দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে সীমান্ত হত্যা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৪ অক্টোবর ২০১৬, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২০
বিজিবি ও বিএসএফের ডিজি পর্যায়ের বৈঠক গতকাল সোমবার দিল্লিতে বিএসএফের সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে। ৪৩তম এই বৈঠকের প্রথম দিনেই সীমান্ত হত্যার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়াও জঙ্গিদের সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে বারে বারে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও গত ৬ মানে সীমান্তে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  এদিনের বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষ থেকে গত মে মাসে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশি ছাত্র সেহাব উদ্দিনের ঘটনার যৌথ তদন্তের দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রেই যৌথ তদন্ত করা হয় নি। অথচ গত বৈঠকেই বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
এদিনের বৈঠকে ২২ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। অন্যদিকে ভারতের ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএসএফের ডিজি কে কে শর্মা। বিএসএফ ও বিজিবি’র প্রতিনিধিরা ছাড়াও দুই দেশের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও গোয়েন্দা এজেন্সির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। গত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মাদক ও নারী পাচারের মতো বিষয়গুলোও আলোচিত হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিভিন্ন আস্থাবর্ধক ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দুর্গম এলাকার বিওপিগুলোতে বিজিবি’র সহজ যাতায়াতের জন্য ভারতের দিকের রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সীমান্ত হাটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে ৫টি সীমান্ত হাট চালু রয়েছে। এই হাটে দুই দেশের স্থানীয় মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা করতে পারেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ৬১টি সীমান্ত হাট চালুর কথা বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, এর ফলে বেআইনি লেনদেন অনেকটাই কমবে। এছাড়া, গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে জঙ্গিদের  অবৈধ যাতায়াতের বিষয়টি নিয়েও। দুই দেশের জঙ্গি ও অপরাধীদের তালিকাও বিনিময় হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু রেকর্ড আকারে নথিভুক্ত করে স্বাক্ষর করা হবে।   

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন