১৪ এজেন্ডা নিয়ে ভিসিদের সঙ্গে বসছেন প্রেসিডেন্ট

শিক্ষাঙ্গন

নূর মোহাম্মদ | ৪ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৯
উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণা, গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতাসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভিসিদের সঙ্গে বসছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। শিগগিরই এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিদের আলাদা আলাদা দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন পক্ষ থেকেই থাকবে কিছু সুপারিশ।
শিক্ষামন্ত্রণায় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মৌন সম্মতির পর প্রেসিডেন্টের অনুমতি চেয়ে সময় চাবে ইউজিসি। সেখানে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ইউজিসি আলাদাভাবে সম্ভাব্য ১৪টি এজেন্ডা নির্ধারণ করবে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয়সহ একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এই রূপরেখায় গুলশানে হলি আটিজানে জঙ্গি হামলা পর শিক্ষামন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১২ নির্দেশনাও থাকছে। এছাড়াও গত মাসে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও সর্বশেষ ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে ৪টি প্রত্রিুয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সেই বিষয়টি প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান মানবজমিনকে বলেন, গত ১৪ই নভেম্বর প্রসিডেন্টের কাছে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় তিনি সব ভিসিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বসার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এরই আলোকে আমরা শিক্ষামন্ত্রণালয়কে আমি চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সময় পাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করা হবে। এজেন্ডা কি কি থাকতে এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রালটি একটি ভর্তি পরীক্ষা করা যায় কীভাবে। যাকে এক কথায় বলা হয় গুচ্ছভিত্তিক। এছাড়া উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উগ্রবাদ লালন, নিয়োগ প্রত্রিুয়া স্বচ্ছতাসহ বেশি কিছু এজেন্ডা থাকবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সব পর্যায়ের ভিসিদের বৈঠক এর আগে বাংলাদেশে কখনো হয়নি। সুতরাং, এই সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, ২০১৩ সালে উদ্যাগ নিয়েও কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতার কারণে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা আলোর মুখ দেখেনি। প্রেসিডেন্ট যদি এ ধরনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন, সেই আলোকে কাজ করতে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সুবিধা হয়। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ তৈরি করা হচ্ছে।
ইউজিসির পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা ইউজিসির জন্য এটা বড় সুযোগ। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রেসিডেন্ট সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেয়া হলে আমাদের বাস্তবায়ন করতে সুবিধা হয়। তারা বলেন, নানা সমস্যার জর্জরিত এসব বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় ইউজিসিকে পাত্তা দিতে চায় না। কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উগ্রবাদ বিস্তারের অভিযোগে নজরদারি ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। একটি বিশেষ গোয়েন্দা বরাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে গত জুলাই মাসে রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক ও ভিসিদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন। এরমধ্যে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপকে চিহ্নিত করে তাদের কাউন্সিলিংয়, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস পাঠ, সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা প্রমুখ। এছাড়াও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সরকারি কলেজ, ফাজিল, কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের প্রধান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিরিজ কর্মসূচি করছে। বর্তমানে বিভাগীয় পর্যায়ে জঙ্গিবিরোধী মতবিনিময় সভা করছে শিক্ষামন্ত্রী। অভিযোগ উঠেছে, জঙ্গি কার্যক্রম প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। একজন শিক্ষার্থী ১০ দিন টানা অনুপস্থিত থাকলে তার তথ্য উপজেলা, জেলা শিক্ষা অফিসের জানানো ছাড়া শিক্ষামন্ত্রণালয়ের লিখিত কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবে শিক্ষামন্ত্রী মৌখিকভাবে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।    
এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এসব বিষয়ে নজর থাকবে প্রেসিডেন্টের। তিনি যেহেতু এসব বিষয়ে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তার মানেই নির্দেশ। এখন ভিসিদের তিনি যে নির্দেশনা দেবেন তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের দিকে যাবে ইউজিসি। এদিকে গত ১২ই নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া কথা জানান। ২০১৩ সাল থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তি পদ্ধতি প্রচলনের চিন্তা করেও তা বাস্তবায়ণ করতে পারছে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি।
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি না হওয়ার জন্য বরাবর কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, সব ভিসিরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে সেখান থেকে অনেকেই ইউটার্ন নেয়া হয়। এটার মূল কারণ ভর্তি পরীক্ষা ফরম বিক্রি বাবদ বাণিজ্য।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন