যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমছে

শেষের পাতা

এমএম মাসুদ | ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
দেশভিত্তিক রপ্তানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার এ দেশটি। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, সার্বিকভাবে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি আয় ৪.৪৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৬০৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ডলার; যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ওই দেশে পণ্য রপ্তানির আয়ের তুলনায় ৭.১৯ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ডলার। এদিকে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমলেও জার্মানিতে পণ্য রপ্তানিতে আয় ২০.৮১ শতাংশ বেড়েছে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করে, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। ছয় মাসের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৩৭ কোটি ডলার। তবে তারচেয়ে আয় ৩.২৮ শতাংশ পিছিয়ে আছে দেশ।
আলোচ্য সময়ে দেশের প্রধান প্রধান পণ্যের রপ্তানি আয় ইতিবাচক আছে। তবে পোশাক খাতে গতি কম। এ কারণেই সার্বিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিও কম। পোশাক খাত থেকেই দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে। গত ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি করে দেশের প্রায় ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৩৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। ওই দেশে পণ্য রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে আয় হয়েছে ২৮১ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে জার্মানিতে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে জার্মানিতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আয় ২০.৮১ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। ওই দেশে পণ্য রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে আয় হয়েছে ১৬৬ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৭৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আয় ২.৯৩ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে পণ্য রপ্তানিতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে আয় হয়েছে ৯২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.০৬ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ওই দেশে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছিল ৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে স্পেনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আয় ৫.৬১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ওই দেশে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে স্পেনে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
এদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ভারতে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ওই দেশে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩২ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বছরের ব্যবধানে ভারতে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় বেড়েছে ৬.৩৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে চামড়া খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৯৩ শতাংশ বেশি। এ খাতের মধ্যে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ১৮ শতাংশ ও চামড়ার জুতা-স্যান্ডেল রপ্তানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১১.৫২ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১.১৯ শতাংশ। চিংড়ি রপ্তানি আয়ের গতিও উল্লেখযোগ্য। এ খাতে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৭.২৬ শতাংশ।
মাঝারি খাতের মধ্যে চামড়াজাত ছাড়া অন্যান্য জুতা-স্যান্ডেল, সবজি, ওষুধসহ কিছু পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে। অন্যদিকে পেট্রোলিয়াম উপজাত, তামাক, টেরিটাওয়েল, হালকা প্রকৌশল পণ্য, সিরামিক পণসহ কিছু ছোট ও মাঝারি খাতের রপ্তানি আয় কমে গেছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন