ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহিংসতার বছরপূর্তি ধরা পড়েনি মূল হোতারা মামলারও অগ্রগতি নেই

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহিংসতার বছরপূর্তি আজ। কিন্তু এখনো ধরা পড়েনি সেদিনের ঘটনায় জড়িত মূল অপরাধীরা। মামলারও কোনো  অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে আছে বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ। ২০১৬ সালের শুরুতে ১২ই জানুয়ারি জেলা পরিষদ মার্কেটের ব্যবসায়ীর সঙ্গে মাদরাসা ছাত্রের বিরোধ, পরে এক মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তাণ্ডব চলে শহরে। ১১ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদের মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ২ মাদরাসা ছাত্রের বাদানুবাদ হয়। এর জের ধরে মাদরাসার কয়েক শ ছাত্র ঐ মার্কেটে গিয়ে হামলা চালায়। ভাঙচুর করে ২টি দোকান। এরপরই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদরাসা ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগ দেয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের কান্দিপাড়ায় জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার সামনে দু-পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আহত মাদরাসা ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমান (২০) রাত ৩টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান।  এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরদিন সকাল ৭টা থেকে মাদরাসার শতশত ছাত্র-শিক্ষক শহরের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন। আগুনে পুড়ানো হয় হালদারপাড়াস্থ প্রশিকা অফিস। ভাঙচুর করা হয় আওয়ামী লীগ ও সংসদ সদস্যের কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সে থাকা ব্যাংক এশিয়ার অফিস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে থাকা সাহিত্য একাডেমি, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, শিশু নাট্যম ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগার। শহরের বিভিন্নস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে টানানো বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। রেলপথে অবরোধ সৃষ্টি করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় রেলপথের বিভিন্ন স্থানে। এ সময় রেলস্টেশনের প্রতিটি  কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ভেঙ্গে ফেলা হয় কন্ট্রোল প্যানেল। এতে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একদিনেরও বেশি সময় পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয় ১৩টি। এসব মামলায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত প্রায় ১২-১৩ হাজার লোককে আসামি করা হয়। বছর ঘুরে এলেও এসব মামলার তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি পুলিশ। সেদিনের ঘটনার মূল হোতারা ধরা না পরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এখানকার সংস্কৃতিকর্মীরা। তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক মনির হোসেন বলেন- যারা প্রকাশ্যে হামলা-ভাঙচুর করেছে দীর্ঘ একবছরেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। তারাই আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হামলা চালাতে পারে এই ভয় আমাদের রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন- এটি দুর্ভাগ্যজনক। যারা সেদিনের ঘটনার মাস্টার মাইন্ড তাদের কেউই ধরা পড়লো না। মামলারও কোনো অগ্রগতি হলো না। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈনুর রহমান বলেছেন- তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে মামলার তদন্ত করছেন। এসব মামলা ভিন্ন ধাঁচের হওয়ায় সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা নবজাতকের নাম ‘শেখ হাসিনা’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে : নাসিম

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠালো সৌদি আরব

ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫

‘সরকার পচা চাল আমদানি করছে’

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি লিপ সার্ভিস দিচ্ছে’

অর্থ আত্মসাত মামলায় সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

‘সুন্দরী মেয়েদের ধর্ষণ করে সেনারা হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়’

রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ করার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জাতিসংঘকে ম্যাক্রনের আহ্বান

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব