বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৫০ হাজার মানুষের

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
 দিনাজপুরের চিরিরবন্দর-খানসামা উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের রাণীরবন্দর বাজার থেকে খানসামা রোড হয়ে উত্তর দিকে রাণীরবন্দর হাটের ৫০ গজ পূর্ব-উত্তর কোণে নশরতপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন ইছামতি নদীতে নির্মিত ৭০ ফুট এ বাঁশের সাঁকো। এখন হাজার হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। ‘সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু বাঁশের সাঁকো আর ব্রিজ হয় না’। চিরিরবন্দর ইছামতিতে এই একটি ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হয় হাজার হাজার মানুষ। উপজেলার নশরতপুর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ইছামতি নদীর উপরে নির্মিত লক্কড়ঝক্কর মার্কা এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ছাত্র ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এলাকার মকবুল, নাসিম বেয়ারী, জাহিদুল  জানান, আমরা চাঁদা তুলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তৈরি এ সাঁকো দিয়েই উপজেলার নশরতপুর, চকগোবিন্দ, আলোকডিহি, ফতেজংপুর, উত্তর পলাশবাড়ী, খানসামা উপজেলার দুবলিয়া, গোয়ালডিহি, লালদীঘি, নীলফামারীর বড়ুয়াসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র পথ এ বাঁশের সাঁকো। স্কুলশিক্ষক সুকুমার চন্দ্র জানান, স্বল্প সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আলোকডিহি জে বি উচ্চ বিদ্যালয়, রাণীরবন্দর এন আই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমড়িয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়, উপজেলার প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী রাণীরবন্দরহাট ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এলাকার লোকজন সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। রাণীরবন্দর এনআই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, সেতু না থাকায় প্রতিদিন আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে হয়। বৃষ্টির সময় এ দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। আলোকডিহি গ্রামের শ্রী সাধনা রায় জানান, আমি এনজিও চাকরি করি আমার ফিরতে প্রতিদিনই রাত হয় তাই রাতের বেলা এ বাঁশের সাঁকো পার হাতে আমার খুব ভয় করে। গছাহার গ্রামের মো. জিয়ারুল হক বলেন, এ এলাকা মূলত কৃষিনির্ভর। এখানে শাকসবজিসহ প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় নদীর পূর্ব পাড়ের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো হাটে আনতে পারেন না। বাজারে আনতে গেলে ৪ কি. মি. পথ ঘুরে আসতে হয় এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই স্থানীয় বাজারেই এসব কৃষিপণ্য কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বহু কৃষক। একই গ্রামের জসিম উদ্দিন, হাসান আলী বলেন, এই সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল বা কোনো যানবাহন নিয়ে পারপার হতে গেলে সাঁকোটি নড়বড় করতে থাকে। এতে করে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকি। এ ব্যাপারে নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুর ইসলাম নুরু জানান, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন