চতুর্থ বছরে সরকার

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
চার বছরে পা রাখলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর এ দিনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধান বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা থাকলেও নির্বাচনের পর গঠিত সরকার সাফল্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তিন বছর পার করেছে। তিন বছরে নানা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। এই সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কারও এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে ৭.১১ ভাগ। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬৫ ডলারে। মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে সাড়ে পাঁচ ভাগেরও কমে। ৩২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে যোগাযোগ খাতে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন বছরে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এতে মানুষের আস্থা বেড়েছে সরকারের প্রতি। শুরুতে কিছুটা প্রতিকূলতা থাকলেও তৃতীয় বছর অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই পার করেছে সরকার। এমন অবস্থায় আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভাষণে আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা থাকবে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র। এদিকে সরকারের বর্ষপূর্তিতে আওয়ামী লীগ ৫ই জানুয়ারি কর্মসূচি পালন করেছে। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়। সরকার দেশের উন্নয়ন করে প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ যে ওয়াদা করে তা পালন করে। 
২০১৪ সালে সরকার গঠনের পর প্রথম বছর কিছুটা স্বস্তিতে পার করলেও দ্বিতীয় বছর মোটেও সুখকর ছিল না সরকারের জন্য। বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির কারণে বছরের শুরুটা ছিল অস্থির। টানা ৯২ দিনের অবরোধ-জ্বালাও পোড়াওয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা ছিল দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়, সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। সরকারের তৃতীয় বছর কেটেছে অনেকটা মসৃণভাবে। এ বছর বেশ কিছু উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। সমাপ্ত হয়েছে কিছু বড় প্রকল্প। এতে সরকারের ভাবমূর্তি অনেকটা বেড়েছে। তবে বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রম, বিদেশি নাগরিক হত্যা ও সর্বশেষ হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা বেকায়দায় ফেলে সরকারকে। বিদেশে ভাবমূর্তি সংকট দেখা দেয়। নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে বিভিন্ন দেশ। এসব জঙ্গি কার্যক্রম মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে বছর শেষে এ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। জঙ্গি মোকাবিলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। সরকারের এ মেয়াদের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। এ মেয়াদে নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করা এ প্রকল্প দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোর প্রকল্প। এ প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ-সংক্রান্ত টানাপড়েনে শুরুতে অনেকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও নিজস্ব অর্থায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প শুরুর কাজে হাত দেন। এ পর্যন্ত এ সেতুর ৪০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় দক্ষিণের মানুষ এখন সরাসরি সড়ক যোগাযোগের স্বপ্নে বিভোর। সরকারের মেয়াদেই সেতুর উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এদিকে সরকারের এ মেয়াদে শীর্ষ যুদ্ধাপরীদের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। চলমান রয়েছে এ বিচারপ্রক্রিয়া। এ বিচার কার্যকরের মধ্য দিয়ে সরকারের আস্থা বেড়েছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্র্মীরা। এছাড়া ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়কেও সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার প্রস্তাব জাপানের

পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশের দাবি সংসদে

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!