দক্ষিণ সিটির ফুটপাথে কর্মদিবসে হকার বসতে দেয়া হবে না

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, সাপ্তাহিক কর্মদিবসে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল এলাকায় জনগণের চলাচলের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। অফিস ছুটির দেড় ঘণ্টা পর অবস্থান ভেদে হকাররা ব্যবসা করতে পারবে। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত হকার্স পুনর্বাসন ও হলিডে মার্কেট চালুর বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সাঈদ খোকন বলেন, লাইনম্যানধারীরা আসলেই চাঁদাবাজ। হকার নেতাদের তালিকা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, হকারদের আইডি কার্ডের একটা প্রস্তাব এসেছে।
আমরা সেটা চালু করতে পারি। মেয়র বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে হকারদের রাস্তায় বসতে দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। আপাতত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে হকাররা ফুটপাথে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু সাপ্তাহিক কর্মদিবসে দিনের বেলায় ফুটপাত এবং রাস্তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। কর্মদিবসে দিনের বেলায় গুলিস্তান ও তার আশপাশের এলাকায় কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত। এটা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করবে। মেয়র খোকন বলেন, এ সিদ্ধান্ত আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। যদি কোনো হকার এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাহলে সিটি করপোরেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। মেয়র বলেন, যারা তালিকাভুক্ত হকার তারা যদি ইচ্ছা করেন পেশা পরিবর্তন করে চাকরি বা বিদেশ যেতে চান তারা আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। আমরা সরকার বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের বিদেশ যাওয়া বা চাকরির জন্য সুপারিশ করবো। যদি স্থানীয়ভাবে তাদের চাকরির জন্য কোনো সুযোগ থাকে তাহলে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো। এদিকে মতবিমিনয় সভায় আগে পুনর্বাসন, পরে উচ্ছেদ বা অন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন হকার নেতারা। তারা বলেন, সিটি করপোরেশন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান করে হকারদের উচ্ছেদ করে। কিন্তু তারাতো গরিব কোথায় যাবে? তাদের আগে পুনর্বাসন করেন, পরে উচ্ছেদ। বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরে ৮ থেকে ৯ লাখ হকার রয়েছে। দক্ষিণে ৫ থেকে ৬ লাখ হকার আছে। এখানে সবাই গরিব, নিরীহ। এদের সামান্য আয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রাস্তায় কোনো হকার থাকবে না। কিন্তু রাস্তার ওপরে যে জায়গাটা আছে সেখানে কিছু স্থান দিতে হবে। কার্ডের মাধ্যমে হকার চিহ্নিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘হকারা একটা স্থান নিতে এক লাখ, দুই লাখ টাকা লাগে। এরা কারা। এদের চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন মজুমদার বলেন, ‘হকার পুনর্বাসন একটা বিরাট কঠিন কাজ। আমরা বলেছি- ঢাকাকে তিলোত্তমা শহর বানাতে আমাদের আপত্তি নেই। রাস্তা দখলের জন্য হকাররা দায়ী নয়। এজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরীফ চৌধুরী বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হলিডে মার্কেট নিয়ে হকার্সদের মধ্যে একটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হকাররা হলিডে মার্কেটে গেলে ফুটপাতে বসতে পারবে কিনা। হকারদের পরিকল্পনামাফিক বসাতে হবে। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এমএ কাশেম বলেন, ‘প্রতিটি ফুটপাতে একজন করে লাইনম্যান চাঁদাবাজ থাকেন। একটা ফুটপাতে ১০০ জন থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন একজন লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজ। এই লাইনম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করেন কথিত প্রশাসনের লোক। এই লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, হকার ট্রাফিক পুলিশ গঠন করতে হবে। তাকে কার্ড দিতে হবে। তারা সিটি করপোরেশন থেকে কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবে। এজন্য একটা আইন করতে হবে। যদি আইন তৈরি করা না যায় তাহলে দিন দিন হকার বাড়বে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুল ওহাব ভুঁইয়া, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন