ভারতে চিকিৎসার নামে লোক ঠকানোর প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন অমর্ত্য সেনও

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৩১ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, যত দিন না গরিব  রোগীদের ঠকানো বন্ধ হবে ততদিন সকলের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার স্লোগান শুধু মুখের কথা হয়েই থাকবে। মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতালের প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে সম্মেলনে চিকিৎসার নামে লোক ঠকানোর ব্যবসা নিয়ে অনেকেই মুখ খুলেছেন। এরমধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরাও। তবে অমর্ত্য সেন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখায় সকলে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন। অমর্ত্য  সেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের গরিব রোগীদের ঠকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। শুধু ক্যানসার নয়, সব  রোগের ক্ষেত্রেই। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বীমা যোজনার সুযোগ নিয়ে বহু বেসরকারি চিকিৎসক রোগীদের অকারণ অস্ত্রোপচার করছেন। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজন ছাড়াই তরুণীর হিস্টেরেক্টমি করে  দেয়া হচ্ছে। কারণ যত বেশি ‘কেস’ তত বেশি টাকা। এই ব্যাপারে বহু তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অমর্ত্য সেনের মতে, রোগী ঠকানো বন্ধ করার দায়িত্বটা কিন্তু সরকারকেই নিতে হবে। না হলে এ কাজ বন্ধ করা যাবে না।
তিনি বলেছেন, সমাজে বেসরকারি হাসপাতালের নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ভারতের মত দেশে এটা সমাধান সূত্র হতে পারে না। ক্যানসারের মতো  চিকিৎসাতেও যে রোগী ঠকানোর প্রবণতা চলছে তা মেনে নিয়েছেন সম্মেলনে যোগ দিতে আসা দেশ-বিদেশের ক্যানসার চিকিৎসকদের একাংশ। তাদের মতে, এই প্রবণতা ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। লোক ঠকানোর বিষয়ে বলতে গিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত চিকিৎসকেরা স্বীকার করেছেন,  রোগের মাত্রা বুঝেও পরিবারের  লোককে তা না জানানো, কম দামের অথচ কার্যকরী ওষুধ থাকা সত্ত্বেও গরিব মানুষকে শোষণ করে বেশি দামের ওষুধ কিনতে বাধ্য করা, যে মানুষটির আয়ু বড়  জোর দু’মাস, তাকে কার্যত জোর করে কয়েক লাখ টাকার অস্ত্রোপচার করে পরিবারকে সর্বস্বান্ত করা ইত্যাদি। পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব চণ্ডীগড়ের  চিকিৎসক শঙ্কর প্রিনজা চিকিৎসার নামে খরচ বাড়িয়ে তোলার প্রবণতাকে ‘বিধ্বংসী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মুুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল  সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর সুদীপ গুপ্ত জানিয়েছেন, বেসিক  কেমোথেরাপি, অপারেশন,  রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, এগুলোর খরচ মোটামুটি এক। এগুলোতেই ক্যানসারের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা হয়ে যায়। অথচ এগুলো থেকেই অনৈতিক ভাবে বেশি টাকা আদায় করছে বহু হাসপাতাল। তিনি অভিযোগ করেছেন, অকারণে দামি ওষুধ, ইনজেকশন প্রেসক্রাইব করা হয়। রোগীর পরিবারের চোখে মায়া কাজল পরিয়ে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয়, দামি ওষুধে রোগ সারবেই। অথচ  বেশি দামি ওষুধের সঙ্গে বেশি আয়ুর যোগাযোগটা ক্ষীণ। অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, ওই সব ওষুধে আয়ু দু’চার মাসের বেশি বাড়ে না।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Harun

২০১৭-০১-৩০ ২৩:৫৬:৫৪

কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের প্রতারনা আকছারই ঘটছে,আমাদের দেশে অন্তত কলকাতা থেকে ভাল ও আধুনিক হাসপাতাল রয়েছে।সচেতনতা জরূরী।আবার আমাদের এখানে মৃত ব্যক্তিকে ICU রেখে প্রতারনা অভিযোগ ভুরিভুরি,so we need strong,honest authority monitor them.

আপনার মতামত দিন