সৌদি আরবে শ্রমিক প্রেরণ, বাস্তবতা

প্রবাসীদের কথা

কাজী মহসিন, দোহা থেকে | ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৬
সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা উন্মুক্ত  করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরীত রেমিট্যান্সে ভর করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক বলা যায়। বাংলাদেশ সরকারের কুটনৈতিক তদ্বিরের প্রেক্ষিতে কাজের জন্য সৌদি আরব যাওয়া বাবদ একটি সর্বোচ্চ খরচ জন প্রতি এক লাখ পঁয়ষট্টি হাজার টাকায় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সরকারের তরফে এই খরচের চেয়ে বেশী অর্থ আদায় করা হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সরকার নির্ধারিত খরচের চাইতেও প্রায় চারগুণ টাকা ( ছয় থেকে সাত লাখ) বেশী দিয়ে লোকজনকে সৌদি অারবে পাঠানোর সচিত্র সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা অাদায়কারীদেরকে সরকার কঠোর হুঁশিয়ারী দিলেও সেটা ঐ হঁশিয়ারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মানুষকে জিম্মী করে এই হরিলুটের সাথে জড়িত " গায়েবী গোষ্ঠী "কে কারা দমন করবে  ?
যারা এত বড় অংকের টাকা খরচ করে সৌদি আরব কিংবা অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোতে সোনার হরিণ ধরার প্রত্যাশায় পাড়ি জমাচ্ছেন, অথবা পাড়ি জমানোর জন্যে চিন্তা ভাবনা করছেন, তাদেরকেও ঐ সব দেশে কর্ম সংস্থান,  সার্বিক বিষয়াদি অারও গভীর ভাবে চিন্তা ভাবনা করার অনুরোধ করছি, কারণ তেলের মূল্য হ্রাস হওয়ায় অারব বিশ্ব,  বিশেষ করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাব  বিগত বছরগুলোতে খুবই প্রকট অাকার ধারণ  করেছে। এখানে কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ফলে বিদেশী শ্রমিকদের মাঝে বেকারত্বও বহুগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি তুলনামূলক  স্বল্প খরচে নেপাল অার শ্রীলংকার শ্রমিকরা অধিকহারে এসব দেশে কাজের উদ্দেশ্যে এসে পড়ায় কাজের ক্ষেত্রেও প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে  তুমুল প্রতিযোগীতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন