স্কুলে যান না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাজিরা খাতায় রয়েছে স্বাক্ষর

বাংলারজমিন

মো. মিজানুর রহমান, বরগুনা থেকে | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার
 বিদ্যালয় আছে নেই শিক্ষার্থী। এমনকি ক্লাসে পাওয়া যায়নি কোনো শিক্ষককে। অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দিচ্ছেন শিক্ষকরা। ছাত্র-শিক্ষকবিহীন এই স্কুলে কর্মচারী নিয়মিত জাতীয় পতাকাও উড়িয়ে যাচ্ছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এমনই একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে। বিদ্যালয়ের নাম আলহাজ নাসির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০০ সালে এমপিওভুক্ত হয়ে কয়েক বছর সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী রয়েছের বিদ্যালয়টিতে। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সমপ্রতি ৩ জন শিক্ষক অন্যত্র চলে গেছেন। ২০১৬ সালে বিদ্যালয় সংস্কারের নামে অর্ধলক্ষাধিক টাকা সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোপনে তার আপনজন ছোটবগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব কারণে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার পর পর এই ৩ দিন সকাল ১১টার দিকে ঐ স্কুলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সেখানে কোনো ছাত্র শিক্ষক পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলী আকবার হাওলাদার, স্থানীয় সুলতান হাওলাদার ও জুয়েল জানায়, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ৩-৪ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ওই ২ শ্রেণিতে ২২-২৫ জন শিক্ষার্থী দেখিয়ে বই সংগ্রহ করেছেন। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে লেখাপড়ার পরিবেশ না থাকায় বর্তমানে স্কুলটি ছাত্রশূন্য হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরাও এখন আর বিদ্যালয়ে আসেন না। শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শিক্ষার্থী কম থাকায় আমরা তৃতীয় ঘণ্টায় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দিই। ম্যানেজিং কমিটির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টি নিয়ে আদালতে দুটি মামলা চলমান থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা জটিলতা রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার জানান, কোনো রকমে বিদ্যালয়টি চলছে। ছাত্রছাত্রী নেই কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে  তিনি জানান, পাশেই আরেকটি বিদ্যালয় থাকায় ছাত্রছাত্রীরা এই স্কুলে কম আসে। তাছাড়া এখানে শিক্ষক ও করণিক নেই যে কারণে বিদ্যালয়টির এই হাল।
বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, আমি গত ২৬শে জানুয়ারি বরগুনায় যোগদান করেছি। স্কুলটির বিষয়ে এখনো আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন