মোদীকে দেশছাড়ার হুমকি

অনলাইন

| ১০ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার, ৩:২৬ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৬
নোট বাতিল এবং চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতাদের গ্রেন্তারি নিয়ে ফের বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার দুপুরে বর্ধমানে মাটি উত্সবের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার , ‘মোদীবাবু আপনি যেদিন ক্ষমতায় থাকবেন না , সেদিন ভারতের মানুষ আপনাকে কী করবে , আপনি সেটা নজরে রাখবেন৷ ’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘চুনোপুটি ’ নেতা বলে সম্বোধন করে তাঁকে কার্যত দেশছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিরোধিতার সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ‘দেশের মানুষ এদের একদিন ঘা .ড ধরে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে৷ তখন ওরা কেউ লন্ডনে পালাবে , কেউ আমেরিকায় পালাবে৷ ’ দিল্লিতে অবশ্য তৃণমূল সাংসদদের বিক্ষোভে অতটা ঝাঁজ ছিল না৷ জঙ্গিপনা ছেড়ে দিয়ে দিনভর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের সার্ভিস লেনের পাশে চেয়ারে বসে মোদী -বিরোধী স্লোগান দিয়ে গেলেন তৃণমূল সাংসদরা৷ সেটাও করলেন দিল্লি পুলিশকে আগাম চিঠি দিয়ে৷ এ দিন বর্ধমানের কালনা রোডে মাটিতীর্থ কৃষিকথা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মাটি উত্সব ’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতা আরও একবার আশঙ্ক প্রকাশ করে বলেন , নোট বাতিলের জেরে আগামী দিনে রাজ্যে দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে৷ গত দু’মাসে রাজ্য সরকারের প্রায় ২৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় কমেছে৷ ফলে আগামী দিনে সরকারি কর্মচারীরা মাস পয়লার বেতন পাবেন কি না , তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন৷ নোট ভোগান্তির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের কপালের ভাঁজ যে চও .ডা হবে , তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ কোনও রাখঢাক না -রেখেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খোলার জন্য শিল্পপতিদের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , যা একেবারেই নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ সেই তথ্য দিয়ে মাটি উত্সবে আমন্ত্রিত বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর এই লড়াইয়ের শরিক হওয়ার জন্য সরসরি শিল্পপতিদের আহ্বান জানান৷ মঞ্চে বসে থাকা বণিকসভার প্রতিনিধিদের অস্বস্তি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ‘চেম্বাররা চুপচাপ বসে আছে কেন ? শিল্পকর্তারা কিছু বলছেন না কেন ? সিবআই করবে ? আইটি করবে৷ আমাদের করছে না৷ তাতে কী যায় আসে ? মোদীবাবু ভারতবর্ষে কত জেল তৈরি করতে পারে , একবার দেখতে চাই৷ ’নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই গরমাগরম ভাষণ অবশ্য এই প্রথম নয়৷ ঠিক আড়াই বছর আগে লোকসভা ভোটের মুখে মোদীকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর হুমকি দিয়েছিলেন মমতা৷ সেই সময় মোদী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী৷ পরবর্তিকালে এ রাজ্যে নির্বাচনী সফরে এসে মোদী ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন , মোদীকে যে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হবে , তার টেন্ডার ডাকা হয়েছে তো? মমতার মম্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন , ‘মমতা কতদিন ক্ষমতায় থাকবে , সেটাই দেখার৷ ওঁর যে অবস্থা , তাতে ২০২১ পর্যন্ত সরকারটা টেনে নিয়ে যেতে পারবেন কি না , সন্দেহ আছে৷ মোদী কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন , সেটা অনেক পরের ব্যাপার৷ ওঁর না ভাবলেও চলবে৷ ’ নোট বাতিলের ইস্যুতে তৃণমূল সরব হওয়াতেই যে , কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআইকে দিয়ে তাঁর দলের নেতা -মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করছে , সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কিংবা তাঁর দল নোট বাতিলের বিরোধিতার রাস্তা থেকে সরছে না বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন৷ মমতা বলেন , ‘প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাস৷ চক্রান্তকারী দল৷ ‘কনস্পিরেসি ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন ’ (সিবিআই ) তৈরি করেছে৷ একটা ব্যাক অফিস তৈরি করেছে৷ কোনও তথ্য -প্রমাণ নেই৷ কিন্ত্ত জোর করে লিখিয়ে নিচ্ছে৷ ’দিল্লিতে প্রথম দু’দিন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ও অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর পর এখন তো ছোটখাট কোনও জায়গায় প্রতিবাদ দেখাতে যেতে পারেন না তৃণমূল সাংসদরা৷ সাধারণত , বিক্ষোভ ছোট থেকে ক্রমশ বড় আকার নেয়৷ কিন্ত্ত এখানে অন্তিম সিদ্ধান্তটা আগে নিয়ে নিয়েছেন তাঁরা৷ তাই আপাতত পুলিশি প্রহরায় সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একপাশে বসে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল সাংসদরা৷ পরপর দু-বার বোকা হয়ে যাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ এ দিন আগাগোড়া সতর্ক ছিল৷ তৃণমূল সাংসদদের এক মূহূর্তের জন্যও নজরছাড়া করেনি পুলিশ৷ কিন্ত্ত দীনেশ ত্রিবেদী , মুকুল নায় , ডেরেকরা পুলিশকে বোঝান , তাঁরা সারাদিন এখানেই বসে বিক্ষোভ দেখাবেন৷ অন্য কোথাও যাবেন না৷ তাই গুচ্ছের কর্মী , বাস সবকিছু থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত চুপচাপ দেখতে থেকেছে পুলিশ৷ আর পুরো বিক্ষোভ দু’জন পুলিশ ভিডিয়ো তুলে নিয়ে গিয়েছেন৷ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ’ব্রায়েন জানিয়েছেন , মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে ছ-টা পর্যন্ত তাঁরা ধর্না দেবেন৷ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের রাস্তার পাশে পার্ক, তার পর বেশ চওড়া ফুটপাথ , তার পর সার্ভিস লেন , সেটার পর সাংসদদের ফ্ল্যাট৷ এখানেই পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকেন অভিষেক , ডেরেক , মুনমুন , সন্ধ্যা রায়রা৷ মুকুল রায় কেবল একটা বাংলোয় থাকেন৷ মনুমুন সেনের ফ্ল্যাটের সামনের ফুটপাথে শুরু হল বিক্ষোভ৷ তিনি অবশ্য হাঁটুর ব্যথায় কাতর বলে ধর্নায় ছিলেন না৷

সুত্রঃ এই সময়
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন