বছরে অগ্নি দুর্ঘটনার শিকার ৬ লাখ মানুষ প্রয়োজন সচেতনতা

এক্সক্লুসিভ

সালমা বেগম | ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
মুহূর্তের অসাবধানতা। বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার শিশুর। শিশুদের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে পিতামাতার অসাবধানতার কারণে। বিশেষ করে শীতের সময়ে গরম পানিতে পুড়ে যাওয়া শিশু রোগীর সংখ্যা থাকে বেশি। শীতকালে রান্নাঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকার কারণেও গ্যাস লিক হয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ইলেকট্রিক ডিভাইস, প্লাগ, সকেট এসব বাচ্চাদের নাগালে রাখায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এসব কারণে প্রতিদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে যোগ হয় নতুন নতুন শিশু রোগী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত  এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে সেবা নিয়েছেন। এসব রোগীর অর্ধেক শিশু। এটা তো শুধু ঢামেকের হিসাব। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আগুনে পুড়ে যায়। তবে একটু সচেতন হলেই এ সংখ্যা কমানো যায়। প্রতিমাসে প্রায় দুটি করে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শীতের সময় এই সংখ্যা বেড়ে যায়। শীতকালে আমরা রান্নাঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখি। যে কারণে গ্যাস লাইন থেকে অল্প অল্প গ্যাস লিক হয়ে জমে থাকে। সকালে কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এ চিকিৎসক বলেন, আমাদের দেশে ইলেকট্রিক ডিভাইস বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটছে। মোবাইল ফোনসহ যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জে লাগানো অবস্থায় ব্যবহার করলে অনেক সময় এসব বিস্ফোরণ হয়। সামন্ত লাল বলেন, ইলেকট্রিক বার্ন খুবই জঘন্য। আর যেকোনো পোড়া রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লাগে। পোড়া রোগীর চিকিৎসা ব্যয়বহুল। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গরিব মানুষ বেশি পুড়ে যায়। তবে এসব দুর্ঘটনা থেকে খুব সহজেই নিজেদের বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন এ চিকিৎসক। তিনি বলেন, গরম পানি পড়ে যেসব শিশু পুড়ে যায় তাদের মায়েরা একটু সাবধান হলে এই সংখ্যাটা কমে যেত। হাঁড়ির পরিবর্তে বালতিতে পানি ঢেলে নিলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যায়। চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে বিরত থাকা, রাতে হেডফোন খুলে ঘুমানো এবং শীতের সময় রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখলে পোড়া রোগীর সংখ্যা অনেক কমে যাবে। এছাড়াও জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য দুর্ঘটনার ছবিসহ জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করলে মানুষ সচেতন হবেন। তবে ঢাকার বাইরের বার্ন ইউনিটগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক, প্লাস্টিক সার্জন মো. রবিউল করিম খান পাপন বলেন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে অসচেতনতার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহারের পর গরম হয়ে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া মাইক্রোওয়েব ওভেন, আয়রন মেশিন, গিজার, ইলেকট্রনিক ট্যাব, হটওয়াটার ব্যাগ লিক, এসি থেকে শর্টসার্কিট হয়ে অনেক রোগী আসেন আমাদের কাছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাচ্চারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ফুটপাথ কিংবা রাস্তার পাশের রেস্তরাঁয় গরম তেলের ছিঁটা পড়ে পথচারী পুড়ে যায়। এরকম রোগী অনেক বেশি আসেন আমাদের কাছে। যেটা আমরা একটু সচেতন হলেই এড়িয়ে চলা সম্ভব। এক্ষেত্রে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা অনেক জরুরি।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা নবজাতকের নাম ‘শেখ হাসিনা’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে : নাসিম

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠালো সৌদি আরব

ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫

‘সরকার পচা চাল আমদানি করছে’

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি লিপ সার্ভিস দিচ্ছে’

অর্থ আত্মসাত মামলায় সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

‘সুন্দরী মেয়েদের ধর্ষণ করে সেনারা হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়’

রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ করার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জাতিসংঘকে ম্যাক্রনের আহ্বান

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব