খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

বাংলারজমিন

খালিদ হোসেন সুমন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা) থেকে | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:১৮
ঢাকার নবাবগঞ্জের উপজেলার খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায় ৭/৮ বছর ধরেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে। বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির ক ও খ শাখার শ্রেণি কক্ষ দু’টোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ভাঙাচোরা শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকির মধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের নেই কোনো বিজ্ঞানাগার। ফলে খোলা মাঠের মধ্যেই তাদের করতে হচ্ছে ব্যবহারিক ক্লাস। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবনের সূচনালগ্নেই প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ায় স্কুলে গমনের প্রতি নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মনে করেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে খানেপুর গ্রামের আঃ রহমান ভেনার কিশোর পুত্র তোতা মিয়া উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বান্দুরা হলিক্রশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে বিষ পানে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনা এলাকার শিক্ষানুরাগী আনিস উদ্দিন আহমেদ মাস্টারের হৃদয়কে দোলা দেয়। তিনি এলাকার সচেতন লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করেন। মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাত্র শুরু হলেও দুুুই বছরের মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দুইশ’। ১৯৮৪ সালে হঠাৎ নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়ের পাঠদান। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে দুই বছর পর ১৯৮৬ সালে পুনরায় শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। এভাবে চলতে চলতে এখন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ শতাধিক। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এর কার্যক্রম। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির রয়েছে দু’টি করে শাখা। এছাড়া ৯ম ও ১০ম শ্রেণির রয়েছে আলাদা তিনটি গ্রুপ। কিন্তু সেই তুলনায় নেই পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ।  ১৯৯২ সালে কারিতাস একটি সেমিপাকা ভবন করে দেন। ১৯৯৫ সালে তৈরি করা ৩ কক্ষবিশিষ্ট মূল ভবনটি। যার দুই কক্ষ আবার ব্যবহার করা হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য। ২০০১ সালে এমপিও ভুক্ত হলেও করা হয়নি কোনো একাডেমিক ভবন। ২০১২ সালে ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩,৪৬,০০০ টাকা অনুদান দেয়া হয়। তখন জেলা পরিষদের অনুদান ও নিজেদের অর্থায়নে প্রায় সোয়া ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে মূল ভবনের উপরে টিনসেডের কয়েকটি কক্ষ করা হয়। এছাড়া পাশ্ববর্তী একটি ভবনে দশম শ্রেণির ক্লাস করা হলেও ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যে কোনো সময় ভবনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুলমাঠে পাঠদান করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক অনন্ত কুমার ব্যানার্জি। খোলা আকাশে ক্লাস করার কারণে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান করাতে পারছেন না। মাটিতে বসার কারণে পরনের জামা-কাপড়ে ধূলোবালি লেগে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে চায় না শিক্ষার্থীরা। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী আবার বিদ্যালয়ে আসাই ছেড়ে দিয়েছে। আবার অনেক অভিভাবক ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তাঁদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।
সহকারী শিক্ষক অনন্ত কুমার ব্যানার্জি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের এভাবে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা মাঠে পড়াতে হচ্ছে। ঝড় বৃষ্টির দিনে ক্লাস বন্ধ করে বারান্দায় গাদাগাদি করে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয় শিক্ষার্থীদের। রোদের মধ্যে মাঠে পাঠদানের  কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না।
১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার সাবিহা আক্তার বলে, ক্লাস টেন-এ ওঠার পর ভাঙাচোরা এই ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে। আবার ধর্ম ক্লাস হলে খোলা মাঠে রোদে পুড়ে ক্লাস করতে হয়। আমাদের খুব কষ্ট হয়। গরমের সময় কিভাবে বাহিরে ক্লাস করবো ভাবতেই পারছি না। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। ফলে আমরা বিজ্ঞানাগারের অভাবে নতুন কিছু শিখতে পারছি না।
একই ক্লাসের ইতি আক্তার আগের স্মৃতিচারণ করে বলে, আকাশে মেঘ হলে ক্লাস ছুটি হয়ে যায়। আকাশে  মেঘ দেখলে স্যারেরা বলেন, যাও- আজ তোমাদের ছুটি।’ ৭ম শ্রেণির ছাত্র আকাশ পাল বলেন, ধর্ম ক্লাস হলেই আমাদের খোলা মাঠে গাছের নিচে ক্লাস করতে হয়। ধুলায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এভাবে ক্লাস করতে ভালো লাগে না।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সাংবাদিক শিমুল হত্যা: পলাতক ৯ আসামীর আত্মসমর্পণ

এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে জেএমবিকে মদতসহ বিস্তর অভিযোগ

নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী গ্রেপ্তার

​৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার

জেএমবির তিন সদস্যের ১৪ বছর কারাদণ্ড

শচীন যা পরেননি পৃথ্বি তা-ই পারলেন

টেকনাফে ৫ কোটি ৭০লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

‘নিজ অবস্থান থেকে আইন মানলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে’

চাল আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা

তারেকের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৩১শে ডিসেম্বর

প্লেবয় মডেল হারতে’র ‘মজা’

ইরাকে আগ্রাসনের হুমকি এরদোগানের

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে

মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

বিস্ময়কর উত্থান ঘটলেও জার্মানিতে এএফডি’র নেতা কে!