প্রবাস জীবন: ইথিওপিয়া

প্রবাসীদের কথা

হেলাল এহসান | ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার
জন সংখ্যার দিক থেকে ইথিওপিয়া আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। লোক সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। আফ্রিকা ইউনিয়ন এর সদর দফতর ইথিওপিয়া তে হওয়ায় এর রাজনেইতিক গুরুত্ব অনেক বেশী। এখানে মোটামুটি ১১৮ টি দেশের দূতাবাস রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এখানে কাজ শুরু করেছে গত এপ্রিল থেকে। ইথিওপিয়া তে বাংলাদেশীদের সংখ্যা খুব কম, এদের বেশীর ভাগ কাজ করছেন জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, বা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি তে।
ইথিওপিয়া তে আমি কাজ করছি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার এ গত ২০১৩ থেকে। আমরা ফ্যামিলি নিয়ে আছি প্রায় গোটা দশেক পরিবার। পালা করে কারো না কারো বাসায় আমরা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একত্রিত হই। আমাদের নিজেদের মধ্যে তাই হৃদ্যতা অনেক বেশী। আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রদূত মনির ভাই এবং প্রভা ভাবী আমাদের সব আয়োজনে সব সময় পাশে থাকেন। এখানে আমরা সবাই মিলে একটি বড় পরিবার।
গতকাল ১০ই ডিসেম্বর ছিল ইথিওপিয়া তে ডিপ্লোম্যাটিক বাজার। প্রতি বছর এই দিনটি ইথিওপিয়া তে পালিত হয় এই দিনে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস তুলে ধরার জন্য। গত দুই বছর ইছে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের দুতাবাস না থাকায় আমদের বাংলাদেশের স্টল করতে দেয়া হয় নাই। এই বছর যখন বাংলাদেশ দূতাবাস যখন এপ্রিল এ হয় তখনি আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ভাবেই হোক আমরা বাঙালিরা এই বছর ডিপ্লোম্যাটিক বাজার এ অংশ নেব এবং আমাদের দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস পৃথিবীর ১১৮ টি দেশের সামনে তুলে ধরবো।
মাননীয় রাষ্ট্রদূত এর স্ত্রী প্রভা ভাবির নেতৃত্বে আমার স্ত্রী বৃষ্টি, ও ইমতিয়াজ ভাই এর স্ত্রী স্বর্ণা ভাবি এই তিনজনের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা প্রথমবারের মত ইথিওপিয়া তে ডিপ্লোম্যাটিক বাজার বাজার এ বাংলাদেশের স্টল দিতে পারলাম। প্রতিটি মানুষ যখন আমাদের স্টলের সামনে এসে বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণ করছিল তখন আমাদের বুক গর্বে ভরে উঠছিল। অনেকে তাদের বাংলাদেশে থাকার গল্প বলছিল, বাংলাদেশের জন্য তাদের ভালোবাসার কথা বলছিল। সবচেয়ে মজার ছিল যখন তারা ভাঙা ভাঙা বাংলায় আমাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিল। প্রায় হাজার দশেক বিভিন্ন দেশের নারী পুরুষের অংশ গ্রহণে অত্যন্ত সার্থক একটি আয়োজন করতে পেরে খুব ভাল লেগেছিল আমাদের।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

probashi - rayhan

২০১৬-১২-১১ ২২:৫৩:০৯

haaaaa heeeee

আপনার মতামত দিন