গোয়াইনঘাটে মধু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

বাংলারজমিন

মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে | ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
আড়াই মাস পূর্বের কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আমাকে আমার ব্যবহৃত ল্যান্ড ফোনে ফোন দেন হবিগঞ্জ নবীগঞ্জের মধুচাষি নিয়ামুল হক। তিনি শীত মৌসুমে গোয়াইনঘাটের ফসলের মাঠে সরিষার সঙ্গে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু চাষের আগ্রহের কথা জানান। সরিষার সঙ্গে মধু চাষ এমন লাভজনক পদ্ধতির কথা শুনে তখন থেকেই উদ্যোগী হয়ে উঠি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার সব স্থানের কৃষক ও আইপিএম ক্লাবের সকল সদস্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে দেই। কৃষি থেকে অর্থনৈতিক লাভজনক ও স্বাবলম্বী হওয়ার এমন সুযোগ হাত ছাড়া হোক তা চাইনি।
সু-সংবাদটিকে গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে শুরু করি পরিকল্পনা। মধু চাষে আগ্রহীদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়াসহ সেই পরিকল্পনা শুরু করে এখনো পর্যন্ত চলছে মধু চাষ ও আহরণ প্রক্রিয়া। কথাগুলো বলছিলেন গোয়াইনঘাটের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম আনিসুজ্জামান। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মুসলিমনগর ও লাখের পারের নিম্নাঞ্চলের বাওন হাওরে মুসলিম নগর আইপিএম ক্লাবের সদস্যদের রোপায়িত সরিষার মাঠকে বেছে নিয়ে প্রাথমিক পাইলট প্রকল্প শুরু হয়। এরই মাধ্যমে সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটে শুরু হলো সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু চাষ। মৌমাছি দ্বারা আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরাও। সরিষা আবাদের পাশাপাশি শুরু হয়েছে মৌ-চাষ করে মধু সংগ্রহের অভিযাত্রা। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে সরিষার পাশাপাশি মধু উৎপাদন ও বিক্রি করে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ সৃষ্টি হওয়াতে শীতকালে সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ কৃষকদের মাঝে। মুসলিমনগর আইপিএম ক্লাবের কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর হাওরে ও বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে চাষ করা হয় সরিষা। আর এই সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষ করে কৃষিতেই বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। সরিষার আবাদের সঙ্গে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু চাষ প্রকল্পের উদ্যোক্তা ও গোয়াইনঘাটের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এম আনিসুজ্জামান জানান, সরিষা ক্ষেতের আইলে আইলে মৌ-চাষ বিষয়ে উপজেলার সাধারণ ও আইপিএম ক্লাবের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তিনি বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে সরিষার দানা পুষ্ট হয়। এতে সরিষার ফলনও বেশ ভালো হয়। সরিষা আবাদের পাশাপাশি মৌ-চাষে কৃষকদের বাড়তি আয়েরও সম্ভাবনার রয়েছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে আসা মৌ-চাষি নিয়ামুল হক জানান, বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মৌ-চাষ শুরু করেছেন। জাফলংয়ে বর্তমানে তিনি ৫৬টি মৌ-বাক্স স্থাপন করে প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে দুইবার প্রায় ২-৩ কেজি করে মধু সংগ্রহ করতে পারছেন। এখান থেকে উৎপাদিত খাঁটি প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়।  অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সরিষার ক্ষেতের মৌমাছি পালন করে মধু চাষ করার মাধ্যমে এখানকার চাষিরা আমার মতো বাড়তি আয় করতে পারেন।
গোয়াইনঘাটের কৃষিতে এ বাড়তি অর্থনৈতিক মুনাফের লাভের প্রকল্প হাতে নেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ যারা লাভজনক এমন মহতি উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের জন্য সাধুবাদ ও অভিনন্দন রইলো। আমার বিশ্বাস এই প্রকল্পের দ্বারা গোয়াইনঘাটের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরো ব্যাপক উন্নতির দিকে ধাবিত হলো। তিনি তার তরফে কৃষকদের এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার প্রস্তাব জাপানের

পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশের দাবি সংসদে

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!