ইবির আইন বিভাগ থেকে বাদ যাচ্ছে ‘মুসলিম’ শব্দ

শিক্ষাঙ্গন

ইবি প্রতিনিধি | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার
ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান এবং আল-ফিকহ্ বিভাগের নামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আইন বিভাগের নাম থেকে মুসলিম বিধান অংশটুকু বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে আল-ফিকহ্ বিভাগের নামের সাথে ‘ল’ যুক্ত করার কাজও প্রক্রিয়াধিন বলে জানা গেছে। তবে নাম পরির্বতন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিরোধীতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুত্র মতে, ইতমধ্যে বিভাগীয় (২১১তম) ও অনুষদীয় (৫২তম) সভায় ‘মুসর্লিম বিধান’ অংশ বাদ দেয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল (এসি‘র) সভায় মুসলিম বিধান শব্দটি বাদ দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপিত হবে বলে জানা গেছে। এসিতে পাশ হলে পরবর্তি সিন্ডিকেট সভায় মুসলিম শব্দ বাদ দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবির ভিত্তিতে নামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে একই দাবিতে আল-ফিকহ্ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। বিভাগের নাম ‘আল-ফিকহ্ এন্ড ল’ করার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে তাদের বিভাগের নামর সাথে ‘ল’ যুক্ত করা নিয়ে বিরোধীতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুষদীয় সভায় নিয়ম উপেক্ষা করে টেবিল এজেন্ডা হিসেবে আইন বিভাগের নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও একই ব্যাক্তিরা আল-ফিকহ্ নাম পরিবর্তনে উল্টো পথে চলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিভাগরে নাম থেকে মুসলিম ভাবধারার শব্দ বাদ দেয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। এর আগে নাম পরিবর্তন হবার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিবৃতি দিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি। এছাড়াও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘার্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, “মুসলিম বিধান’ নাম যুক্ত থাকায় তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই দাবি আল-ফিকহ্ বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও। তারা বলেন আমরা ৩২শ নম্বরের মধ্যে ১৪শ নম্বর ইসলামী আইনের পাশাপাশি ১৮শ নম্বরের সাধারন আইন পড়ি। তারপরও আমাদের অধিকাংশ সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি আইন বিভাগের মত আল-ফিকহ্ বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিও তারা সুদৃষ্টি দিবেন।’

এব্যপারে আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নূরুন নাহার বলেন, ‘এ বিষয়ে ফ্যকাল্টি মিটিংয়ে শিক্ষকরা যা সিদ্ধান্ত নিবেন সে অনুযায়ী পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এর বেশি আমি কিছু বলার বা করার অধিকার রাখি না।’

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন