গুডবাই

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৯
আবেগ। ভালোবাসা। ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। বর্ণবাদের বিরোধিতা। এর সবই ছিল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিদায়ী ভাষণে। কণ্ঠে ছিল চিরাচরিত আশাবাদের জয়গান।
ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়ার দায়িত্ববোধও। আর মাত্র ৯দিন পর আমেরিকার ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার ছাড়বেন তিনি। ক্ষমতায় আসবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তাই পরিশেষে তাকে জাতির উদ্দেশ্যে বলতেই হলো, ‘গুডবাই’। কিন্তু এমন প্রতিশ্রুতিও দিলেন যে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হয়তো তার থাকবে না। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি সবসময়ই পাশে থাকবেন আমেরিকার। বলেছেন, তিনি আগামী প্রেসিডেন্টের নিকট শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে কমান্ডার-ইন-চীফকে অনুকরণ করা যাবে না। আগামী প্রেসিডেন্টের শাসনামলে সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখর থাকতে হবে। 
যে শহরে শুরু নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সেই শিকাগোতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সর্বশেষ ভাষণ দিলেন তিনি। এ সময় দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী মিশেল ওবামা, দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া। ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হোয়াইট হাউসে  দু’জনের প্রগাঢ় রসায়নের কথা সবাই জানে। কিন্তু ওবামা যেন নিজের ভাষণে এ হৃদ্যতার পূর্ণতা দিলেন বাইডেনকে ‘ভাই’ বলে ডেকে। হোয়াইট হাউসে ওবামার অধীনে কাজ করেছেন এমন কর্মকর্তারা জড়ো হন শিকাগোতে। অনেকে তীব্র শীতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে টিকিট কাটেন ওবামার বক্তব্য শোনার জন্য। ট্রাম্পের ক্ষমতারোহণ নিয়ে এদের অনেকেই উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, যে কাজ করে গেছেন ওবামা, তা হয়তো ভেস্তে দিতে পারেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।  
নিজের ভাষণে আমেরিকা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেন ওবামা। পাশাপাশি সতর্কতার সুরে বলেন, তিক্ত এক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক অসমতা, বর্ণবাদ আর সংকীর্ণ মনমানসিকতা ছিন্ন করতে পারে আমেরিকার গণতান্ত্রিক বুনন। 
ওবামা বলেন, ‘আমরা ওই সম্পর্কগুলো দুর্বল করে ফেলি যখন আমরা কাউকে অন্যদের চেয়ে ‘অধিকতর আমেরিকান’ হিসেবে চিত্রিত করি। যখন আমরা বলি যে পুরো সিস্টেমই অবধারিতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। যখন আমরা বসে থাকি আর সব কিছুর জন্য দায়ী করি আমাদের নেতাদের যাদেরকে আমরাই নির্বাচিত করি এবং তাদেরকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা আমরা খতিয়ে দেখি না।’
ওবামার শেষ ভাষণে উপস্থিত জনসমাগম আর মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগান যেন বারবারই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল তার ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারাভিযান। সকলের সামনেই ওবামা বললেন, তার বিশ্বাস সমাজে সবচেয়ে খারাপ আদর্শিক বৈরিতা বিরাজ করলেও তা সারানো সম্ভব। কণ্ঠে হতাশার ছাপ ছিল বটে, কিন্তু পিছু হটার লক্ষণ ছিল না। তিনি স্বীকার করলেন তার প্রগতিশীল রাজনীতি এখন নিশ্চল হয়ে আছে ওয়াশিংটনে। কিন্তু এ-ও বললেন, ‘সামনের দিকে দুই ধাপ এগিয়ে যেতে হলে আমাদের প্রায়ই মনে হয় এক ধাপ পিছিয়ে যাই। গণতন্ত্রের জন্য অভিন্নতার দরকার পড়ে না। আমাদের জাতির জনকেরা ঝগড়া করেছিলেন, আপস করেছেন। আমরাও তা করি বলে তারা চেয়েছেন। কিন্তু এরপরও গণতন্ত্রে সংহতির মৌলিক চেতনার প্রয়োজন হয়।’ সতর্কতার সুরে বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে অবশ্যই বহিঃআগ্রাসন থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের মূল্যবোধ দুর্বল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
শিকাগোর এই কনভেনশন হলেই ২০১২ সালে নিজের দ্বিতীয় বিজয় উদযাপন করেছিলেন তিনি। এখনও জনমত জরিপের ফলাফল বলছে দেশজুড়ে জনপ্রিয় আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দেশজুড়ে এখন বর্ণবাদের ক্ষত জ্বলজ্বলে। কিছুদিন পরই ক্ষমতায় বসবেন ডনাল্ড ট্রাম্প যার প্রচারাভিযান বর্ণবাদী ছিল বলে সমালোচকদের অভিযোগ। আবির্ভাব ঘটেছে নিও-নাৎসি, ইহুদি ও মুসলিম বিদ্বেষের। ট্রাম্পের মনোনীত অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স একজন বর্ণবাদী বলে অনেকের তীব্র অভিযোগ। কিন্তু ওবামা আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন উত্তরসূরিকে সহায়তার। তাই বলে জলবায়ু পরিবর্তন, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আমেরিকায় প্রবেশাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা আইন নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করতে ভুলেননি তিনি।
তার ভাষ্য, ‘যদি প্রত্যেক অর্থনৈতিক ইস্যুকে এভাবে কাঠামোবদ্ধ করা হয় যে, এটি কঠোর পরিশ্রমী শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত ও সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য সংখ্যালঘুদের লড়াই, তাহলে সব শ্রমিকরা ওই এঁটোর দখল নিয়েই লড়তে থাকবেন। অপরদিকে সম্পদশালীরা নিজেদের বিত্তের পরিধি আরো বিস্তৃত করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি অভিবাসীদের সন্তানদের ওপর বিনিয়োগ না করি এই কারণে যে তারা দেখতে আমাদের মতো নয়, তাহলে আমরা নিজেদের সন্তানের সম্ভাবনাও বিনষ্ট করবো। কারণ, ওই বাদামি রঙের সন্তানরাও আমেরিকার শ্রমশক্তির বিশাল অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।’ তার সতর্কবাণী, আমেরিকানদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনে আইন প্রণয়নই যথেষ্ট হবে না। হৃদয়কেও পরিবর্তিত করতে হবে। 
কাঁদলেন ওবামা
নিজের ভাষণে, ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার নাম উচ্চারণ করেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মুখে কোনো কথা সরলো না বেশ কিছুটা সময়। আবেগে আপ্লুত হয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তিনি। চোখ ছল ছল অশ্রুতে। বারবার দু’ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। টিস্যু হাতে নিয়ে চোখের কোণ থেকে অশ্রু একপর্যায়ে। তার সামনে দর্শক সারিতে বসা স্ত্রী মিশেল ওবামা। তার পাশে মেয়ে মালিয়া। পিতার এমন দৃশ্য দেখে মালিয়াও কাঁদছে। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন মিশেল। তিনি নিজেকে অনেক কষ্টে ধরে রেখেছেন। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি তা সামাল দিলেন। তার দিকে তাকিয়ে বারাক ওবামা বললেন, মিশেল যুক্তরাষ্ট্রকে গর্বিত করেছে। দু’মেয়ে মালিয়া ও সাশার প্রশংসা করলেন। বললেন, তোমাদের মতো মেয়ের পিতা হতে পেরে আমি গর্বিত। এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হলো শিকাগোর লেকফ্রন্ট কনভেনশন সেন্টারের ম্যাককরমিস প্লেসে। 
নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, মিশেল গত ২৫টি বছর তুমি শুধু আমার স্ত্রী, আমার সন্তানদের মা-ই ছিলে না। তুমি ছিলে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তুমি চাও নি এমন ভূমিকাও তুমি নিয়েছো। তুমি এটা করেছো সদগুণে, চারিত্রিক দৃঢ়তায়, মানবীয় গুণে। তুমি হোয়াইট হাউসকে এমন একটি স্থানে পরিণত করেছ যা হবে প্রতিটি মানুষের। নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছ দূরদৃষ্টি। কারণ, তুমি এর ‘রোল মডেল’। তুমি আমাকে গর্বিত করেছ। এই দেশকে গর্বিত করেছ তুমি। 
দু’মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বারাক ওবামা বলেন, অজানা অচেনা পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে মালিয়া ও সাশা তোমরা বিস্ময়কর, স্মার্ট, সুন্দরী নারীতে পরিণত হয়েছো। তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তোমাদের মধ্যে রয়েছে করুণাময় মন, সুচিন্তিত চিন্তাভাবনা ও পুরো ধৈর্য। আমি তোমাদের পিতা হতে পেরে নিজেকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত মনে করছি। 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রতিনিধি দল

৭৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন অনিরুদ্ধ রায়

প্যারাডাইস পেপারসে মিন্টু পরিবারের নাম

ফেসবুকে বন্ধুতা, প্রেম ব্ল্যাকমেইল

মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ!

একজন পেশকার মুচিরাম গুড়

চীন কারো পক্ষ নেবে না

হেয়ার স্কুলের দ্বিশতবার্ষিকীতে সম্মানিত জিয়া

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ

নির্বাচনী ডামাডোলে নানা প্রশ্ন

কামাল হোসেন মনে করেন এটা শুভ লক্ষণ

বারী সিদ্দিকী লাইফ সাপোর্টে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছেন না চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

তবুও কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর