স্বপ্নের প্রবাসের কিছু কথা

প্রবাসীদের কথা

রাকেশ রহমান | ১৫ নভেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার
প্রবাস শব্দটা আমাদের দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় শব্দগুলোর একটি। প্রবাস জীবনেরও বহু ভাগ  রয়েছে। কেউ কেউ হয়তো জীবনের কিছুটা কর্মজীবন অতিবাহিত করার জন্য প্রবাসী হন আবার কেউ কেউ সারা জীবন প্রবাসে থাকার জন্য প্রবাসী হন।
বহু দেশের বহু আইন কানুন, ভিন্ন ভাষা, বহু সাফল্য, বহু ব্যর্থতা, বহু সুখ, বহু দুঃখ; আবার কখনো বাংলাদেশে দিন অন্য দেশে রাত, অন্য দেশে দিন বাংলদেশে রাত সব মিলিয়ে স্বপ্নের প্রবাসে প্রবাসীদের জীবন।
প্রবাসী জীবন কারো কারো জন্য খুবই সুখের ও নিরাপদ আবার কারো কারো জন্য দুঃখের ও কষ্টের তবুও প্রতিষ্ঠিত একটি জীবন। হয়তো সব দেশেই নতুন অবস্থায় খানিকটা কষ্ট সবাইকেই করতে হয় তারপরে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল জীবনে প্রবেশ করা যায়।
আমরা সকলেই প্রবাসে আসার সময় হয়তো চিন্তা করি স্বল্প সময়ের জন্য যাচ্ছি প্রতিষ্ঠিত হয়েই দেশে চলে আসবো। যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য যান তারাও হয়তো ভাবেন ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরে আসবো। দেখতে  দেখতে পড়তে পড়তে কর্মজীবন তারপর সংসার জীবন ,নিরাপদ জীবন সব মিলিয়ে প্রবাসীই হয়ে যায়।
আমাদের বাংলাদেশীদের কয়েক পুরুষ প্রবাসে অতিবাহিত করা দেশগুলোর ভিতর বিখ্যাত আমেরিকা ও ইংল্যান্ড।
এই দুই দেশেই আমাদের বাংলাদেশীদের নতুন প্রজন্ম বেরে উঠেছে বেশ সাফল্যতার মাঝে।
তবে একদিনেই এই সাফল্যতা আসেনি। কয়েক পুরুষের বহু ত্যাগ বহু কষ্টের ফসল আমাদের এই সাফল্যতা।
এরপর ধীরে ধীরে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে গড়ে উঠছে বিশাল বাংলাদেশী প্রবাসী জনসমষ্টি  যা  চোখে পড়ার মত। তারপরও গড়ে উঠছে সৌদিআরব, দুবাই, মালায়েশিয়া, চীন , জাপান, কোরিয়া, ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে।
আমি এতগুলো দেশের নাম বলছি এই কারনেই যে আমি প্রবাসী হওয়ার পর থেকেই মোটামোটি সকলদেশের প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইদের সাথে তাদের জীবন যাত্রা নিয়ে আলোচনা করে থাকি তাই হয়তো কৌতূহলের কারণেই  জানা হয়ে যায় আইন কানুন, শৃঙ্খলা, আবহাওয়া, খাওয়া দাওয়া, জীবন যাত্রা ইত্যাদি সম্পর্কে।
প্রবাসী যেই সব ভাইদের সাথে আমার কথা বার্তা হয় তারা কেউই আমার ভাই বা আত্মীয় স্বজন নয় তারপরও আমরা সবাই প্রবাসী একে অপরের ভাই। সুদূর ইউরোপ থেকে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া হয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত আমরা প্রবাসী ভাইয়েরা একে অপরের খোঁজ খবর নিয়ে থাকি।
কি আশ্চর্য! দেখেন বাংলাদেশে যখন থাকতাম তখন নিজের শহরের বাহিরে কোন বাংলাদেশী ভাইদের সাথে চেনা পরিচিত বা যোগাযোগের অভ্যাস একেবারেই ছিল না। অথচ এখন প্রবাসী সহ দেশে বহু এলাকার  ভাইদের সাথেও গড়ে উঠেছে নিবিড় এক সম্পর্ক।
বর্তমানে প্রবাসে জীবন যাত্রার মান কর্ম সংস্থান বেশ ভালোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ নিউজিল্যান্ডের এক প্রবাসী ভাইয়ের জীবনের কিছুটা সুখ দুঃখ তুলে ধরবো -
বেশ কয়েক বছর আগেও নিউজিল্যান্ডে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। এখনও যাচ্ছে কিন্তু পরিমাণ কিছুটা কম। নিউজিল্যান্ড খুব সুন্দর একটি দেশ। সমুদ্রের মাঝে একটি দেশ। কঠিন নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতর গড়ে উঠা একটি দেশ। মানব অধিকারের উচ্চ আসনে বসা দেশটি। দেশটির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্ট্রেলিয়া দ্বারা প্রভাবিত।
দেশটির এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন যথেষ্ট কঠিন। যাইহোক, সেখানে রয়েছে কয়েক হাজার বাংলাদেশী প্রবাসী ভাইদের বসবাস। সেখানকার প্রবাসী ভাইদের ভিতরে শতকরা ৮০ভাগ রয়েছেন উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি  অনেকে  স্বপরিবারে রয়েছেন। এর ভিতরে অনেকে ইমিগ্রান্টও রয়েছেন। তবে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত ভাইয়েরা যেই বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন সেই বিষয়ে কর্ম জোগাড় করতে পারে তাহলেই ইমিগ্রান্ট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটিতে অধিকাংশই বহিরাগত। আদি নিউজিল্যান্ড বলতে কেউই নেই অর্থাৎ সবাই দ্বীপটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার  পর থেকেই স্থায়ী হয়েছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হয়ে। দেশটিতে একবার ইমিগ্রান্ট পাওয়া গেলেই  প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিয়ে চিন্তা কম করতে হয় কারন কিউই নাগরিকদের সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে  থাকেন।
তবে চাকুরী পাওয়া এখন দেশটিতে সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাংলাদেশী প্রবাসী ভাইয়েরা  চাকুরী নিয়ে ভালো সমস্যায় রয়েছেন। আবার অনেকে শ্রম দিয়ে কষ্টের চাকুরী করে পাসপোর্ট নেওয়ার অপেক্ষায়। তবে দেশটিতে ভারতীয়দের বেশ প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারি অফিস ও কোম্পানি গুলোতে ভারতীয়রা প্রভাবশালী। পাশাপাশি ভারতীয়দের ব্যবসা বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়াও ভারতীয়রা বেআইনি ভাবে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় চাকুরী দেওয়ার  ব্যবস্থা করে থাকে। এটি নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ভুক্তভুগি ভাইদেরই মুখের কথা।
সেখানেই এক প্রবাসী ভাই আছেন যিনি দেশ থেকে আইটি সেক্টরে ইমিগ্রান্ট নিয়ে গিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে। ভাইটি সেখানে গিয়ে রেসিডেন্ট অর্থাৎ কাজ করার অনুমতি পায় তারপর শুরু হয় চাকুরী  খোঁজার পালা। বহু খুঁজে এবং বিভিন্ন চাকুরী করে এখন একটি চাকুরী পেয়েছেন আজীবনের চুক্তিতে কিন্তু চাকুরীটা তার মোটেও পছন্দ নয়। শুধু পরিশ্রমই করে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র উন্নত জীবনের জন্য উন্নত দেশের পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ভালো চাকুরী খুঁজে যাচ্ছেন। কিন্তু ওঞ সেক্টরে সে যথেষ্ট মেধাবী। তারপরও পরিবার নিয়ে আছেন, ভালো আছেন জীবনের নিরাপত্তা, খাবারের নিরাপত্তা, লোডশেডিং ইত্যাদি সমস্যা  নিয়ে তো ভাবতে হচ্ছে না এটাই বড় কথা। কিন্তু একটি পাসপোর্ট নিতে ঝরে যাচ্ছে জীবনের মূল্যবান শ্রম, জীবনের মূল্যবান সময়।
যদিও সেই প্রবাসী ভাই দেশে থাকতে সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকুরী করে বেশ ভালোই ছিলেন তারপরও উন্নত নিরাপদ জীবনের জন্য কষ্ট করে যাচ্ছেন। হাতে গোনা ধনী পরিবারের সন্তান ছাড়া সকলকেই প্রবাস  জীবনে হোক মাধ্যপ্রাচ্য অথবা ইউরোপ, আমেরিকা প্রথম ৪/৫ বছর পরিশ্রমটা করতে হয় ,তারপর একটি স্থিতিশীল, সুন্দর, সাজানো জীবন পান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না

মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রেসিডেন্টের শোক

সানি লিওন শাড়ি না পরলে গণ আত্মহত্যার হুমকি!

রাজধানীতে লাগেজে মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার

‘সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতেন মহিউদ্দিন চৌধুরী’

মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবেও না বলেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে

বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ৩০ জন ভারতীয়

প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলায়...

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ঢাবি গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

মহান বিজয় দিবসে যেসব রাস্তা পরিহার করতে হবে

মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের শোক