শেষটা ভাল করতে পারবে তো ইসি?

মত-মতান্তর

কাজী রুনা, কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক থেকে | ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার
আরো একটি নির্বাচন উপহার দিতে যাচ্ছেন কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের কমিশন। আগামি ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি  ও আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। আর প্রথমে দোটানায় থাকলেও পরে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানকে। এ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের বিবাদ দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগী হয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ সময় তিনি অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে নির্বাচনে জয়ী হতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেন। আর বর্তমান অবস্থায় এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না বর্জন এ নিয়ে দোটানায় ছিলো বিএনপি। পরে দফায় দফায় বৈঠকের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
দু’ দলের অবস্থান দেখে  অপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এ নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে  প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ। তাই নাসিকের এ নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে জনগনের ভোটাধিকার রক্ষা করা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। যদিও এর আগের নির্বাচনগুলোতে সেই দায়িত্ব পালনে বারবারই ব্যর্থ হয়েছে।
কাজী রকিবউদ্দিনের  নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামি ফেব্রুয়ারিতে। এ কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন সহ সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর একের পর এক বিতর্কিত হয়েছে এ কমিশন। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই এ কমিশন প্রথম আয়োজন করেছিলো চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু ছিলো। চার সিটি নির্বাচনের আগে বিএনপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনলেও আদতে তা ধোপে টেকেনি। চার সিটি নির্বাচনের পরে ওই সময়ে নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর জনগণের আস্থা ও নিরেপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পেরেছিল।
কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা ছিলো ঠিক তার উল্টো। ওই নির্বাচনে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে নানা অনিয়ম আর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় প্রানহানি ঘটেছে দুই শতাধিক মানুষের।
এরকম রেকর্ডের পরও আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ জনগন আশাবাদী। তারা মনে করে অতীতে যাই ঘটুক না কেন এ কমিশন এবার একটি ভাল নির্বাচন আয়োজন করবে, যাতে জনগনের ভোটাধিকার রক্ষা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

হলিউডে যৌন নির্যাতন ও একটি হ্যাসট্যাগ

আমাজন স্টুডিওর প্রধান কর্মকর্তার পদত্যাগ

চট্টগ্রামে মহাসড়কের পাশে নারীর লাশ

চট্টগ্রামে হোটেলে জুয়ার আসর, ব্যবস্থাপকসহ আটক ৬২

‘আওয়ামী লীগ ইসিকে স্বাধীনতা প্রদান করেছে’

বাংলাদেশেও সেখানকার মতো বিচার ব্যবস্থা দেখতে চান

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে আহত দুই পুলিশ

‘দর্শকরা একজন শিল্পীর কাছে সব সময় ব্যতিক্রমী কিছু দেখতে চায়’

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

বিতর্কে নয়া রসদ

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর