যা ওয়াদা করি তা পালন করি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১০
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি জঙ্গিবাদকে উসকে  দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের বিচার করবে। তাদের মুখে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। দেশের মানুষ যখন ভালো থাকে খালেদা জিয়ার মনে তখন অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি হয়। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা ওয়াদা করি তা পালন করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। ব্যাপক আয়োজনের বিশাল সমাবেশে রাজধানী ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ পরবর্তীতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশের কথা চিন্তা করেনি। তারা শুধু নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ক্ষমতাকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে।
৩৭ মিনিটের বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ খুন, অগ্নিসংযোগ এবং তাণ্ডব চালানোর অপরাধে বিএনপি ও দলটির দোসরদের একদিন গণআদালতে বিচার হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, তাদের মুখে গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। আওয়ামী লীগ সভাপতি তার বক্তব্যে অঙ্গীকার করে বলেন, এই দেশকে জতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো- এই একটি অঙ্গিকারই আজকের দিনে জাতির পিতার কাছে। ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে জাতির পিতা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন আমরা দেশকে সেইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবো। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে বলেছিলাম ক্ষমতায় গেলে দেশকে ডিজিটাল করা হবে। তখন অনেকেই হাসিঠাট্টা করেন। কিন্তু আজ প্রমাণ করেছি, আমরা যা ওয়াদা করি তা পালন করি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, এতিমের টাকা মেরে খেয়ে খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ব্যাপারটা কি? তার কাছ থেকে আমাদের রাজনীতি শিখতে হবে বা গণতন্ত্র শিখতে হবে এটা দেশের মানুষ কোনোদিন মেনে নেবে না। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি- জামায়াতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে আন্দোলনে নেমে মানুষ হত্যা শুরু করলেন ২০১৩ তে। ২০১৪ তে আবার আন্দোলনের নামে ৫৮২টি স্কুল পোড়ালেন, প্রিজাইডিং অফিসারদের হত্যা করলেন। এসব হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নির্বাচন ঠেকাতে পারলো না। ২০১৫ সালে আবার বাসা থেকে অফিসে এসে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব শুরু করলেন খালেদা জিয়া। সরকার উৎখাতের নামে ২৩১ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে, ২৯টি রেলগাড়ি এবং ৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ২৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে, শত শত কোরান শরীফ পোড়ায় বায়তুল মোকারমের সামনে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, কেউ যেন ওই পথে না যায়, সেভাবে শিক্ষা দিতে হবে। আত্মঘাতীরা ভাবছে, তারা বেহেশতে যাবে, তারা বেহেশতে যাবে না। তারা দোজখে যাবে। ইসলামে আত্মঘাতীদের কোনো স্থান দেয়া হয়নি। সরকারপ্রধান পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করেন এবং তার সরকারের নেয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ?্য তুলে ধরেন। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন সরকারে ছিল তখন দেশে বিদ্যুৎ ছিল ৪ হাজার মেগাওয়াট। এরপর বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন বিদ্যুতের উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। শুনেছি-ভূতের পা নাকি পিছন দিক থেকে টানে। ওরাও কী ভূত হয়ে গিয়েছিল কী না জানি না! আর পিছিয়ে দেবেই না কেন?  বিএনপির দোসর জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যাদের ফাঁসি হয়েছে তারাই ছিল খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সন্ত্রাস-দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি আর অস্ত্র পাচার ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। উন্নয়নের নামে তারা দেশে লুটপাট চালিয়েছে। আমরা দিয়েছি বিদ্যুৎ আর তারা দিয়েছে বিদ্যুতের খাম্বা। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান খাম্বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। খাম্বা কিনতেই নাকি টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাহলে বিদ্যুৎ দেবে কোথায় থেকে। অন্যদিকে দেশকে খাদ্যের ঘাটতিতে রেখে গিয়েছিল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ঘাটতির দেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়েছে। আজকে বিদ্যুতের উৎপাদন আমরা ১৫ হাজার ১৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আমরা সন্ত্রাস দমন করেছি আর তারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। এ বছরও ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি আমরা ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে তুলে দিয়েছি। পৃথিবীর কোনো দেশে একদিনে এত বই দিতে পারে কিনা আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আর ২৫/৩০ বছর বেঁচে থাকলে আরো আগেই এ দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো। কিন্তু তা করতে দেয়া হয় নি। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বক্তব্যের শুরুতেই সকলকে ঐতিহাসিক দিবসের শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আজকের সমাবেশে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছে তা অন্য কোনো দলে দেখা যায় না। তাদের সমাবেশে এত মানুষ আসে না। বঙ্গবন্ধু যেসব অর্জন করেছিলেন তা ধ্বংস করতে চেয়েছিল একটি গোষ্ঠী। তারা ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা এখন আমাদের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত ও মহান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো এমন এক জায়গায় যেখানে থাকবে শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।
দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেন তখনই তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দেশকে তখন নব্য পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করা হয়। একইভাবে শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি প্রতিবারই বেঁচে গিয়েছেন। এখন তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে নিরলস কাজ করে চলেছেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর দুইটি স্বপ্ন ছিল। একটি স্বাধীনতা আরেকটি বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। সপরিবারে হত্যার কারণে বঙ্গবন্ধু দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারেননি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওই স্বপ্ন পূরণে এখন এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। আজ বলতে চাই বঙ্গবন্ধু আপনি দেখে যান আপনার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আপনার সকল স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে হাতিরঝিল ছিল পাবলিক টয়লেট আর এখন মানুষ হাতিরঝিলে যায় বুক ভরা নিশ্বাস নিতে। এই একটা উদাহরণই যথেষ্ট শেখ হাসিনা কি কাজ করছেন। তিনি বলেন, আজ সরকারের সব অর্জন ভণ্ডুল করতে চায় বিএনপি। এসব করে খালেদা জিয়া হারিয়ে যাচ্ছেন, তলিয়ে যাচ্ছেন। আরো তলিয়ে যাবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, চক্রান্ত করে ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনাকে ঠেকানো যাবে না। আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঙ্গে আমরা লড়াই করতে চাই। এতে শেখ হাসিনা বিজয়ী হবেন। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে। সেখানে লড়াই হয়েছে নৌকা আর ধানের শীষের।
আওয়ামীর লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনসভায়। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ ও আমিনুল ইসলাম আমিন।
জনসভায় আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আরো  বক্তব্য রাখেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সুজিত রায় নন্দী, নগর নেতাদের মধ্যে আবুল হাসনাত, শাহে আলম মুরাদ, সাদেক খান, উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ।
সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত
এদিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সর্বস্তরে হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ সময় তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মোজাফ্‌ফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগ করার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এদিকে তথ্য অধিদপ্তরে দুপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সমাবেশস্থলের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। সমাবেশ ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দুপুর থেকে শাহবাগ ও উদ্যানে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই শাহবাগ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশে আইনশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। সড়কের দু’পাশ, আশপাশের মোড়, উদ্যানের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সোহওরায়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢোকানো হয় দেহ তল্লাশি করে। এ সময় দীর্ঘ লাইনে বহুক্ষণ ধরে অপেক্ষার পর তাদের সমাবেশস্থলে ঢুকতে হয়। বিকালের দিকে যখন উদ্যানের চারপাশের নেতাকর্মীদের ঢল নামে তখনও একইভাবে তল্লাশি চালানো হয়। ফলে হাজার হাজার নেতাকর্মী উদ্যানে না ঢুকে বাইরের সড়কে অবস্থান নেন। কর্মসূচি উপলক্ষে দুপুর থেকেই সোহরাওয়ার্দীর আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘুরিয়ে দেয়া হয় বিকল্প সড়ক দিয়ে। দুপুর দেড়টার পর থেকে কাওরান বাজার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি সমাবেশে নেতাকর্মীদের গাড়ি আসার জন্য সাধারণ যাত্রীবাহী যানচলাচল সীমিত রাখা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে পড়ে যাত্রীবাহী গাড়ি। বিকালে সমাবেশ ছেড়ে ফেরার সময়ও একই অবস্থা দেখা গেছে। এ সময় শাহবাগ, পরীবাগ, বাংলামটর এবং কাওরান বাজার মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ির জন্য শত শত যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সড়কে যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে গাড়িতে থাকা যাত্রীদেরও। সমাবেশ ঘিরে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন