কফি হাউসের সেই আড্ডাটায় এবার সিসিটিভি ক্যামেরা

রকমারি

| ২২ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০২
বইপাড়ার কফি হাউসে ক্লোজ্ড সার্কিট টিভি ক্যামেরা। কফি হাউসে ঢোকার প্রধান প্রবেশদ্বার, দোতলা এবং তিনতলার হলঘরের দরজার বাইরে, হলঘরের বিভিন্ন কোণে সম্প্রতি মোট ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্যামেরাগুলি ‘মনিটর’ করা হচ্ছে দোতলার অফিস থেকে।
কফি হাউসের পরিচালক সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান কফি ওয়াকার্স কো-অপারেটিভ লিমিটেডে’র সম্পাদক তেজকুমার বেরা এ প্রসঙ্গে বুধবার বলেন, ‘‘আমরাই কফি হাউস সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। আমাদের মনে হয়েছে, কফি হাউসের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। তাই বসিয়েছি।’’
কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নন অনেকেই। ১৯৮২ সাল থেকে নিয়মিত কফি হাউসে আসেন সীতাংশু শেখর। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনার মানুষজন এখানে আসেন। তাঁদের চিহ্নিত করতেই প্রশাসন কফি হাউস কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।’’ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী কাল, শুক্রবার কফি হাউসের সামনে
প্রতিবাদ-কর্মসূচি নিয়েছেন ওই আড্ডাঘরপ্রেমীদের একাংশ।

কফি হাউস, বসন্ত কেবিন-সহ কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় অতিবাম সংগঠনের কর্মীরা জড়ো হন বলে গত কয়েক বছরে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সাম্প্রতিক অতীতে শহরের থানাগুলিকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, রাস্তা এবং দোকান নজরদারি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় থানার তরফে এ নিয়ে কফি হাউস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয় বলেও একাধিক সূত্রের দাবি।
যদিও এধরনের চাপের কথা অস্বীকার করেছেন কফি হাউস কর্তৃপক্ষ। তেজকুমারের কথায়, ‘‘এর মধ্যে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই। পুলিশের তরফে আমাদের কিছু বলা হয়নি।’’
প্রায় ৮০ বছরের পুরনো আড্ডাঘরে এই ‘নজরদারি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ নকশালপন্থী নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বুধবার বলেন, ‘‘ছাত্রাবস্থা থেকেই দেখেছি, কফি হাউস মুক্তচিন্তার পীঠস্থান। সেখানে এই জাতীয় নজরদারি ফাশিস্তসুলভ পদক্ষেপ।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘রাজনৈতিক কর্মীদের চিহ্নিত করতে কফি হাউস কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে রাজ্য সরকার।’’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা শিক্ষাবিদ সৌরীন ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘পাঁচের দশক থেকে কফি হাউসে যাচ্ছি। অত্যন্ত অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত।’’
তবে সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্তে আপত্তির কিছু দেখছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘একজন নাগরিক হিসাবে বলতে পারি, রাষ্ট্র বা কর্তৃপক্ষ মনে করলে নজরদারি করতেই পারে।’’

সুত্রঃ এবেলা
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন