কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপি সভাপতিসহ ৪১ নেতাকর্মী কারাগারে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
কুলিয়ারচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা দু’টি পৃথক মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলমসহ ৪১ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী আদালত নং-২ এ আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালতের বিচারক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঃ ছালাম খান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো ৪১ নেতাকর্মীর মধ্যে মো. শরীফুল আলম ছাড়াও কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল মিল্লাত, ভাইস চেয়ারম্যান মো. মেজবাহুল হক, কুলিয়ারচর পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদল সভাপতি আজহার উদ্দিন লিটন এবং পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাহ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৩রা ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন। নবঘোষিত কমিটিতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি, সাবেক এমপি লায়লা বেগমকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকে ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং হাজী ইসরাইল মিঞাকে ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পর নবগঠিত কমিটিকে সংবর্ধনা দিতে দলটির পক্ষ থেকে গত ১২ই ডিসেম্বর দুপুরে জেলা শহরের রথখোলা ময়দানে সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকা থেকে নতুন কমিটির নেতারা আসবেন, এজন্যে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে সংবর্ধনা ও পথসভার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে জেলা বিএনপি’র নতুন সভাপতি মো. শরীফুল আলমের নিজ সংসদীয় এলাকা ভৈরব ও কুলিয়ারচরেও বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও পথসভার আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় ১২ই ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মলয় কুমার দে নামে এক পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো. রতন ও মোতাহার এই তিনজনকে আটক করে। এছাড়া বেলা পৌনে ১২টার দিকে শরীফুল আলমের গাড়িবহর আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার পর পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আলম ইমরান নামে এক পুলিশ সদস্য এবং বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়াকে আটক করে। এই দুই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কুলিয়ারচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে কুলিয়ারচর থানার এসআই এহসানুল হক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপি’র নতুন সভাপতি মো. শরীফুল আলমসহ মোট ৫৩ জন এবং এসআই আবুল হাসেম বাদী হয়ে দায়ের করা অপর মামলায় শরীফুল আলমসহ মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়। দু’টি মামলাতেই মো. শরীফুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়।
বুধবার দুই মামলার মধ্যে এসআই এহসানুল হকের মামলায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল মিল্লাত, ভাইস চেয়ারম্যান মো. মেজবাহুল হক, কুলিয়ারচর পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদল সভাপতি আজহার উদ্দিন লিটন এবং পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাহ আলমসহ ৩৬ জন এবং এসআই আবুল হাসেমের মামলায় মো. শরীফুল আলমসহ ৬ জনসহ মোট ৪১ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঃ ছালাম খান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামিন শুনানিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল কুদ্দুছ, অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, অ্যাডভোকেট আসাদ রেজাসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আইনজীবী অংশ নেন। আদালতের আদেশের পর দুপুরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে দলের আইনজীবী ফোরামের দুই গ্রুপের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন