যেভাবে টিভি-স্মার্টফোন শিশুদের ভবিষ্যত নষ্ট করছে

রকমারি

| ২০ ডিসেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৪
বাচ্চা খেতে চাইছে না। অমনি টিভি চালিয়ে একগুচ্ছ কার্টুন বা গানের আড়ালে চলল তার খাওয়া। বহু অভিভাবকদের গর্ব করে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বাচ্চা এই বয়সেই মোবাইল বিশারদ হয়ে উঠেছে। কোন ফোল্ডারে কী আছে, কোথায় কোন গেম আছে সব মুখস্থ।’ তবে পড়াশোনায় কথায় সেই অভিভাবকদেরই বলতে শোনা যায়, ‘এখন তো ছোট। স্কুলে গেলে সব করবে।’ এঁরা নিজেদের অজান্তেই শিশুদের ভবিষ্যত্‍ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স-এর একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেড় বছরের নীচের কোনও শিশুরই মোবাইল বা টিভি স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি অত্যন্ত খারাপ। আর এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরই সচেতন হতে হবে। শিশু ছোট থাকা অবস্থায় অ্যাপ বা গেম, ভিডিয়ো, চ্যাটিং ইত্যাদির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সম্ভব হলে তা বাচ্চার সামনে না করাই শ্রেয়। এটাই পরবর্তীকালে মারাত্মক ‘নেশায়’ পরিণত হবে যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ ফলে যা যা হয় তা দেখলে নিজেরাই অনুভব করতে পারবেন।১) কল্পনাশক্তি হারিয়ে যাওয়া: ঠাকুরমার ঝুলি বা ব্যাঙ্গোমা ব্যাঙ্গোমি এখন আর বইয়ের পাতায় কোনও বাচ্চা পড়ে না। তার জন্য টিভিতে কার্টুন বা সস্তায় মেলা ডিভিডি রয়েছে। ফলে বই পড়ে নিজেদের কল্পনাশক্তি আর কে খরচ করে বলুন! তার ওপর এখন অভিভাবকদের কাছেও সময় নেই, যে এখ দণ্ড বাচ্চার সঙ্গে বসে বই পড়েন। নিউক্লিয়ার পরিবারের ফাঁদে দাদু-দিদারাও এখন তফাতে। ফলে ভুগছে সেই শিশুরা। এরা যত বেশি মোবাইল বা টিভির প্রতি অনুরক্ত হয় তত এদের কল্পনাশক্তি হারিয়ে যায়। খুব কাছের জিনিসের সঙ্গেও তারা নিজেদের মেলাতে পারে না।২) অসামাজিক হয়ে পড়া: এই আসক্তির ফলে অসামাজিক হয়ে পড়ে বাচ্চা। কারণ তাদের সমস্ত মনোযোগ শুধুমাত্র মোবাইল বা টিভির দিকেই থাকে। ফলে সে সময় অন্য কোনও ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত রয়েছে কিনা, বা সে বাড়ির বাইরে কোনও জায়গায় বেড়াতে এসেছে কিনা সে সব মাথায় থাকে না। এই বাচ্চারা হয় অন্য কোনও বাচ্চাকে মারবে-উত্যক্ত করবে, অথবা অন্য বাচ্চাদের হাতে তাদের নিগ্রহ হবে। অন্তত গবেষণা তাই বলছে।৩) অতিরিক্ত ওজন: সারা ক্ষণ মোবাইল বা টিভি নিয়ে মেতে থাকার ফলে বাচ্চাদের মধ্যে খেলার ইচ্ছেটাই আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়। ছোটবেলার অভ্যাস যখন ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয় তখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে। গবেষণা বলছে, এ সব বাচ্চারা অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার মধ্যেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা ভোগে। তার সঙ্গে টিভি দেখার সময় স্ন্যাক্স এবং চিনিযুক্ত ড্রিঙ্ক পান করা পছন্দ করে। ফলে অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় মোটা হওয়ার এদের ৪৩ শতাংশ প্রবণতা বেশি থাকে।৪) কম ঘুমনো: ওজন বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ কম ঘুম। যে সমস্ত বাচ্চাদের হাতে অল্প বয়সেই নোবাইল দেওয়া হয় রাতে ঘুমের সময় কোনও নোটিফিকেশন বা এসএমএসের জন্য ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ফলে রাতে বারবার তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এ ফলে প্রয়োজনীয় ঘুম থেকে বঞ্চিত হয় তারা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত বাচ্চারা ৭ ঘণ্টার কম ঘুমোয় তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা থাকে। তুলনায় ৭-৯ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমনো বাচ্চারা অনেক ফিট থাকে।৫) চোখের সমস্যা: এটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। দিনের মধ্যে অনেকটা সময় মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর ভীষণ চাপ পড়ে। বিশেষত কম আলোয় একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পলক পড়ার হার কমে যায়। যার ফলে চোখে যন্ত্রণা, ড্রাই আইস-এ সমস্যা হয়। এটাই পরবর্তীকালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার অন্যতম কারণ হয়। সমীক্ষা বলছে, প্রতি ৮ জন বাচ্চার মধ্যে একজন ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা ঠিকমতো পড়তে পারে না। তার ফলে কম বয়সে চশমার সাহায্য নিতে হয়।৬) পরীক্ষায় খারাপ ফল: সমীক্ষার প্রকাশ, অনলাইন লার্নিং মডিউলের ফলে পরীক্ষায় ফল খারাপ হচ্ছে শিশুদের। যত বুদ্ধিমান বাচ্চাই হোক না কেন, হাতে ল্যাপটপ থাকার কারণে বেশ খানিকটা সময় সোশ্যাল মিডিয়া, মেইল পড়া, ভিডিয়ো দেখা ইত্যাদিতে সময় নষ্ট করে ফেলে। তার প্রভাব গিয়ে পড়ছে রেজাল্টে। সমীক্ষায় আরও প্রকাশিত হয়েছে, ল্যাপটপে নোট নেওয়ার চেয়ে হাতে লিখে নোট নিলে তা মনে রাখা এবং বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

সুত্রঃ এই সময়
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন