদুরো ওই নিষেধাজ্ঞার জন্য আমেরিকার ক্ষমা দাবি করেছেন। তিনি ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেয়ারও হুমকি দেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রড্রিগেজ কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কূটনৈতিক প্রতিবাদও পাঠান। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এল আইসামি ও লোপেজ বেল্লোর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসা করা মার্কিন নাগরিকদের জন্য এখন নিষিদ্ধ। কারাকার সরকার অবশ্য বলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এল আইসামি মাদক পাচার বন্ধে জোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন ট্রেজারি বলছে, তিনি বরং ভেনেজুয়েলা থেকে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জঙ্গি হামলায় আরেক অর্থ সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

কুমিল্লার টার্গেট ১২৯

সৌদি আরবে ২৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে : ফখরুল

‘হাসপাতালে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে মরদেহ আটকে রাখা যাবে না’

৭ই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা কেন নয় : হাইকোর্ট

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীনের তিন দফা প্রস্তাব

সিএনজি অটোরিকশার ৪৮ঘন্টার ধর্মঘট

শাহজালালে ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণসহ আটক ১

দীপিকার মাথা কাটলে পুরস্কার ১০ কোটি রুপি!

কেন সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরের প্রতিপক্ষ?

বন্দুকের নলের মুখেও ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন মুগাবে

গেদে সীমান্তে পিতা-পুত্রের মিলন, আবেগঘন এক দৃশ্য

‘পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি যৌন নিপীড়ক’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার