বাবাকে বাঁচাতে সুন্দরবনের বাঘের সঙ্গে লড়াই

রকমারি

| ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৫
বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাবাকে তার মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনলেন দুই ছেলে৷ তাঁদের সঙ্গত দিলেন এক ছেলের স্ত্রীও৷ লাঠির বাড়ি খেয়ে রণে ভঙ্গ দিল রয়াল বেঙ্গল টাইগার৷ ছেলে -বৌমাদের সাহসিকতায় প্রাণ ফিরে পেলেন ষাটোর্ধ্ব ধীবর গুরুপদ ভুঁইয়া৷ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের বাতাকাঠি জঙ্গলের ধারে ঠাকুরান নদীর চরে৷ মাথার উপর পনেরো জনের সংসারের ভার৷ সেই কারণেই এই বয়সেই আজও নিয়মিত সুন্দরবনের জঙ্গলে , নদীর খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে যান গুরুপদ৷ গত তিরিশ বছর ধরে তিনি বাপ -ঠাকুরদার মতোই কাঁকড়া ধরে সংসার নির্বাহ করছেন৷ বাবার বয়স হওয়ায় তিন ছেলে উত্তম , গৌতম ও তপনও মাঝে মাঝে গুরুপদর সঙ্গী হন৷ আবার কখনও কখনও তিন বৌমাও স্বামী -শ্বশুরের সঙ্গে জঙ্গলে চলে যান৷ গুরুপদর স্ত্রী সন্ধ্যাদেবী বাড়ি ঘর সামলানোর কাজ করেন৷ রবিবার রাতে কাঁকড়া ধরতে গুরুপদ তিন ছেলে ও বড় ছেলে উত্তমের স্ত্রী মায়ারানিকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন৷ কুলতলি ব্লকের কিশোরীমোহনপুর গ্রামের পাঁচ নম্বর ঘেরি বসত বাড়ি থেকে সোমবার সারা দিন ধরে ঠাকুরানি নদীতে কাঁকড়া ধরেন সকলে মিলে৷ সন্ধ্যার পর ওই দিনের মতো কাঁকড়া ধরা বন্ধ হয়ে যায়৷ নৌকাতেই সবাই রান্না করে খাওয়া -দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন৷ মঙ্গলবার সকালে আলো ফুটলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নৌকা থেকে নামেন গুরুপদ৷ বাকিরা তখন সকালের ঠান্ডায় কিছুটা জবুথবু অবস্থায় নৌকাতেই বসেছিলেন৷ তার কিছুক্ষণ পরই বাঘের বিকট আওয়াজে সকলের বুক কেঁপে ওঠে৷ নৌকা থেকে কুয়াশার মধ্যে দেখা যায় , গুরুপদকে পিছন থেকে একটি বাঘ ধরে আছে৷ তিনি নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন৷ আর ছেলেদের প্রাণপণে চিত্কার করে ডাকছেন সাহায্যের জন্য৷ বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য বনে যান ছেলেরা৷ তার পরই সম্বিত্ ফেরে সকলের৷ বড় ছেলে উত্তম ও তার স্ত্রী মায়ারাণী এবং ছোট ছেলে তপন নৌকায় থাকা লাঠি ও বৈঠা নিয়ে নেমে পড়েন নদীর চরে৷ তাঁরা চিত্কার করতে করতে ধেয়ে যায় বাঘটির দিকে৷ এরপরই দুই ছেলে ও বৌমা একযোগে বাঘটিকে মারতে শুরু করেন৷ এলোপাথাড়ি লাঠির ঘা পড়ে বাঘের পিঠে৷ মার খেয়ে বাঘ গুরুপদকে ছেড়ে হামলাকারী তিন জনের দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার ছাড়তে থাকে৷ উত্তমরাও বাঘের হুঙ্কার উপেক্ষা করে আরও জোরে হইহল্লা জুড়ে দেন৷ সঙ্গে চলে লাঠি ঘোরানো৷ তাঁদের মারমুখি ভাব দেখে বাঘ বাবাজি দৌড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায় চলে৷ তার পর নদীর চরে লুটিয়ে থাকা রক্তাক্ত গুরুপদকে তুলে আনা হয় নৌকায়৷ বৌমা মায়ারাণী নিজের কাপড়ের অংশ ছিঁড়ে শ্বশুরের ক্ষতস্থানে বেঁধে দেন৷ বাঘের নখে গুরুপদর শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত তৈরি হয়৷ দুপুরের মধ্যে প্রথমে গুরুপদকে নিয়ে আসা হয় কিশোরীমোহনপুর গ্রামে৷ সেখানে গ্রামীণ চিকিত্সকরা প্রাথমিক চিকিত্সা করিয়ে পাঠিয়ে দেন জামতলায় কুলতলির ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে৷ বেডে শুয়ে তিনি বলেন , ‘ছেলেরা ও বৌমাই আমার জীবন ফিরিয়ে দিল৷ আমি বুঝতে পারিনি যে , বাঘটি আমাকে নজরে রেখেছিল৷ দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরছি৷ আমার অনেক সঙ্গী আহত ও নিহত হয়েছে৷ কিন্ত্ত আমি কখনও বাঘের খপ্পড়ে পড়িনি৷ আজ যা হল আমি তা কখনও ভুলতে পারব না৷ ’ ছেলে তপন ভুঁইয়া বলে , ‘বাবাকে বাঘে ধরেছে দেখে আর মাথা ঠিক রাখতে পারিনি আমরা৷ হঠাত্ মনে সাহস এল আর লাঠি দিয়ে বাঘকে মেরে বাবাকে বাঁচালাম৷ ’

সুত্রঃ এই সময়
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ইমরান

২০১৬-১২-০৭ ২৩:৪৬:১৬

বাহ বাহ বাহ !!

আপনার মতামত দিন

‘এখন শুধুমাত্র ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি’

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার হুমকি উ.কোরিয়ার

হিলারির পথে হাঁটছেন ট্রাম্পকন্যা ইভাঙ্কা?

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী হত্যার তদন্ত দাবি নিরাপত্তা পরিষদের

ডিপজলের হার্টে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

কক্সবাজারে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে পরিবহন যাত্রীদের

কুষ্টিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে এক তরুণ নিহত

মাদার অব ফ্রি ওয়ার্ল্ড

ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আস্থা নেই বিএনপির

রুবির বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে

সর্বশেষ আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা

হঠাৎই সব এলোমেলো

হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি

পাহাড়ে দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা

একই চিত্র জাকিরুলের বাড়িতে