হবিগঞ্জে প্রতারক আফজাল গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে

বাংলারজমিন ৪ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে গোপনে প্রবেশ করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় এক প্রতারককে আটক করেছে জেলা প্রশাসন। পরে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে মুচলেকা প্রদান করায় পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানের জিম্মায় তাকে মুক্তি প্রদান করে জেলা প্রশাসন। তবে সেখান থেকে মুক্তি পেলেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রতারক আফজলের। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পরই বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গোপনে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে প্রবেশ করে প্রতারক আফজাল হোসেন। বাংলোতে চেয়ারে বসে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে আফজাল। রাতেই বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের।
পরে তার নির্দেশে প্রতারক আফজালের মোবাইল ট্রেকিং করে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাকে ফোন করা হলে সে ভুয়া ঠিকানা প্রকাশ করে সে। আজ দুপুরে প্রশাসনের লোকজনের নেতৃত্বে কৌশলে প্রতারক আফজাল ও তার সহযোগীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। পরে ভুল স্বীকার করে মুচলেকা প্রদান করায় তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়।
এদিকে প্রতারক আফজাল আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সদর থানা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হন। আফজালের প্রতারণার শিকার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক লোক অবস্থান নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে। এরই মধ্যে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শায়েস্তানগর এলাকার ঠিকাদার মোহাম্মদ টিপু। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শহরে বড় ধরণের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক আফজাল। পরে তাকে গ্রেফতারের জন্য হবিগঞ্জ মডেল থানার ওসি মাসুক মিয়া ও ইনস্পেক্টর দৌস মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় আফজল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
  এদিকে আফজলের আটকের পর মুখ খুলতে শুরু করেন প্রতারণার শিকার লোকজন। অভিযোগে বেরিয়ে আসে তার প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল। দেশের বড় বড় মন্ত্রী, এমপি ও সরকারী-বেসরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিত আফজল। চাকুরী, বদলী, জামিনসহ বিভিন্ন তদবীরের নামে লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আফজল। সরকারের উপরের মহলের সাথে দহরম-মহরম রয়েছে এমন প্রচারণা চালাতো আফজল। তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস করেনি কেউ। অবশেষে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আটকের পর কয়েক ডজন প্রতারণার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। প্রতারক শাহ আফজল হোসেন সদর উপজেলার আউশপাড়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

মাধবপুরে পুকুরে পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে গিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২সেপ্টেম্বর) ...

গফরগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে যুবক হত্যা

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে অজ্ঞাতনামা এক যুবক (২৫) কে হত্যা করেছে একদল ...

কক্সবাজারে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্বশুর খুন

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীতে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন শ্বশুর  নুর কবির (৪৫)। ঘটনায় ছুরিকাহত শাশুড়ি নুর ...

জগন্নাথপুরে তরুণীর নগ্ন ছবি তুলে টাকা দাবি, যুবক গ্রেপ্তার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক তরুণী কে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মুঠোফোনে নগ্ন ছবি তুলে ...

ছাগলনাইয়ায় অপহৃত শিশু সোনাগাজী থেকে উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে অপহৃত ৩ মাসের শিশু জুনাঈদকে সোনাগাজী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের ১৮ ...

এমপি ছোট মনি করোনায় আক্রান্ত

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রার্থী হচ্ছেন না শাহীন

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত