শ্রীলংকার পাবলিক বাসে সংরক্ষিত আসন: নারীবাদিতা নয় যৌক্তিকতাই মূখ্য

প্রবাসীদের কথা

ফুয়াদ হোসেন, শ্রীলংকা থেকে | ৪ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার
দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকায় শিক্ষার হার সর্বোচ্চ- প্রায় শতভাগ এই তথ্য সম্ভবত আমরা সকলেই জানি। শুধু শিক্ষা নয়, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তারাই প্রখম।  তবে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারনে দেশটি কাংখিত উন্নতি করতে পারেনি। ২০১০ সালে সেনাবাহিনীর অভিযানে তামিল টাইগারদের পরাজয়ের পর থেকেই দেশটি এখন যথেষ্ট স্হিতিশীল। সেই সাথে দেশটির অর্থনীতিও বেশ গতিশীল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকার রাষ্ট্রব্যবস্থায় এখনো সমাজতান্ত্রিক আদর্শ স্পষ্ট। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার বানিজ্যিকীকরন এখনো চোখে পড়ার মত পর্যায়ে যায়নি। একই সাথে পরিবহন বিশেষত বাস এবং ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রন চোখে পড়ার মত। তবে ওসব বিষয় নিয়ে অন্য কোনদিন লিখব। আজ পাঠকদের সাথে শিরোনামের বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। কারণ বাংলাদেশে বাসের সংরক্ষিত আসন নিয়ে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্হিতি চোখে পড়ে। এমনকি একটা সময় ছিল যখন বাসে সংরক্ষিত আসন না থাকলেও মহিলা দেখলেই অনেকেই আসন ছেড়ে দিতেন। তবে মহিলাদের আসন সংরক্ষনের পর থেকে যেন সেই সংস্কৃতির রথও উল্টো পথে! এর পক্ষে বা বিপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। ঠিক এই একই প্রেক্ষাপটে শ্রীলংকার পাবলিক বাসের দৃষ্টান্ত যথেষ্ট ভিন্ন, বাস্তবসম্মত এবং যুগোপযোগী বলেই মনে হয়। সেখানে বাসে সংরক্ষিত আসন মূলত চারটি ক্যাটগরিতে রাখা হয়- ১. গর্ভবতী (প্রেগন্যান্ট) ও শিশু সন্তানসহ (ল্যাকটেটিং) মহিলা, ২. বৃদ্ধ ৩. প্রতিবন্ধী এবং ৪. ধর্মীয় গুরু (মূলত: বৌদ্ধ ভিক্ষু)।
শ্রীলংকার শিক্ষা-দীক্ষা, কর্মক্ষেত্র সর্বক্ষেত্রেই নারীর সরব পদচারণা লক্ষ্যনীয়। শিক্ষা-দীক্ষায়ও নারীরা যথেষ্ট এগিয়ে। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে তারা সম্পুর্ন সচেতন। তবে পাবলিক পরিবহনে আসন সংরক্ষন সংক্রান্ত এই নিয়ম নিয়ে নারীবাদিদের কোন আপত্তি কখনো উত্থাপিত হয়েছে বলেও শুনিনি। বরং নারীসমাজেরই দাবি- অহেতুক নারীবাদিতা নয়; যৌক্তিকতাই সকল আইন বা নিয়মের মুখ্য হওয়া উচিত।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন