বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা তুরস্ক-বাংলাদেশ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে

প্রবাসীদের কথা

মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, আংকারা তুরষ্ক থেকে | ১৫ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৪৯
তুরষ্কের সংসদ সদস্য মেতিন গুনদোউদ বলেছেন, তুরষ্কে স্কলারশীপে পড়াশুনা করতে আসা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, তোমরা ছাত্র-ছাত্রীরা কখনোই বিদেশী না, নিজ দেশ হিসেবে তুরস্কে থাকবে; তুরস্ক তোমাদের দ্বিতীয় দেশ। তোমরা তোমাদের মেধার মাধ্যমে উভয় দেশের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। গত ১৪ই জানুয়ারি বাংলাদেশ একাডেমিক এসোসিয়েশন অব তার্কি ও ইয়েরলী দুশুন্জে দেরনেয়ী এর যৌথ উদ্যোগে তুরস্কের রাজধানী আংকারায় ”তুরস্ক-বাংলাদেশ: ভ্রাতৃত্বপূর্ন সম্পর্ক” শীর্ষক “কাহভালতে” অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তুরষ্কের রাজধানী আংকারায় জাঁকজমতপূর্ণভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ইয়ালচন তপচু।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক নাজমুল ইসলাম রায়হান।
তুরস্ক ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এর মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিচিতি শীর্ষক দুই পর্বের প্রেজেন্টেশনের প্রথম পর্ব  নিয়ে আসে তুরস্কের ট্রাবজোন ও সাকারিয়া শহর থেকে আসা সিফাত কায়সার ও মাহমুদুল হাসান।  ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির উপর অনবদ্য উপস্থাপনায় তুরস্কে অধ্যয়নরত ১০টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশের পরিচিতি উপভোগ করেন।
১ম পর্বের বিরতিতে এহতেশামুল, মাহমুদুল, বিল্লল, বোরহান, দুরুল, রাকিব, সজীব, শামীম,রাশেদ এর যৌথ উপস্থাপনায় “ধন ধান্য পুষ্পে ভরা”-র সুরে হোটেল ইচকালের এর বল রুম বিমোহিত হয়ে যায়। ২য় পর্বে ঈলদিরিম বেয়াজিদ ইউনিভার্সিটিতে পি.এইচ.ডি অধ্যয়নরত নাজমুল ইসলাম রায়হান তার প্রেজেন্টেশনে প্রাকৃতিক সৌন্দযের লীলাভূমি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলেন, সর্বশেষে মাহমুদুল হাসান এর বাংলাদেশের ডকুমেন্টারী এর মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন শেষ হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মেতিন গুনদোউদু তুরস্কের বিভিন্ন শহর থেকে আগত শিক্ষার্থীদের আংকারায় স্বাগত জানিয়ে বলেন, ১৫ই জুলাই তুরস্কের বিপদকালীন সময়ে তুর্কী জনগনের সঙ্গে রাজপথে থাকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তুর্কী স্কলারশীপে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের উপদেষ্ঠা ইয়ালচন তপচু বলেন, বর্তমান বিশ্বে অন্যায় অবিচার এর ক্রমাগত বৃদ্ধির সময় তুরস্ক এই সকল কাজের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের ছাত্র সংগঠনের ন্যায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও তুরস্কের এই কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে যাবে। বিভিন্ন অভ্যন্তরীন সমস্যাবলী তুরস্ক যেভাবে দমন করে যাচ্ছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ দেশ গঠনের জন্য কাজ করে যাবে, বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান পর্বে কারাদেনিজ টেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতোকোত্তর ছাত্র মেহেদী হাসান ইমরানকে সামরিক কাজে ড্রোন ব্যবহারের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বিষয়ক গবেষনার জন্য ইয়েরলী দুশুন্জে দেরনেয়ীর পক্ষ থেকে সন্মাননা প্রদান করা হয়।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন