‘খালেদার মামলার রায় কী হবে বোঝা যাচ্ছে’

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৪
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় কী হবে সেটা বোঝা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন দুর্নীতির মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কথা বলছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে মামলায় রায় কী হবে। আদালতে মামলা চলছে। আর প্রধানমন্ত্রী রায় দিয়ে দিলেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান। তাহলে বিচারকের রায় দেয়ার প্রয়োজন আছে কি? সে রায় কোন্‌ দিকে যাবে, তা আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু মামলা প্রভাবিত করে রায় দিয়ে মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, সেগুলো কোথায়? আর খালেদা জিয়ার নামে পাঁচটি মামলা ছিল। এখন তা ২৯টিতে রূপ নিয়েছে। জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপিও চায় জঙ্গিবাদের উসকানিদাতাদের খুঁজে বের করা হোক। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মেরে ফেলা হচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে না, বিচার হচ্ছে না। তাহলে আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার ভয়েই কি জঙ্গিদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না? নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রেসিডেন্টের সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সহায়ক সরকারের অধীনে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট কী করবেন, তার ওপর নির্বাচন কমিশন ও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর। ওয়ান-ইলেভেনের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, এদিন ছিল সংবিধানসম্মত সরকারকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করে বেআইনি সরকার প্রতিষ্ঠার দিন। ওই সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ। সেই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে। এখন ভিন্নভাবে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে। সেই সময়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কীভাবে নিঃশেষ করে দেয়া যায় তার প্রক্রিয়া চলেছে। ষড়যন্ত্রের সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। জাতীয়তাবাদী দর্শনকে নির্মূল করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল ও মতকে রাজপথে নামতে দেয়া হয় না। তেল-গ্যাস-খনিজ-সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির যারা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে তাদেরও একই অবস্থা। এরা (আওয়ামী লীগ) আবার গণতন্ত্রের কথা বলে। চাষী নজরুলের স্মৃতিচারণ করে মির্জা আলমগীর বলেন, তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী মানুষ। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি জাতিকে নির্মাণের কাজ করেছেন। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ নেতা রিয়াজুল ইসলাম ও জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান বক্তব্য দেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন