যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট

ট্রাম্পকে জেতাতে চেয়েছিলেন পুতিন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং নিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক অফিস তাদের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ২৫ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্টে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া যে বহুবিধ উদ্যোগ নিয়েছিল তার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এতে শুধু গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপসংহার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ও ডেমোক্রেট হিলারি ক্লিনটনকে হেয় করতে চেয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও তার সরকার। গোয়েন্দা সংস্থার এ রিপোর্টকে আনক্লাসিফায়েড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
এসব বিষয়ে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফিং করা হয়েছে। তারপর থেকেই তিনি রাশিয়া ইস্যুতে চুপ করে গেছেন। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল এ বিষয়টি তিনি বার বারই অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ওই ব্রিফিংয়ের পর তিনি সুর পাল্টেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শুক্রবার ২৫ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্টে পরিষ্কার করে বলেছে, ট্রাম্পের পক্ষে পুতিনের অবস্থান নেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রকে হেয় করার দীর্ঘদিনের বাসনা রয়েছে মস্কোর। সেটাই ফুটে উঠেছে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব বিস্তারের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনআস্থাকে খর্ব করা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থিতায় ক্ষতি করা। উপরন্ত ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে পরিষ্কার পক্ষপাতিত্বমুলক অবস্থান নিয়েছিলেন পুতিন ও তার সরকার। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুতিন ও তার সরকার ডনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য সহায়তা করেছিল। হিলারি ক্লিনটনকে তার দুর্বল প্রতিপক্ষ করার জন্য প্রকাশ্যে চেষ্টা করেছিল। এ যুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গোয়েন্দা সংস্থাই একমত হয়েছে। এ রায়ের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আস্থা প্রকাশ করেছে সিআইএ এবং এফবিআই। আস্থা রয়েছে এনএসএ’রও। এতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি ও এর শীর্ষ ডেমোক্রেটদের ইমেইল হ্যাকিং হয়েছিল। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যেসব তথ্য তারা পেয়েছিল তা উইকিলিকস, ডিসিলিকস ডট কম, গুসিফার ২.০ ব্যবহার করে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছেও প্রায় একই রকম একটি রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বার বারই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হ্যাকিং তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাকে ব্রিফিংয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেছেন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন রাশিয়ার হ্যাকিংয়ের কথা। বলেছেন, এতে নির্বাচনের ফল কোনোভাবে প্রভাবিত হবে না। শুক্রবার এ বিষয়ে ট্রাম্প টাওয়ারে তাকে ব্রিফিং করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালক জেনারেল জেমস ক্লাপার, সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান। এফবিআই পরিচালক জেমস কমি। আগামী ২০শে জানুয়ারি শপথ নিচ্ছেন ডনাল্ট্র ট্রাম্প। তিনি গোয়েন্দাদের সঙ্গে এই বৈঠককে গঠনমুলক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

‘বিয়ে তো ধুমধাম করে সবাইকে জানিয়েই করব’

রাজনীতিতে নামতে চান ছহুল হোসাইন

বিজয় দিবসে দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ