অবসরে গিয়ে কী করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা!

ভারত

মানবজমিন ডেস্ক | ২২ নভেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার
ক্ষমতা ছেড়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবকাশ যাপনে যাবেন। সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী, ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। কিছুটা বিশ্রামে কাটাবেন। সময় দেবেন দু’মেয়ে শাসা ও মালিয়াকে। অবসরে করবেন লেখালেখি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বশেষ বিদেশ সফরে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি নিজে। পেরুর রাজধানী লিমায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা খুলে বলেন। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত কথা হয়। তবে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া সব ইস্যুতে নীরব থাকবেন না তিনি। যদি ট্রাম্পের কোনো নীতি, কর্মকাণ্ড মার্কিন মূল্যবোধ বা আদর্শের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন ওবামা। তার নীরবতার একটা সীমা থাকবে। এমন মনোভাবের কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজেই বলেছেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, উত্তরসূরি ডনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত সমালোচনার মধ্যেই লিপ্ত থাকবেন না প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি তাকে তার মতো করে কাজ করার সুযোগ দেবেন। কিন্তু তিনি অথবা তার পলিসি যদি নিয়মের বাইরে যায় তাহলে ওবামা আর নীরব থাকবেন না। লিমা থেকে সাংবাদিক জোশ লিডারম্যান লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরে তিনি কী করবেন সে সম্পর্কে মোটামুটি একটি আভাস দিয়েছেন। ওবামা বলেছেন, যখন তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন তখন নিয়ম অনুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্টদের পথ অনুসরণের চেষ্টা করবেন, যাতে তার উত্তরসূরি তার মতো দেশ শাসন করার সুযোগ পান। এক্ষেত্রে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশংসা করেন। বলেছেন, বুশ তাকে দেশ চালানোর যে সুযোগ দিয়েছেন তিনিও একই সুযোগ দেবেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে। কিন্তু সেক্ষেত্রে নীরবতার একটা সীমা থাকবে। বারাক ওবামা বলেছেন, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমার দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি এমন কোনো আইনি প্রস্তাব আসে বা মৌলিকত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে, আমাদের আদর্শ ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায় তাহলে আমি মনে করি ওই বিষয়গুলোর যথার্থতার পক্ষে আমার দাঁড়ানো উচিত। যখন এমন ইস্যু সামনে আসবে তখন আমি তা যাচাই করে দেখবো। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মসৃণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। এখানে উল্লেখ্য, এবারের মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন। অবৈধভাবে কয়েক লাখ অভিবাসী বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ওবামাকেয়ার বাতিল করার কথা বলেছেন। বলেছেন, তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাতিল করবেন। এসব ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। ট্রাম্পের প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যেহেতু প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছেন তাই অনেকেই মনে করছেন, তার এ ইস্যুগুলো যখন সামনে আসবে তখন এর তীব্র বিরোধিতা করবেন ওবামা ও ডেমোক্রেটরা। এমনটা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প যাতে এ ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন ওবামা ও ডেমোক্রেটরা। কোনো ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙবেন তা কিন্তু সুস্পষ্ট করে বলেননি ওবামা। ফলে তার বিরোধিতা করার মতো অনেকগুলো সম্ভাব্য ক্ষেত্র রয়ে গেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার, সম নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ প্রেসিডেন্ট ওবামা গৃহীত কোনো উদ্যোগের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে যদি যান ডনাল্ড ট্রাম্প তখনই ওবামা তার নীরবতা ভাঙবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অনেকদিন ধরেই সতর্কতা দিয়ে আসছেন। তিনি বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রের খেয়াল-খুশি মতো ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেছেন, সব সময়ই তিনি কণ্ঠস্তব্ধ করে রাখবেন না। আবার এর মানে এই নয় যে, তিনি প্রকাশ্যে নতুন প্রেসিডেন্টের শুধু খুঁতই ধরে বেড়াবেন। বারাক ওবামা বলেন, আমার এখনকার উদ্দেশ্য হলো আগামী দু’মাসে আমার কাজকে গুটিয়ে নেয়া। এটা করার পর মিশেল (ওবামা)কে নিয়ে অবসরে যাবো। কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন। সময় দেবো আমার দু’মেয়েকে। কিছু লেখালেখি করবো। নতুন করে কিছু ভাবতে চেষ্টা করবো। এখানে উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দু’দফায় মোট আট বছর যুুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ থেকে অন্য অনেক সাবেক প্রেসিডেন্টের মতো নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর দৃষ্টি দিয়েছেন বিশ্ব মানবাধিকার ইস্যুতে। বিশেষ করে তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। তবে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খুব মুখর ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। বিশেষ করে তিনি ইসরাইল নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিতেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা লিমায় এক সংবাদ সম্মেলনে অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। আগামী চার বছর যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেট ও ট্রাম্পের বিরোধীরা কেমন অনুভব করবেন সে বিষয়ে একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে একজন বিচারক নিয়োগ নিয়ে রিপাবলিকানরা যে আপত্তি তুলেছে সিনেটে ডেমোক্রেটদেরও কি সেই ধারা অনুসরণ করা উচিত? জবাবে ওবামা বলেন, না। তাদের তা করা উচিত নয়। তাদের সুযোগ দিতে হবে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে মেরিক গারল্যান্ডকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনোনীত করেছিলেন। তার বিষয়টি রিপাবলিকানরা দেড় বছরের বেশি সময় ঝুলিয়ে রাখে। তারা জানিয়ে দিয়েছিল, ওবামার মনোনীত কেউ বিচারক হতে পারবেন না। কিন্তু ডেমোক্রেটরা সেই ধারা অনুসরণ করুক- এটা চান না বারাক ওবামা। তিনি বলেন, এমন বিরোধিতার জন্য আমেরিকার জনগণ আমাদের ওয়াশিংটনে পাঠায়নি। আমাদের এমন গেম খেলতে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা তার শেষ বিদেশ সফর করছেন। এ সফরে তিনি রয়েছেন পেরুতে। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও সিরিয়া সংকট নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। এর ব্যাপ্তি ছিল চার মিনিট। পরে লিমায় কথা বলার সময় পুতিন বলেন, তিনি ও বারাক ওবামা জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন। তবে সব সময়ই একে অন্যের অবস্থানকে সম্মান করেছেন। লিমায় সাক্ষাৎ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, সেখানে ওবামাকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যেকোনো সময় তিনি তাকে রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তিন দিন ধীরগতি থাকবে ইন্টারনেটে

সন্তানকে ফিরে পেতে বাবা-মায়ের আকুতি

‘সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে রোহিঙ্গা, তিস্তা ইস্যু থাকবে’

কে এই কিংবদন্তী নর্তকি ও গুপ্তচর মাতা হারি?

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্থায়ী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান স্পিকারের

রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার সংগ্রহে ডোনার কনফারেন্স করবেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা

ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

‘ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্তের অধিকার সবারই আছে’

ঢাকায় আসছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো

আবারো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র-ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে মৌলভীবাজারের একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন

যুদ্ধ নয় আলোচনায় সমাধান

সিইসি’র বক্তব্য কৌশল হতে পারে

আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর হঠাৎ সংলাপ বয়কট

বর্মী সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা