আর যেন বিচার বহির্ভূত হত্যা না হয়: সিনহার মা

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার, ১২:৫৫ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৩

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যার তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা নাসিমা আক্তার। তবে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয় তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা যেন আর না হয়। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
 
সিনহার মা বলেন, বলায় নয় কর্মে বিশ্বাসী ছিল আমার ছেলে। দেশকে নিয়ে অনেক ভাবতো। ছেলে আমাকে বলতো, আম্মা আমরা যদি দেশে ভালো কিছু রেখে যাই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটা অনুসরণ করবে।  তিনি আরো বলেন, সিনহা সবসময় ক্রিয়েটিভ কাজ করতে চাইতো, সবসময় সারপ্রাইজ দিতে চাইতো কাজের মাধ্যমে। ও বলতো, আমি আমার মনের খোরাকের জন্য কাজ করি যাতে মানুষ উপকৃত হয়।

সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজার পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার চায় রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। আজ দুপুরে সংগঠনটির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার এ দাবি জানান।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৮-১০ ০৩:৪২:৫৮

বিচার বহির্ভূত হত্যা যা সাধারণত ক্রসফায়ার নামে পরিচিত তার মানে অপরাধীর বিচার চাওয়ার বা পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করা। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও চেতনার পরিপন্থী এ এক ভয়ংকর হত্যাকান্ড। বিচার হীনতার সংস্কৃতির রূপায়ণে এ হত্যাকান্ড বিরাট ভূমিকা পালন করছে। ভীষণ অমানবিক ক্রসফায়ারে হত্যার সংস্কৃতির উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা ২০০১ সালের শেষের দিকে দেশের ক্ষমতায় আসীন হওয়া ততকালীন বিএনপি সরকার। তখন চুরিচামারি, হাইজ্যাক, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধ ভীষণবেপরোয়া রূপে বেড়ে গেলে বিএনপি সরকার অদ্ভুত ও অমানবিক বিচারহীন হত্যাকান্ড ক্রসফায়ারের জন্ম দেয়। যদিও তখন ক্রসফায়ার প্রয়োগে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের দমনে সফলতা পেয়ে দেশের মানুষের নিকট ক্রসফায়ার সমাদৃত হয়। কারণ, নগদ নারায়ণের প্রতি মানুষের আকাঙ্খা বেশি। প্রকৃতিগতভাবে অস্থির মানসিকতার ও অপরিনামদর্শী জনগণের সুদূরপ্রসারী ফলাফলের চিন্তা করার ফুরসত কোথায় ? কিন্তু, স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের দূরদৃষ্টি বা দূরদর্শিতা থাকবেনা তা কি করে হয় ? সেই ক্রসফায়ারের কুফল জাতি আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কতো মায়ের বুক খালি হলো, কতো অবুঝ সন্তান এতিম হলো তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রদীপের মতো-রা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে কতো বিশাল বিশাল অংকের বানিজ্য করেছে, কতো মানুষকে নিঃস্ব করা হয়েছে তারও কোনো হিসেব নেই। যদিও বিচার চাওয়ার ও পাওয়ার অধিকার প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। এখানে এই প্রশ্ন একেবারেই অবান্তর যে, অপরাধী সত্যিকার অপরাধী কিনা বা তার দ্বারা ক-তো-বড়ো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। মানবতা বিরোধী অপরাধ ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য, বর্বরোচিত ও জঘন্য অপরাধ। তবুও তাদেরকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়নি। বিচার চাওয়ার ও পাওয়ার অধিকার তাদের বেলায় অনুসরণ করা হয়েছে। তাহলে সাধারণ অপরাধীদের বেলায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে কোন যুক্তিতে তা বোধগম্য নয়। আল্লাহ তায়ালাও কেয়ামতের মাঠে কোনো অপরাধীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শাস্তি দেবেননা। সেই লক্ষ্যেই তিনি সব মানুষের প্রতি মুহূর্তের বড়ো ছোটো সকল কাজকর্মের রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখছেন। তিনি বলেন, "আমি প্রত্যেক মানুষের ভাগ্যলিপি তার গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি। কেয়ামতের দিন তার আমলনামার গ্রন্থটি আমি তার জন্য বের করে দেবো। সে দেখবে তার কর্মের রেকর্ড তার সামনে খোলা পড়ে আছে। আমি তাকে বলবো, পড়ো তোমার আপন কর্মের রেকর্ড। আজকে নিজের কাজের হিসেবের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।" সূরা বনী ইসরাইল। আয়াত- ১৩ ও ১৪। এরপর অপরাধীরা যখন আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করবে , তখন তাদের জবান বন্ধ করে দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তাদের মুখের উপর সীলমোহর মেরে দেবো, আজ তাদের হাতগুলো আমার সাথে কথা বলবে, তাদের পা-গুলো আমার কাছে সাক্ষ্য দেবে, তারা কি কাজ করে এসেছে।" সূরা ইয়াসিন। আয়াত-৬৫। অপরাধী অপরাধ করলেও তা যতক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করতে পারা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে শাস্তি দেয়াও কী অপরাধের মধ্যে পড়ে না ! ইসলামে ব্যাভিচারের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু, তাও প্রত্যক্ষ সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ সাপেক্ষ। এতো নির্লজ্জ ও নিন্দনীয় অপরাধ করলেও প্রমাণ করতে না পারলে সে দোষী সাব্যস্ত হবেনা এবং তার উপর কোনো শাস্তিও কার্যকর হবেনা। আল্লাহর আইনের স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা এখানেই নিহিত। অথচ আমরা মানুষকে তাদের নিরপরাধীতা প্রমাণ করতে দিতে চাইনা। এটা আমাদের দুর্বলতা। আমরা কেনো অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হয়ে অপরাধী দমন করতে বেশি আগ্রহী। মায়ের পেট থেকে অপরাধী হয়ে কারো জন্ম হয়নি। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কোনো অপরাধী তৈরী করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত। সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বা আমরা সংশোধন করতে না পেরে কাউকে হত্যা করতে থাকলে অপরাধীর সংখ্যা তো কমছেনা। পাপীকে নয়, পাপকেই আমাদের ঘৃণা করা উচিত।

Amnesty

২০২০-০৮-১০ ১৪:৫০:১৮

সবাই মনে হচ্ছে বিষয়টাকে গুলিয়ে ফেলছে। এটা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়, এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

Kazi

২০২০-০৮-১০ ০০:৪৫:২৩

বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধে অবিলম্বে সরকারের কড়া নির্দেশ জারি করা উচিত । যদিও সরকারী নির্দেশে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে না তবু সব দোষ সরকারের উপর বর্তাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারিরা সরকারের বাহিনী । অবিলম্বে বন্ধ না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। সন্ত্রাসি হত্যাকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করিও উচিত । এগুলি সুলক্ষণ নয়।

ম নাছিরউদ্দীন শাহ

২০২০-০৮-১০ ০০:৩১:২০

মর্মাহত শোকাহত সমগ্রজাতি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান পুলিশের আইজিপি সহ দেশের সকল আইন শৃংখলা বাহিনী। ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়ায় সাংবাদিক সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। আপনার সন্তান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় সন্তান সামনাসামনি বুকে গুলি নিয়ে অবসরের পরও সৈনিকের পোশাক কে শহীদি কাফন বানিয়েছিল বাংলাদেশের গর্ভ গর্ভধারণী মা আপনার আপনাকে ও সালাম। আপনার সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তোমাকে সালাম।আপনাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সান্ত্বনা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দিয়ে সান্ত্বনা সম্মান দিয়েছেন আমাদের মত কোটি কোটি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা সম্মান দোয়া অব‍্যাহত আছে ইনশাআল্লাহ থাকবে।

জিলানী, লন্ডন

২০২০-০৮-১০ ০০:২২:৩৩

মানুষ তার নিয়তনুসারে সব পায়, আমরা তা বিশ্বাস করি, সিনহার নিয়ত ছিল ভাল কিছু করার, দেশ ও জাতির জন্য ভাল কিছু রেখে যাওয়ার, আর তাই হল, আমি সিনহার জীবনের যত টুকু জানলাম ও পড়লাম, কেন জানি বার বার মহান দার্শনিক সক্যটীসের কথা মনে পড়ে। সিনহা একজন শহীদ দেশপ্রেমিক দার্শনিক।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

‘দক্ষ ও মানবিক মানব সম্পদ গড়বে ইউসেট ’

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে চালু হওয়া ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি– ইউসেটের দ্বিতীয় ...

ঋণ পরিশোধের সময় আরো বাড়লো

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

এসডিজি অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ

দেশে পুষ্টির উন্নয়নে সাত চ্যালেঞ্জ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত