ভারতে সন্ত্রাসী তহবিল নির্মূল যুদ্ধ ৫ মাস আগে শুরু বাংলাদেশে

ভারত

আজান জাভেদ, ডিএনএ ভারত | ১৬ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার
এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, জাল ভারতীয় টাকার নোট বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভারতে সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহার করছে। কিন্তু সম্প্রতি এই গ্রুপগুলো এর উত্তাপ অনুভব করছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, পাঁচ মাস আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ওয়ার অন টেরর ফান্ডিং সন্ত্রাসে ব্যবহƒত তহবিলবিরোধী যুদ্ধ শুরু করার ভালো ফল পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য অনুসারে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সক্রিয় থাকা জালনোট প্রস্তুতকারীরা গত জুলাইয়ে বিশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার ভারতীয় রুপির এক লাখ জালনোট বিক্রি করতো। বর্তমানে একই মুদ্রা জালকারী চক্রকে এক লাখ জালনোট বিক্রি করতে হচ্ছে চল্লিশ হাজার রুপিতে। এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টাকা জালকারীদের পকেট থেকে বেশি অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে। এরফলে উভয় দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতা হ্রাস পাচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডিএনএ’র কাছে ব্যাখ্যা করেছেন যে, দেশের জন্য এই জালনোট প্রস্তুতকারী চক্র কী ভয়ানক বিপদ ডেকে এনেছে। ঐ কর্মকর্তার কথায় বহু বছর ধরে জালনোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটগুলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। একইসঙ্গে তারা উভয় দেশের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে কৌশলগত সমর্থন জুগিয়ে থাকে। জাল ভারতীয় নোট সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টাকা জালকারীদের কাছ থেকে তারা তাদের অস্ত্র কেনার রসদ পেয়ে থাকে এবং গুরুত্ব বুঝে ভারতীয় অর্থনীতির সব থেকে স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত হানতে পারে।
জালনোটের চক্র দমনে সাফল্য লাভের নেপথ্যের কারণ হলো বাংলাদেশের সহযোগিতা। গোয়েন্দা সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে যে, গত ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজানে পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে একটা ‘টিপিং পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ঐ হামলায় দুজন পুলিশ অফিসারসহ চব্বিশ ব্যক্তি নিহত হন।
 বিশ্বাস করা হয় যে, ঐ হামলাটি জামা’আতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ  (জেএমবি) নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ করেছে। কিন্তু গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন গত ৭ই জুলাই কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সন্ত্রাসী হামলার পরেই সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিএসএফের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশে ওইসব আক্রমণের পরপরই দেশটির কাউন্টার টেরোরিজম এবং ট্রানজিশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট এবং ডিএমপি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে।
জালনোটের চক্র বাংলাদেশি অভিযানে স্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হলি আর্টিজানের হামলাকালে এক লাখ জাল ভারতীয় মুদ্রা বিশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার ভারতীয় মুদ্রায় বিক্রি হতো। ২৭শে জুলাই সোয়াত, ডিবি, র‌্যাব ও ডিএমপি ঢাকার কল্যাণপুরে স্টর্ম ২৬ নামে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এতে নয়জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এই ঘটনায় এক লাখ জাল ভারতীয় মুদ্রার দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২৮-৩০ হাজারে উন্নীত হয়। এই হার আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে আরো বৃদ্ধি পায় যখন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযান আরো জোরদার করে। এবং যে  কোনো গ্রুপ এক লাখ জাল ভারতীয় নোটের জন্য ৩৫-৩৮ হাজার রুপি খরচ করতে হয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আজিমপুরে জেএমবি প্রধান তামিম চৌধুরী এবং জাহিদুল ইসলামের হত্যাকা-ের ঘটনা সন্ত্রাসী গ্রুপের জন্য এক ভয়ানক বিপর্যয়। এবং জালনোটের ব্যবসায় তা ধস ডেকে আনে। জাহিদুল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। এবং কথিতমতে জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষক। গ্রুপের প্রধান তামিম ২৭শে আগস্ট নিহত হয়। আর জাহিদুল ইসলাম নিহত হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এই দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার পরে সিটিটিসি ইউনিট ঢাকার আজিমপুর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তিনজন সন্দেহভাজন নারী জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে স্পষ্টতই সিন্ডিকেটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
একজন বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের ফলে যেসব চোরাচালানি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল তারা গা-ঢাকা দিয়েছে। এবং ভারতীয় জালনোটের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এরফলে এক লাখ ভারতীয় জালনোটের দাম ৩৫-৩৮ হাজারের মধ্যে উঠানামা করছে। আর টাকা সহজলভ্য না হওয়ায় বর্তমানে চোরাচালান হ্রাস পেয়েছে। তবে আপাতত একটি বিরতি চললেও যখন নতুন মুদ্রা আবার বাজারে পৌঁছবে, সেই সময়ের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।  (ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ডিএনএ’র সৌজন্যে)
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন