ক্রেমলিনের অস্বীকার

‘ট্রাম্পের ব্যাপারেও বিব্রতকর তথ্য আছে রাশিয়ার কাছে’

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
শুধু ডেমোক্রেটিক পার্টি ও দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সহযোগীদের ওপরই হ্যাকিং করেনি রাশিয়া। দেশটি তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কেও। মস্কোতে পতিতাদের সঙ্গে তার মেলামেশা সহ বেশ বিব্রতকর কিছু তথ্য দেশটির হস্তগত হয়েছে। যা ব্যবহার করে মার্কিন হবু প্রেসিডেন্টকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন। এক সাবেক বৃটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার তৈরি করা একটি রিপোর্ট অনেকদিন ধরেই মার্কিন সাংবাদিক, রাজনীতিক ও গোয়েন্দা মহলে ঘুরছিল।
ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক মেজরিটি লিডার হ্যারি রেইড এ রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছিলেন। রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ সিনেটর জন ম্যাককেইন এ রিপোর্টের একটি কপি এফবিআইকেও পাঠান। এ রিপোর্টে বলা হয়, ট্রাম্পের আর্থিক ও ব্যক্তিগত অনেক তথ্যও রাশিয়ার হাতে রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযান চলাকালে মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের যোগাযোগও ছিল। তবে রিপোর্টে উল্লিখিত দাবি যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানরা ট্রাম্পকে এ রিপোর্টের সারমর্মের কথা অবহিত করেছেন বলে সিএনএন খবর প্রকাশের পর খ্যাতনামা অনলাইন গণমাধ্যম বাজফিড পুরো রিপোর্টটিই প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প এ খবরের নিন্দা জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন এ খবর কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে মনগড়া ও সম্পর্ক নষ্ট করার স্পষ্ট চেষ্টা। ট্রাম্প টুইটে বলেছেন, ‘ভুয়া সংবাদ। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উইচ-হান্ট।’ বুধবার সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এ সম্মেলনে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা ও তার কনফ্লিক্টস অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে ওঠা উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করার কথা ছিল তার। গত সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি রিপোর্ট অবমুক্ত করে। এতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত করতে রাশিয়া হ্যাকিং করেছিল। মার্কিন গণমাধ্যমে এখন কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার কাছে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও তার ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। এমনও দাবি করা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী শিবিরে হ্যাকিং-এর যে অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাতে জড়িত ট্রাম্পের সহযোগীরাও।
সাবেক বৃটিশ গোয়েন্দার তৈরি করা ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়, মাইকেল কোহেন নামে ট্রাম্পের এক আইনজীবী ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর বা আগস্টে প্রাগে গিয়েছিলেন ক্রেমলিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে।
কিন্তু কোহেন ওই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, আমি আমার জীবদ্দশায় কখনই প্রাগে যাইনি। মার্কিন মিডিয়ায় ইঙ্গিত দেয়া হয়, কিছু ভিডিও তৈরি করা হয়েছে প্রয়োজন পড়লে ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করতে।
সিএনএন প্রথমে জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের ব্যাপারে রাশিয়ার কাছে থাকা তথ্যের ব্যাপারে একটি দুই পৃষ্ঠার সারমর্ম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেস নেতাদের কাছে উপস্থাপন করে। সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ সারমর্ম মূলত একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট তৈরি করেছেন এক সাবেক বৃটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাকে এ কাজে নিয়োগ করেছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। অতীতে ওই কর্মকর্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেন, তিনি অতীতে যেসব কাজ করে দেখিয়েছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য ছিল। কিন্তু বাজফিড জানিয়েছে, ওই রিপোর্টে কিছু বানানগত ও তথ্যগত ত্রুটি ছিল। আর রিপোর্টে উল্লিখিত দাবির কোনোটির সত্যতাই এখনো যাচাই করা যায়নি। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রকাশিত খবর সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন