পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম রোধে ইউজিসির ‘জিরো টলারেন্স’

স্টাফ রিপোর্টার

শিক্ষাঙ্গন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারদের আইন ও নিয়মের মধ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, অনিয়ম করলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা রকম চাপ থাকে। চাপে নত হয়ে যদি কেউ আইন অমান্য করেন বা অনিয়ম করেন তাহলে তিনি ছাড় পাবেন না।

ইউজিসি’র কাজই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন-কানুন যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা। আইনের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। নিয়মের মধ্যে থেকেই সব কাজ করতে হবে। যেকোন ধরনের অনিয়মে ইউজিসি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে।

দেশের ১৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান একথা বলেন।
সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় ইউজিসি ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এপিএ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আনায়ন, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এপিএ প্রবর্তন করা হয়।

ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে দেয়া বক্তব্যে কাজী শহীদুল্লাহ ভিসি ও রেজিস্ট্রারদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি, আর্থিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও নিয়ম মেনে কাজ সম্পাদন করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, করোনা পরবর্তীতে প্রয়োজনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট পরিচালনা করা হবে। এতে কোন ধরনের আর্থিক বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভিসিদের আইনসম্মতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, মেয়াদের শেষ সময়ে আপনারা নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন থাকবেন। আপনাদের কাজের কারণে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যরা যেন কোন ধরনের বিপদে না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নিয়মের ভিত্তিতেই আপনারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক পরিবেশ ভালো করার চেষ্টা করবেন। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই আইন ও বিধি মেনে চলা প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ৫-৬টি বিশ্ববিদ্যালয় যেন বিশ্ব র‍্যাংকিং-এ স্থান করে নিতে পারে সে লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এবং অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান। ইউজিসি’র পক্ষে তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রারবৃন্দ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shiblik

২০২০-০৯-১৬ ০৯:৩৮:১৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে ভাল কাজ শুরু করে দেখান! ঢা বি জাতীয় চ্যাম্পিয়নঃ ছাত্র নির্যাতন, বৈষম্য মূলক শিক্ষক নিয়োগ, এবং আরও অনেক...

AbdurRahim

২০২০-০৯-১৫ ২০:২৩:৩৭

অযোগ্য, অথর্ব, দলদাসদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই বিশ্ব র‍্যাংকিং এ থাকবে তাবে ৫০০০ এর পর।

AbdurRahim

২০২০-০৯-১৫ ২০:১৭:১০

অযো, অথ, দলদাসদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিং থাকবে তবে সেটা ৫০০০ এর পর।

Mohammad Hoque

২০২০-০৯-১৬ ০৬:০৪:৪০

Both public and private universities have zero output in quality research output. All are focused on teaching only. UGC must take measures for quality research publication.

Md. Harun al-Rashid

২০২০-০৯-১৫ ২০:১৯:৫৫

শুধু ৫-৬টি কেন দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারা যাবেনা কেন। তাহলে বাকিগুলি কী কেবল উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের কর্ম সংস্হান কল্পে অনুমোদন দেয়া হয়েছে নাকি শিক্ষার নামে কোন বিত্তবান গোষ্ঠির অর্থ রোজগারের মওকা করে দেয়া হয়েছে। গুনগত মান নিশ্চিত করা ভিন্ন কেবল প্রশাসনিক শুদ্ধাচার রক্ষিত হলে দেশের লাভ কোথায়। নিছক সনদ সর্বোস্ব উচ্চ শিক্ষা যুবকদের কেবল শ্রমবিমূখই করবেনা বরং উচ্চ শিক্ষা সনদ নামক ঐ কাগজ তাদের মনস্তাত্তিক চাপে ফেলবে। অনার্স পাঠ্যক্রমে প্রধান বিষয় ভিন্ন অন্য বিষয়গুলির চাপ কমাতে বিনয় করি। তদস্হলে প্রায়োগিক পরীক্ষা ও গবেষণামূলক পাঠ্যক্রম বাড়িয়ে দিন। শিক্ষার গুনগত মান তৈরীতেই কেবল 'শূন্য সহনশীলতা' প্রর্দশন করুন। জাতি উপকৃত হবে। আপনারাও প্রসংশিত হবেন।

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর



শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত