তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, অবরোধ

সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সিবিআইয়ের হেফাজতে

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০১
তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিক্ষোভ, অবরোধ আন্দোলন শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বহু জায়গাতেই এই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপও নিয়েছে। দিল্লিতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে বিক্ষোভ অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। এই খবর লেখা পর্যন্ত ৩৪ জন সাংসদকে তুঘলক রোড থানায় আটকে রাখা হযেছে। দুই সাংসদের গ্রেপ্তারের পর দল যে চুপ করে বসে থাকবে না, প্রতিবাদ যে হবে মঙ্গলবারই তা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথামতো বুধবার সকাল  থেকেই পশ্চিমবঙ্গেও জেলায় জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ। সিউড়ি  থেকে সোদপুর, ডানকুনি থেকে দুর্গাপুর, আসানসোল থেকে আলীপুরদুয়ার, সর্বত্র দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। মিছিল, বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ তো রয়েছেই, বিভিন্ন জেলায় রেল ও সড়ক অবরোধও করা  হয়েছে। গত মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাতেই ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার সেখানে তাঁকে সিবিআই বিশেষ আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানেও তৃণমূল কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এদিন আদালতে সিবিআই সুদীপের ১২ দিনের হেফাজত চাইলেও বিচারক ৬ দিনের সিবিআই হেফাজত মঞ্জুুর করেছেন। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি কি কারণে সুদীপকে আরও জেরা করা দরকার তার কারণগুলি ব্যাখ্যা করেন। পাল্টা সুদীপ নিজেই তাঁর সওয়ালে বলেছেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে। সুদীপকে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তাপস পালের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে এবার জেরা করা হবে বলে জানা গেছে। রোজভ্যালির পাশাপাশি সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জড়িত বলে মনে করছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা । সিবিআই-এর যে দলটি সারদা কা-ে তদন্ত করছে, তারাও এবার সুদীপকে জেরা করতে পারেন বলে সিবিআই সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই তাপস পালের কন্যা সোহিনী পালকেও সিবিআই ভুবনেশ্বরে ডেকে পাঠিয়ে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সোহিনী রোজভ্যালি সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কিছুদিন চাকরি করেছেন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীরা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছে দেখা করে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন। চিটফান্ড জালিয়াতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে গ্রেপ্তার করার দাবিও রাজ্যপালের কাছে পেশ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বিজেপি’র দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর তীব্র নিন্দা করেছেন তাঁরা। পরে সাংবাদিকদের পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে বিজেপি দপ্তরে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙা হচ্ছে বলে আমরা রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি আরো বলেছেন, আমরা অবাক! বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, তাঁদের অফিস বাঁচাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনতে হবে। আর তার জন্যই নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। মঙ্গলবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কর্মীরা রাজ্য বিজেপি’র সদর দপ্তরের কাছে বিক্ষোভ শুরু করেছিল। সেই সময় বিজেপি কর্মীরা বাধা দিলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সেন্ট্রাল এভিনিউ, মুরলীধর সেন লেন এবং সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও রাত পর্যন্ত বিজেপি দপ্তর ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যেই বিজেপি অফিসে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়। বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ জানিয়েছেন, তিনি সিআরপিএফ নিরাপত্তা পান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তাঁকে নিরাপত্তা দিতেই বিজেপি অফিসে সিআরপিএফ আনানো হয়েছিল। এদিকে বিজেপি ও এবং বাম নেতারাও আলাদা আলাদাভাবে রাজপালের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল কংগ্রেসের হিংসাত্মক আন্দোলনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজেপি নেতারা রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ দেখানোর নামে রাজ্যের মোট ১৭টি জায়গায় তাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে  বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, এত তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তোলার সময় আসেনি। তবে, এমনটা চলতে থাকলে সেই আবেদন আমাদের জানাতে হবে। তৃণমূল কর্মীরা এ দিন উত্তর কলকাতার কৈলাস বোস স্ট্রিটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিজেপি’র অভিযোগ, তৃণমূলের প্রচুর কর্মী-সমর্থক দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। পরে বাবুল একটি ভিডিও পোস্ট করে জানিয়েছেন, বাড়িতে তখন বাবা-মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। ওরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। আমরা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তিন দিন ধীরগতি থাকবে ইন্টারনেটে

সন্তানকে ফিরে পেতে বাবা-মায়ের আকুতি

‘সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে রোহিঙ্গা, তিস্তা ইস্যু থাকবে’

কে এই কিংবদন্তী নর্তকি ও গুপ্তচর মাতা হারি?

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্থায়ী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান স্পিকারের

রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহে ডোনার কনফারেন্স করবেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা

ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

‘ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্তের অধিকার সবারই আছে’

ঢাকায় আসছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো

আবারো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র-ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে মৌলভীবাজারের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন

যুদ্ধ নয় আলোচনায় সমাধান

সিইসি’র বক্তব্য কৌশল হতে পারে

আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর হঠাৎ সংলাপ বয়কট

বর্মী সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা