আত্মহত্যার চিন্তাও অপরাধ

প্রবাসীদের কথা

মঈনুল আহসান | ২৯ নভেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার
এ জগতে কারোরই অধিকার নেই নিজ হাতে নিজের প্রাণ হরণের। সব সমাজেই এটা নিষিদ্ধ। সব দেশেই এটা বেআইনি। সব ধর্মেই এটা মহাপাপ হিসেবে স্বীকৃত। এই নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তি স্বাধীনতার স্পষ্ট পরিপন্থী তারপরও এটাই আইন। এটা একটা সর্বসম্মত আইন।
বড়ই একমুখো ও একরোখা এই আইন। সোজা-সাপ্টা যুক্তিও অচল এই আইনের কাছে। তাই কপালে লিখা ছিল বলে আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়েছে বলার উপায় নেই এই আইনে। অতি স্বাধীনতা প্রিয় মানুষকেও দেখা যায় না এমন কঠোর ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে কথা বলতে। ব্যাপারটা অদ্ভুত বটে। তবে যুক্তি ছাড়াই যে এমন আইন সবাই মাথা পেতে মেনে নিচ্ছে সেটাও মনে করার কোন কারণ নেই। আত্মহননকে ব্যক্তির স্বাধীনতা হিসেবে স্বীকার না করার পেছনে রয়েছে কিছু অকাট্য যুক্তি। সেগুলোর দেখা মেলে আমাদের নিজেদের জন্ম বৃত্তান্তে।
আমাদের জন্মের বিস্ময়কর সত্যগুলোর অন্যতম হলো, আমরা কেউই নিজের ইচ্ছাই আসিনি এই দুনিয়ায়। কে আমাদের বাবা-মা হবেন তা আমাদের জানা ছিল না, তাদেরকে আমরা নিজেরা পছন্দ করিনি। বিশ্বের কোন দেশের কোন সমাজের কোন ঘরে আমরা জন্ম নেবো সে বিষয়ে আমাদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। নিজের আকার, আকৃতি, বর্ণ নির্ধারণেও আমাদের কোন ভূমিকা ছিল না। এমনকি দুনিয়ায় এসে আমরা কোথায় থাকবো, কি খাবো, কি পড়বো সে বিষয়েও আমাদের কারোই কিছু জানা ছিল না। এসব নিয়ে আমাদের কাউকেই কখনো চিন্তা করতে হয়নি, দুর্ভাবনায় পড়তে হয়নি।
চিরন্তন এই মহা সত্যগুলোর সোজা মানে হলো আমাদের এই জীবনটা আসলে আমাদের নয়। এই আমি, এই আপনি আর এই আমরা কেউই আসলে নিজের নই, নিজেদের নই। আমাদের অধিকর্তা আসলে অন্য কেউ, আমি আপনি নই। দুনিয়ায় এসে আমরা যা কিছুই পাচ্ছি সেগুলো সবই রেডিমেড। সবই কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ জন্যেই মন চাইলেই আমরা ডাক্তার হতে পারি না, জজ- ব্যারিস্টার হতে পারি না। নিজের চেষ্টায় কিছু একটা করে ফেলার যে দাবী আমরা অহরহ করে থাকি তা আসলে পুরোপুরিই ভুয়া কারণ সেটাই যদি সত্যি হতো তা হলে আমাদের কারো জীবনেই ব্যর্থতা বলে কিছু থাকতো না। জীবনের বহুবিধ ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে আমরা মনে চাইলেই সব কিছু করতে পারি না, সব কিছু পেতে পারি না। আমরা ঠিক ততটুকুই পেয়ে থাকি যতটুকু আমাদেরকে দেয়া হয়।
জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের কোন ক্ষেত্রেই যেহেতু আমাদের কোন হাত নেই তাই মরণেও আমাদের কোন করণীয় থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে আমাদের কোন ব্যক্তিগত মতামত বা পছন্দ-অপছন্দও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়। এমনকি আগে ভাগে নিজের মৃত্যু কামনা করাও আমাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। নিজের মত করে মৃত্যুকে ডেকে আনার চেষ্টা অনেকটা হাতের কাজ ফেলে অফিস পালানো অপচেষ্টার মত। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অফিস ছেড়ে যাওয়ার যে কোন প্রয়াস সব সময়ই শাস্তি যোগ্য অপরাধ। আসলে যিনি না চাইতেই আমাদের জন্ম ও জীবনের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরই সবচেয়ে ভালো জানার কথা আমাদের মৃত্যুর যথার্থ সময়। তাই তাঁর দেয়া মৃত্যুর কাল মাথা পেতে নেয়াই আমাদের কর্তব্য হওয়া উচিত, সেটাই আমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। সেই সময় না আসা পর্যন্ত বাস্তবতা মেনে ধৈর্যের সাথে জীবন চালিয়ে যাওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব, তা সেই বাস্তবতা যত কঠিনই হোক না কেন।
জীবনের কঠিনতম দুরবস্থায় যখন মরণকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে হয় তখন আমাদের উচিত নিজেদের জন্ম কালীন চরম অসহায় অবস্থার কথা স্মরণ করা। এতে আমরা পেয়ে যাবো সমস্যা সমাধানের আদর্শ পথ। সেই পথ হলো সর্বময় পরম স্রষ্টার কাছে প্রত্যাবর্তনের পথ। বস্তুত একেবারে শূন্য থেকে আমাদের জন্মের ব্যবস্থা করে দয়াময় আল্লাহ পাক আমাদেরকে জীবনের সূচনাতেই বলে দিয়েছেন যে তিনিই সব কিছুর একমাত্র উৎস ও অধিপতি। একমাত্র তাঁরই হাতে রয়েছে যখন যা খুশী তাই করার ক্ষমতা। সুতরাং একমাত্র তাঁর কাছেই পাওয়া সম্ভব যে কোন সমস্যার সবচেয়ে যথার্থ ও উপযুক্ত সমাধান। সে সুযোগ নিতে চাইলে মানুষকে অবশ্যই ফিরতে হবে তাঁর দিকে, আবেদন করতে হবে তাঁর বরাবরে। সে ব্যবস্থাও তিনি অবারিত করে রেখেছেন সাধারণ গণ মানুষের জন্য। এমনকি বলে দিয়েছেন তাঁর কাছে আবেদন করার শব্দমালা পর্যন্ত। অতঃপর অগণিত উদাহরণের মাধ্যমে হাতে কলমে বুঝিয়ে দিয়েছেন সেগুলোর ব্যবহার ও প্রয়োগ পদ্ধতি। আবেদনের সেই নমুনাগুলো সব সময়ের মত এখনও রয়েছে আমাদের আশে-পাশেই, আমাদের নাগালের মধ্যেই। প্রয়োজন শুধু নির্দিষ্ট সেই ফরমেট মেনে তাঁর কাছে আবেদন করা। ব্যাপারটা অনেকটাই কর্পোরেট অফিসের মত। কিছু চাওয়ার থাকলে অফিসের নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে বড় কর্তার কাছে, অন্যথা হলে কাজ হবে না। অন্যথা হলে যে কাজ হয় না তার নমুনাও আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি আমাদের চারপাশে।
এমন অনবদ্য সুযোগ-সুবিধা কাজে না লাগিয়ে মরণের পথ বেছে নেয়া তাই কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হবার নয়। তেমন প্রয়াস বস্তুত অফিসের সমস্যা নিয়ে চাকরি দাতা বসের সাথে কোন আলাপ-আলোচনা না করেই কাজ থেকে ইস্তফা দেয়ার মত। এটা এক ধরণের ধৃষ্টতা ও অকৃতজ্ঞতা এবং চাকুরীর চুক্তি লঙ্ঘনের দায় যুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বস্তুত এসব কারণেই আত্মহনন অন্যায়, আত্মহত্যা মহাপাপ এবং আত্মহত্যার স্বাধীনতা ব্যক্তির অধিকার হিসেবে স্বীকৃত নয় কোথাও, বরং নিষিদ্ধ সর্বত্র।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিদেশি হস্তক্ষেপ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না : বেইজিং

ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজন চারদিনের রিমান্ডে

সোনাজয়ী শুটার হায়দার আলী আর নেই

মালয়েশিয়ায় ভূমি ধসে তিন বাংলাদেশি নিহত

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মুক্তামনি

খাল থেকে উদ্ধার হলো হৃদয়ের লাশ

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানকে কঠিন পর্যায়ে নিয়ে গেছে সরকার: খসরু

সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজন পরিবর্তন: দুদু

চোখের চিকিৎসা করাতে লন্ডনে গেলেন প্রেসিডেন্ট

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না

বৌদ্ধ ভিক্ষু সেজে কয়েক শত কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক

৫০ বছরের মধ্যে জাপানে কানাডার প্রথম সাবমেরিন

ছিচকে চোর থেকে মাদক সম্রাট!

বোতলে ভরা চিঠি সমুদ্র ফিরিয়ে দিল ২৯ বছর পর!

কার সমালোচনা করলেন বুশ, ওবামা!

জুমের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেনা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা