মমতার মত বদল, বাড়ি বদল করবেন না

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৬ নভেম্বর ২০১৬, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫১
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে ৩৪বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের টালির বাড়ির করুণ অবস্থা সত্ত্বেও তিনি বাড়ি বদল নিয়ে মত পাল্টে সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ বাড়িটির ভগ্নদশার কারণে আপাতত সংস্কার কাজের জন্য বাড়ি বদল জরুরি ছিল। তার  নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তাকে রাজিও করিয়েছিলেন। কাছাকাছি একটি সরকারি ভবনও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু মমতা মত বদল করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী থাকেন টালির চালের এক চিলতে ঘরে। যে ঘরে তিনি থাকেন, সেখানে শোয়ার জায়গাটি খুবই ছোটো। ঘরে চেয়ার পাতলে টেবিল পাতা যায় না। আর বাড়িটির অবস্থাও শোচনীয়। খুঁটিতে ঘুন ধরেছে। বাড়ির টালির ছাদ যে কোনও সময় ভেঙে মাথায় পড়তে পারে। ধারের দেওয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে।  বৃষ্টিতে পানিও পড়ে ঘরের মধ্যে। তার উপর রয়েছে টালি নালার ধার থেকে উঠে আসা ধেড়ে ইঁদুর আর ছুঁচোর উপদ্রব। সারারাত ইঁদুর-ছুঁচোরা চালে উঠে দাপাদাপি করে। মুখ্যমন্ত্রী ঘুমোতেও পারেন না ভাল করে। কিছু দিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা অফিসারেরা বাড়ির হাল খতিয়ে দেখে অবিলম্বে সংস্কারের সুপারিশ করেছেন।  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সময়ই বাড়ি পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন নিরাপত্তা এজেন্সির লোকজন। কিন্তু নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাই বাড়ি বদলে রাজি হন নি। অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার এই একচালা টালির ঘরেই এসেছিলেন। তখন অবশ্য মমতার মা বেঁচে ছিলেন।  দেশবিদেশের বহু নেতা-মন্ত্রী-ভিআইপি কালীঘাটে মমতার এই বাড়িতে এসেছেন। এখনও আসেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে তার বাড়ি বদলের পরামর্শ দিয়েছিলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তারা। সেবারও পরামর্শকে আমল দেন নি। ন্যাশানাল সিকিউরিটি গার্ড এনএসজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মমতার বাড়ি মোটেই তাঁর নিরাপত্তার পক্ষে নিরাপদ নয়। সেটি সং¯কার করা দরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁর বর্তমান বাসস্থানটি সংস্কার না করে তাঁকে সেখানে আর থাকতে দেওয়া যাবে না। শেষপর্যন্ত মমতা রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাঁর মত বদলে উদ্বিগ্ন সকলে। জানা গেছে, বাড়িটি সংস্কার করা হবে মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই। মুখ্যমন্ত্রী যখন জেলা সফওে থাকবেন তখনই দ্রুত গতিতে কাজ সারা হবে। বাড়ির কাঠামো অবশ্য বদলাবে না। বদলানো হবে চালের বাঁশ ও খুটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সঞ্চিত অর্থেই সেই সংস্কার হবে। সরকারি কোষাগারের একটি টাকাও এর জন্য খরচ করা যাবে না।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন