বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ঝুঁকি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ও ব্রেক্সিট

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০৪
এ বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় দু’টি ঝুঁকি হিসেবে বৃটেনের ব্রেক্সিট ও যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব ব্যাংক। তারা বলেছে, কাঙ্খিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথকে পথচ্যুত করতে পারে এ দুটি রিস্ক ফ্যাক্টর। এ বিষয়ে সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেস্টস’ (জিইপি) রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার প্রকাশ করা এ রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১৬ সালে নানা অনিশ্চয়তায় বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২.৩ ভাগে। কারণ, গত বছরে বিশ্বে বাণিজ্যে দেখা দিয়েছিল অচলাবস্থা। বিনিয়োগ কমে গিয়েছিল। নীতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ভর করেছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক এই বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০১৬ সালের তুলনায় এ বছরে তাদের প্রত্যাশা বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে শতকরা ২.৭ ভাগ। কারণ, এ বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়তে পারে। ডনাল্ড ট্রাম্প উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী পরিকল্পনা নিয়েছেন হাতে। এসবই অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। অর্থনীতি নিয়ে সম্প্রসারিত নীতি গ্রহণ করতে পারেন তিনি। এর মধ্যে থাকবে আয়কর কর্তন, অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের ইতিবাচক অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতাকে তার সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি কঠিন চাপে ফেলতে পারে। তিনি ক্ষমতায় এসে কি ধরনের প্রশাসনিক নীতি গ্রহণ করবেন তা নিয়ে কিন্তু বিরাট রকমে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নীতিগত এক অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও বৃটেনে ব্রেক্সিট ভোটের কারণে এমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক সংরক্ষণশীল প্রবণতা, প্রবৃদ্ধি অর্জনে ধীরগতি, উদীয়মান বাজারে ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুটি রিস্ক ফ্যাক্টরের সঙ্গে আরও অনেক ঝুঁকি যুক্ত হয়ে বর্ধিত রূপ ধারণ করবে। বিশ্বব্যাংক আশা করছে সার্বিকভাবে এ বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে শতকরা ১.৮ ভাগ। ২০১৬ সালে তা ছিল ১.৬ ভাগ। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে এমন টার্গেট শতকরা ৪.২ ভাগ। ২০১৬ সালে তা ছিল ৩.৪ ভাগ। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেছেন, কয়েক বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। এখন আমরা শক্তিশালী অর্থনীতি দেখতে উৎসাহিত হয়েছি। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো ও জনমানুষের পিছনে বিনিয়োগ বাড়ানোর সময় এখন। চরম দারিদ্র্য দূর করতে টেকসই ও অংশগ্রহণমুলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আগামী সপ্তাহে রিপোর্ট প্রকাশের কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ)।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন