ধার মেটাতে পাকিস্তানে ক্রীতদাসী মেয়েরা

রকমারি

| ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৮
ধার মেটাতে একজিন ১৪ বছরের কিশোরী জীভতিকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মহাজন। বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় একজনের সঙ্গে । আর বাড়িতে ফিরে আসেনি সে। মেয়ে জীভতির বয়স কত হল তা সঠিকভাবে বলতে পারেন না মা আমেরি কাশি কোহলি। পাকিস্তানে তো বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ গরিবদের নেই। পুরানো একটা টিনের ট্রাঙ্ক হাতড়াতে হাতড়াতে বললেন, সেই যে বছর ভূমিকম্প হল, সে বছর ওর বোনের জন্ম হয়েছিল তখন ওর বয়স ছিল ৩। ট্রাঙ্কে রাখা কয়েকটা কাপড়-চোপড়, চাদর, রুপোর কয়েকটা মামুলি গয়নার মধ্যে থেকে কিশোরী মেয়ে জীভার ছবি বের করে আনলেন তিনি। আমেরি জানিয়েছেন, জমিতে চাষের জন্য তাঁরা প্রথমে ৫০০ ডলার ধার করেছিলেন। কিন্তু বুঝতে পারেননি সেই ধার চক্রবৃদ্ধিহারে এমন হয়ে যাবে যে তা আর কোনওদিন শোধ হবে না। ঋণের জালে জড়িয়ে পড়তে হল সারাজীবন।

দক্ষিণ পাকিস্তানে এটা খুবই পরিচিত ঘটনা। একবার ঋণ নিলে তার ফাঁস থেকে আর বেরোনো যায় না। আর এখানে আমেরি ও তাঁর মেয়েরা সম্পত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। ঋণ শোধ, বিবাদ নিষ্পত্তি বা কোনও জমিদার যদি তার শ্রমিকের ওপর শোধ নিতে চায় তাহলে প্রথম কোপটাই নেমে আসে জীভতিদের ওপরই। অনেক সময় ঋণভারে জর্জরিত বাবা-মাই মহাজনের হাতে তুলে দিয়ে আসতে বাধ্য হন মেয়েকে।

এরপর তাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বাড়িতে কাজের জন্য রাখা হয়। কখনও কখনও দেহব্যবসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় লালসা চরিতার্থ করতেও কিশোরী মেয়েদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমেরী বলেছেন, পুলিশ ও আদালতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের কথা কেউ শোনেইনি। জমির মালিক বলেছে, জীভতিকে এখন ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তাই ওকে আমেরীরা আর ফিরে পাবেন না।

২০১৬-র গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স সমীক্ষা অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ক্রীতদাসত্বের ঘানি বয়ে চলেছে। সারা বিশ্বে পাকিস্তান এক্ষেত্রে প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে রয়েছে। ওই ক্রীতদাসদের কেউ জমিতে, কেউ ইঁট ভাটায় আবার কেউ কেউ বাড়িতে কাজ করে। মারধর তো আছেই অনেক সময়ই তারা যাতে পালাতে না পারে, এজন্য শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

ওই ক্রীতদাসদের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছে গ্রীন রুরাল ডেভেলাপমেন্ট অর্গানাইজেশন। সংস্থার প্রধান গুলাম হায়দর ক্রীতদাসদের এই অবর্ণনীয় দুঃখকষ্টের কথা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ এশিয়া পার্টনারশিপ অর্গানাইজেশনের হিসেবে অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১০০০ সংখ্যালঘু নাবালিকাকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হায়দর জানিয়েছেন, জমির মালিক ও মহাজনরা বেছে বেছে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকেই তুলে নিয়ে যায়।

জীভতিদের  বাবা-মায়ের কান্না পাক প্রশাসনের বধির কানে কোনওদিনও পৌঁছয় না। তাই পাক সামন্ততন্ত্রের এই বিভীষিকা  থেকে জীভতিরা কবে মুক্তি পাবে, তার উত্তর কারুর জানা নেই।

সুত্রঃ এবিপি আনন্দ
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shibli

২০১৬-১২-২৫ ০৭:১৫:৪১

Pakistan is a not a country. It is a land mass composed of partially civilized tribes. India, Iran, China should divided that land among themselves and help them become civilized.

কাফী

২০১৬-১২-২৪ ২৩:২৬:৩১

রেণ্ডিয়ার বাজে খবর...

Kazi

২০১৬-১২-২৪ ২৩:১২:১০

পাকিস্তান এমন একটি দেশ যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্ছলে আজও সভ্যতার আলো পৌছেনি। অধিকাংশ লোকই ফাকি বাজ। দেশের শিক্ষিত সমাজও তা দূর করার চেষ্টা না করে পূর্ব পুরুষের ফাকিবাজি বজায় রেখে ফায়দা লুটের দিকেই মনোযোগ বেশী। পাকিস্তানের অবনতির কারণ এই পশ্চাৎমুখী মনোবৃত্তি । It is blessings of Allah that we are no more part of that country. .

আপনার মতামত দিন